hsc

পানির উৎস ও বণ্টন (পাঠ-১)

ভূগোল ১ম পত্র - ভূগোল - এইচএসসি | NCTB BOOK

1.2k

(Source and Distribution of Water)

পৃথিবীপৃষ্ঠের মোট আয়তন ৫১০ মিলিয়ন বর্গ কিলোমিটার (১৯৭ মিলিয়ন বর্গ মাইল)। এর মধ্যে সমুদ্রের আয়তন প্রায় ৩৬১ মিলিয়ন বর্গ কিলোমিটার যা পৃথিবীপৃষ্ঠের মোট আয়তনের শতকরা ৭০.৮ ভাগ। মহাসাগরগুলো আমাদের গ্রহের প্রায় শতকরা ৯৭ ভাগ পানি ধারণ করছে।

পৃথিবীপৃষ্ঠে সমুদ্র ও মহাদেশগুলো ছড়িয়ে রয়েছে। উত্তর গোলার্ধের মোট আয়তনের শতকরা ৩৯ ভাগ স্থল ও ৬১ ভাগ জল আর দক্ষিণ গোলার্ধের শতকরা ১৯ ভাগ স্থল ও ৮১ ভাগ জল। অর্থাৎ দক্ষিণ গোলার্ধে স্থলভাগের পরিমাণ উত্তর গোলার্ধের স্থলভাগের দ্বিগুণেরও অধিক। মহাদেশীয় অংশের ঠিক উল্টো দিকেই রয়েছে সমুদ্রাঞ্চল। অধিকাংশ ভূভাগ যেহেতু (৬৭%) উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত, এ গোলার্ধকে স্থল গোলার্ধ বললে দক্ষিণ গোলার্ধকে জল গোলার্ধ বলা যেতে পারে। উল্লেখ্য ৪০০ থেকে ৬৫° দক্ষিণ অক্ষাংশ পর্যন্ত সমুদ্র পৃথিবীপৃষ্ঠের শতকরা ৮১ ভাগ স্থান দখল করে রয়েছে। পৃথিবীর বুকে সমুদ্র পানির সর্ববৃহৎ আধার বা উৎস হলেও এর আরও অনেক উৎস রয়েছে। উৎস অনুসারে পৃথিবীর জলরাশিকে ৮টি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। যথা-

১. সহজাত পানি (Connate water): পাললিক শিলা সৃষ্টির সময় শিলার মধ্যে যে সামান্য পানি থেকে যায় তাকে সহজাত পানি বলা হয়। পলল ভূমির মাটিতে এই ধরনের পানি অবস্থান করে।
২. উৎসারিত পানি (Juvenile or Magmatic water): ভূপৃষ্ঠের নিচে ম্যাগমা জাতীয় পদার্থের সাথে বাষ্পকণা ঘনীভূত হয়ে এই ধরনের পানি সৃষ্টি করে। এটি পানিচক্রের ক্ষেত্রে তেমন কোনো ভূমিকা পালন করে না।
৩. ঘনীভূত পানি (Condensed water): কোনো শিলার ভেতরকার বায়ু অপেক্ষা বায়ুমন্ডলের জলীয়বাষ্পের চাপ বেশি হলে জলীয়বাষ্প শিলার ছিদ্রের মধ্যে প্রবেশ করে। জলীয়বাষ্প নিম্ন তাপমাত্রা সম্পন্ন শিলার সংস্পর্শে এসে হঠাৎ করে ঘনীভূত হয়ে থাকে। এই পানিকে ঘনীভূত পানি বলে।
৪. সামুদ্রিক পানি (Oceanic water): পৃথিবীর শতকরা ৯৭ ভাগ পানি সমুদ্রের মধ্যে অবস্থান করে। বাষ্পীভবনের ফলে সমুদ্রের পানি বায়ুমণ্ডলে এসে বর্ষণের মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠে পতিত হয়।
৫. ভূগর্ভস্থ পানি (Infiltrated water): পৃথিবীর শতকরা ০.৬৮ ভাগ পানি ভূগর্ভস্থ পানি। অনুপ্রবিষ্ট পানি ভূগর্ভস্থ পানির প্রধান উৎস। বৃষ্টিপাতের মাধ্যমে আকাশের মেঘ থেকে পানি ফোঁটাকারে ভূপৃষ্ঠে পতিত হয়। এই বৃষ্টির পানির কিছু অংশ মাটিতে অনুপ্রবেশ করে।
৬. বরফ ও হিমবাহ (Ice Caps and Glaciers): মেরু ও উচ্চ পর্বতে বরফ ও হিমবাহ আকারে পানি থাকে। পৃথিবীর শতকরা ২.০৫ ভাগ পানি হিমবাহ ও বরফ রূপে অবস্থান করছে। এই বরফের শতকরা ৯০ ভাগ এন্টার্টিকা মহাদেশে সঞ্চিত রয়েছে।
৭. নদী ও হ্রদের পানি (Rivers and Lakes water): পৃথিবীর শতকরা ০.২১ ভাগ পানি নদী ও হ্রদের পানি। আমাজান, নীল নদ, মিসিসিপি, গঙ্গা ইত্যাদি নদী ও কাম্পিয়ান সাগার, কৃষ্ণ সাগর, বৈকাল হ্রদ, ভিক্টোরিয়া হ্রদের মতো পৃথিবীর অসংখ্য নদী ও হ্রদ রয়েছে এই পানির ধারক হিসেবে।

৮. বায়ুমণ্ডলীয় মেঘ (Atmospheric cloud): আকাশে পানি মেঘ ও জলীয়বাষ্প আকারে অবস্থান করে।
অনুকূল পরিবেশে বৃষ্টিপাতের মাধ্যমে তা পৃথিবীতে ঝরে পড়ে।

পৃথিবীর ভূভাগের পানিআয়তন (মিলিয়ন ঘন কি.মি.)
স্বাদু পানি১০.৫৩
ভূপৃষ্ঠস্থ পানি৯.৫
বরফ২৪.৩৫
হ্রদের পানি০.১৩
নদী, বায়ুমণ্ডল, মৃত্তিকা ও জীবমণ্ডল০.০৮
মোট৪৪.৫৯

বারিমণ্ডল - ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এর লেখা বই

Content added || updated By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...