(Worldwide Production, Distribution and Economic Importance of Wheat)
বিশ্বের প্রধান গম উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে চীন, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, রাশিয়া, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, জার্মানি, পাকিস্তান, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, তুরস্ক, ইউক্রেন প্রভৃতি দেশ উল্লেখযোগ্য। বিশ্বের মোট উৎপাদিত গমের ৪৫% এশিয়ায়, ৩৩% ইউরোপে, ১১% উত্তর আমেরিকায়, ৪% দক্ষিণ আমেরিকায়, ৪% আফ্রিকায় এবং ৩% অস্ট্রেলিয়ায় উৎপাদিত হয়।
সারণি-৪.৩: মহাদেশভিত্তিক গম উৎপাদন (২০১৮)
| মহাদেশ | উৎপাদনের পরিমাণ (লক্ষ মেট্রিক টন) |
| ১. এশিয়া | ৩২৯৪ |
| ২. ইউরোপ | ২৪২১ |
| ৩. উত্তর আমেরিকা | ৮৩১ |
| ৪. আফ্রিকা | ২৯৩ |
| ৫. দক্ষিণ আমেরিকা | ২৭১ |
| ৬. অস্ট্রেলিয়া | ২১৩ |
| সমগ্র পৃথিবী | ৭৩২৩ |
উৎস: FAOSTAT. February, 2020
বিশ্বের প্রধান গম উৎপাদনকারী দেশ: বিশ্বের প্রধান, গম উৎপাদনকারী দেশসমূহ নিম্নরূপ:
১. চীন: পৃথিবীর শীর্ষ গম উৎপাদনকারী দেশ চীন। এদেশে শীত ও বসন্তকালীন উভয় প্রকার গম চাষ করা হয়। উত্তর চীনের সমভূমি, ইয়াংসী ও হোয়াংহো নদী অববাহিকা অঞ্চল, সিচুয়ান প্রদেশ প্রভৃতি চীনের প্রধান গম উৎপাদনকারী অঞ্চল। FAO এর তথ্যমতে, বিশ্বের মোট গম উৎপাদনের প্রায় ১৮% চীনে উৎপাদিত হয়।
২. ভারত: বিশ্বের অন্যতম প্রধান গম উৎপাদনকারী দেশ হচ্ছে ভারত। দেশটি গম উৎপাদনে ২য় স্থানের অধিকারী। ভারতের উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা, বিহার, মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রে ভালো গম উৎপাদিত হয়। ভারতে মূলত শীতকালীন গম বেশি উৎপন্ন হয়।
৩. রাশিয়া: দেশটি গম উৎপাদনে ৩য় স্থানে রয়েছে। রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলে বসন্তকালীন গম উৎপাদিত হয়। রাশিয়ার উৎপাদিত গম উৎকৃষ্ট মানের।
৪. যুক্তরাষ্ট্র: যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীর অন্যতম প্রধান গম উৎপাদক ও রপ্তানিকারক দেশ। গম উৎপাদনে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ৪র্থ। যুক্তরাষ্ট্রে শীত ও বসন্তকালীন গম উৎপাদিত হয়ে থাকে। দেশটির মধ্য ও উত্তরাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে গম উৎপাদন বেশি হয়।
৫. কানাডা: গম উৎপাদনে কানাডা বিশ্বে পঞ্চম। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে চাষাবাদ করায় কানাডায় গম উৎপাদন অনেক বেশি। কানাডার প্রেইরি, আলবার্টা, ম্যানিটোবা প্রভৃতি অঞ্চলে প্রচুর গম উৎপাদন হয়। কানাডার দক্ষিণ ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর অর্থাৎ উভয় দেশের সীমান্তবর্তী প্রেইরি অঞ্চলজুড়ে এতো বেশি গম উৎপাদিত হয় যে, এই অঞ্চলকে 'বিশ্বের বুটির ঝুড়ি' (Bread Basket of the world) বলা হয়।
সারণি-৪.৪: বিশ্বের গম উৎপাদনকারী দেশ (লক্ষ মেট্রিক টন, ২০১৮)
| দেশ | উৎপাদনের পরিমাণ | দেশ | উৎপাদনের পরিমাণ |
| ১. চীন | ১৩১৪ | ৬. পাকিস্তান | ২৫৯ |
| ২. ভারত | ৯৯৭ | ৭. ইউক্রেন | ২৪৭ |
| ৩. রাশিয়া | ৭২১ | ৯. তুরস্ক | ২০০ |
| ৪. যুক্তরাষ্ট্র | ৫১৩ | ৮. অস্ট্রেলিয়া | ২০৯ |
| ৫. কানাডা | ৩১৮ | ১০. ইরান | ২০৯ |
উৎস: FAO STAT. February, 2020
৬. পাকিস্তান: পাকিস্তান বিশ্বের ষষ্ঠ এবং এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম গম উৎপাদনকারী দেশ। পাঞ্জাব প্রদেশে সবচেয়ে বেশি গম উৎপন্ন হয়ে থাকে। পাকিস্তানের সিন্ধু ও
৭. ইউক্রেন: গম উৎপাদনে ইউক্রেন বিশ্বে সপ্তম স্থানের অধিকারী দেশ। দেশটির মধ্য ও দক্ষিণ মধ্যাঞ্চল গম চাষের জন্য প্রসিদ্ধ।
