hsc

পাঠ-৮: ব্যবহারিক: তাপমান যন্ত্র

ভূগোল ১ম পত্র - ভূগোল - এইচএসসি | NCTB BOOK

1.1k

(Thermometer)

বায়ুমণ্ডলের তাপের তীব্রতাকে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বলে। বায়ুর গরম বা ঠাণ্ডা অবস্থার মাত্রাই তাপমাত্রা। এই তাপমাত্রা মাপক যন্ত্রের নাম থার্মোমিটার (Thermometer) বা তাপমান যন্ত্র।

তাপমাত্রা নির্ণয় (Determination of Temperature):
তাপমাত্রার পরিমাণ নির্ণয় করার যন্ত্রকে থার্মোমিটার বা তাপমান যন্ত্র বলে। এ যন্ত্রে সূক্ষ্ম ছিদ্রযুক্ত কাচের নলের একদিকে একটি কুন্ড (Bulb) থাকে। ঐ নল হতে বায়ু বের করে কিছু অংশ পারদ ভর্তি করার পর খোলা মুখ বন্ধ করা হয়। ফুটন্ত পানির বাষ্পে কুণ্ডটি রাখলে পারদ যে পর্যন্ত প্রসারিত হয় তাকে স্ফুটনাঙ্ক (Boiling point) বলে। আবার বরফের গুঁড়ার মধ্যে কুণ্ডটি রাখলে পারদ যে পর্যন্ত সংকুচিত হয় তাকে হিমাঙ্ক (Freezing point) বলে। উভয় দিকে এ দুই পরিমাপে দাগ কাটা হয়। অতঃপর এ দূরত্বকে দুই প্রকারের স্কেলে ভাগ করা হয়।

১. ফারেনহাইট তাপমান যন্ত্র (Fahrenheit Thermometer): এ যন্ত্রে হিমাঙ্ক ° হতে স্ফুটনাঙ্ক ° ধরা
হয়। সুতরাং হিমাঙ্ক হতে স্ফুটনাঙ্ক পর্যন্ত ১৮০° কে ১৮০ ভাগে ভাগ করা হয় এবং এর প্রত্যেক ভাগকে এক ডিগ্রি বলা হয়।

২. সেন্টিগ্রেড তাপমান যন্ত্র (Centigrade Thermometer): সেন্টিগ্রেড থার্মোমিটারের স্কেলে হিমাঙ্ক ° হতে স্ফুটনাঙ্ক ° ধরে ১০০ ভাগে ভাগ করা হয় এবং এর প্রত্যেক ভাগকে এক ডিগ্রি বলা হয়।

গরিষ্ঠ ও লঘিষ্ঠ তাপমান যন্ত্র (Maximum and Minimum Thermometer): এরূপ তাপমান যন্ত্রে লঘিষ্ঠ
(minimum) ও গরিষ্ঠ (maximum) তাপমাত্রা নির্ণয়ের ব্যবস্থা আছে। এর দুইটি বাহু এবং প্রত্যেক বাহুতেই একটি করে কাঁটা (indicator) আছে। এক বাহুর কাঁটার পরিমাপ তাপমাত্রা কমলে আর নিচে নামে না। তখন সেটা দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা নির্দেশ করে। অপর বাহুর কাঁটা উত্তাপ কমলে নিচে নামে কিন্তু উত্তাপ বাড়লে আর ওপরে উঠে না। এ কাঁটাটি দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নির্দেশ করে। বায়ুর তাপমাত্রা সাধারণত সেলসিয়াস তাপমানে (measure) ধরা হয়। প্রতিদিনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপকে যোগ করে তাকে ২ দিয়ে ভাগ করলে দৈনিক গড় তাপমাত্রা পাওয়া যায়। কোনো মাসের প্রতিদিনের গড় তাপমাত্রা যোগ করে উক্ত মাসের দিন সংখ্যা দিয়ে ভাগ করে মাসিক গড় তাপমাত্রা পাওয়া যায়।
অনুরূপভাবে বছরের ১২ মাসের গড় তাপমাত্রাকে ১২ দিয়ে ভাগ করলে বার্ষিক গড় তাপমাত্রা পাওয়া যায়।
কোনো অঞ্চলের উষ্ণতম ও শীতলতম মাসের গড় উত্তাপকে বিয়োগ করলে উত্তাপের যে পার্থক্য হয় তাকে উষ্ণতার প্রসার (Range of temperature) বলে। সাধারণত জানুয়ারি ও জুলাই মাসের গড় উত্তাপ থেকে উষ্ণতার প্রসার নির্ণয় করা হয়। নিচে ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলের সারা বছরের তাপের একটি গড় চিত্র দেওয়া হলো।

মাসজা.ফে.মা.এ.মে.জু.জুলা.আ.সে.অ.ন.ডি.মোট

বার্ষিক

গড়

উষ্ণতার প্রসার

উত্তাপ

(°সে.)

১৯.৬২২.০২৭.১৩০.১৩০.৪২৯.৯২৮.৯২৮.৭২৮.৯২৭.৬২৩.৪১৯.৭৩১৬.৩২৬.৩৯.৩

এ থেকে দেখা যায় সেখানকার মোট তাপ হলো ৩১৬.৩° সেলসিয়াস। একে বারো দিয়ে ভাগ করলে বার্ষিক গড় তাপ হার

২৬.৩° সেলসিয়াস। এখানে উষ্ণতার প্রসার হয় .°-.° = .° সেলসিয়াস।

জলবায়ু অঞ্চল ও জলবায়ু পরিবর্তন-ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান স্যার এর লেখা বই

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...