যা দেশ। দেশটির ি ৮. অস্ট্রেলিয়া: অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের অষ্টম গম উৎপাদনকারী দেশ। দেশটির ভিক্টোরিয়া, নিউসাউথ ওয়েলস প্রভৃতি প্রদেশে গম উৎপাদিত হয়।
৯. তুরস্ক: বর্তমানে গম উৎপাদনে তুরস্ক নবম স্থানে রয়েছে। তুরস্কের মানিসা, কনিয়া, ইকদির, দিয়ারবাকির, টোকাত প্রভৃতি প্রদেশে প্রচুর গম উৎপাদন হয়।
১০. ইরান: গম উৎপাদনে ইরান বিশ্বে দশম। ইরানের খুজেস্তান, গুলেস্তান, ফার্ম, ক্যারামন শাহ, কুদিস্তান প্রভৃতি প্রদেশে প্রচুর গম উৎপাদন হয়।

গমের অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও বিশ্ববাণিজ্য সমগ্র পৃথিবী জুড়ে গম প্রধান খাদ্যশস্য। ফলে এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব অনেক বেশি। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দানাদার শস্যের মধ্যে গম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে বর্তমান বিশ্বের মোট উৎপাদিত গমের প্রায় ১৬ শতাংশ বিশ্ববাজারে প্রবেশ করে। ২০১৭-১৮ সালে বিশ্বের দেশগুলো প্রায় ৩৯ বিলিয়ন ডলার মূল্যের গম- রপ্তানি এবং ৪১.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের গম আমদানি করে। সূত্র- United States Department of Agriculture-2018.
সারণি-৪.৫: প্রধান প্রধান দেশের গমের আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ (২০১৮)
| দেশ | রপ্তানির পরিমাণ (বিলিয়ন মার্কিন ডলার) | দেশ | আমদানির পরিমাণ (বিলিয়ন মার্কিন ডলার) |
| ১. রাশিয়া | ৮.৪ | ১. ইন্দোনেশিয়া | ২.৬ |
| ২. কানাডা | ৫.৭ | ২. মিশর | ২.২ |
| ৩. যুক্তরাষ্ট্র | ৫.৪ | ৩. আলেজেরিয়া | ১.৮৪ |
| ৪. ফ্রান্স | ৪.১ | ৪. ইতালি | ১.৮২ |
| ৫. অস্ট্রেলিয়া | ৩.১ | ৫. ফিলিপাইন | ১.৭ |
| ৬. আর্জেন্টিনা | ২.৫ | ৬. জাপান | ১.৬ |
| ৭. ইউক্রেন | ২.৪ | ৭. ব্রাজিল | ১.৫ |
| ৮. জার্মানি | ১.২ | ৮. স্পেন | ১.৩৩ |
| ৯. রোমানিয়া | ১.২ | ৯. তুরস্ক | ১.২৯ |
| ১০. কাজিকিস্তান | ০.৯৭ | ১০. মেক্সিকো | ১.১৭ |
(Source: WTE-2020)
রপ্তানিকারক দেশ: রাশিয়া, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, ইউক্রেন, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি প্রধান গম রপ্তানিকারক দেশ। দেশগুলো নিজেদের আভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিশ্ব বাজারে গম রপ্তানি করে থাকে।
আমদানিকারক দেশসমূহ: গম আমদানিকারক দেশগুলো অনিয়মিতভাবে বা অনির্ধারিতভাবে গম আমদানি করে
থাকে। যেমন- ভারত, পাকিস্তান, কিউবা প্রভৃতি দেশে গম আমদানির পরিমাণ বাড়ছে। আবার আলজেরিয়া, চীনে কমছে। ২০১৮ সালে প্রধান গম আমদানিকারক দেশের মধ্যে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, মিশর, আলজেরিয়া, ব্রাজিল, জাপান, বাংলাদেশ, ইতালি, স্পেন, তুরস্ক, মেক্সিকো প্রভৃতি দেশ। বিশ্ব বাণিজ্যে গমের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সাধারণত উন্নত দেশগুলো গম রপ্তানি করে। অন্যদিকে, উন্নয়নশীল দেশগুলো তা আমদানি করে।
পরিশেষে বলা যায়, গমের রপ্তানি মূল্য অন্যান্য খাদ্যশস্য অপেক্ষা অধিক হওয়ায় উৎপাদনকারী দেশগুলো (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য) অনেক ক্ষেত্রে গমকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। আজ পর্যন্ত গম চাষের ওপর যত গবেষণা হয়েছে ততটুকু অন্য কোনো ফসলের জন্য হয়নি। খাদ্যমান বেশি থাকায় বিশ্বে গমের জনপ্রিয়তা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছেl
কৃষি (Agriculture)-ড. হ জ ম হাসিবুশ শাহীদ-স্যারে লেখা বই
Read more