hsc

পাঠ-১: মানচিত্র অভিক্ষেপের ধারণা

ভূগোল ২য় পত্র - ভূগোল - এইচএসসি | NCTB BOOK

14

(Concept of Map Projection)

পৃথিবীর উপরিভাগ সর্বত্র সমতল নয়। কোথাও উচু, কোথাও নিচু, এরূপ অসমতল উপরিভাগ কেবল বক্রতল বিশিষ্ট ভূগোলকের উপরই উপস্থাপিত করা যায়। পৃথিবী গোলাকার বিধায় সমতল কাগজে পৃথিবীর আংশিক বা সম্পূর্ণ মানচিত্র অঙ্কন খুবই কঠিন। তাই পৃথিবীর বা তার অংশবিশেষের মানচিত্র সঠিকভাবে অঙ্কন করার জন্য অভিক্ষেপের প্রয়োজন হয়। অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখা ছাড়া পৃথিবীর কোনো অংশের মানচিত্রই সঠিকভাবে অঙ্কন সম্ভব নয়। এ রেখাগুলো সমতল কাগজের উপর সঠিকভাবে অঙ্কন করতে পারলেই পৃথিবীর যেকোনো অংশের মানচিত্র অঙ্কন করা যায়। তাই কোনো সমতল কাগজের ওপর সমগ্র পৃথিবী বা এর কোনো অংশের মানচিত্র অঙ্কন করার জন্য নির্দিষ্ট স্কেলে অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখাগুলো জালের ন্যায় ছকে প্রকাশ করা হয়। এই ছককেই অভিক্ষেপ বলে। অর্থাৎ সমতল ক্ষেত্রের উপর পৃথিবী বা তার অংশবিশেষের মানচিত্র অংকনের জন্য নির্দিষ্ট স্কেল ও পদ্ধতিতে অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখা দ্বারা সৃষ্ট জালের ন্যায় বিন্যস্ত ছককে অভিক্ষেপ বলা হয়।

ভূগোলক (Globe) হচ্ছে পৃথিবীর অবিকল আকৃতি বুঝানোর উপযুক্ত ক্ষুদ্রাকৃতি গোলক। একে অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখা দ্বারা কতিপয় ভাগে বিভক্ত করা হয়। অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখা দ্বারা সৃষ্ট জালের ন্যায় বিন্যস্ত এরূপ ছককে এক কথায় গ্রাটিকুল বা গ্রিড বলে। সুতরাং মানচিত্র অভিক্ষেপ বলতে কোনো সমতলের উপর সৃষ্ট গ্রাটিকুলকেই বুঝায়। অভিক্ষেপের প্রধান বৈশিষ্ট্য তিনটি

ক. অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার সাহায্যে অভিক্ষেপ অঙ্কন করা হয়;
খ. পৃথিবীর আয়তন আনুপাতিক হারে হ্রাস করে অর্থাৎ নির্দিষ্ট স্কেলে অভিক্ষেপ অঙ্কন করা হয়;
গ. সমতলের উপর অভিক্ষেপ অঙ্কন করা হয়।

অভিক্ষেপের ব্যবহার: সমগ্র পৃথিবী বা এর কোনো অংশের মানচিত্র আপেক্ষিক সঠিকতার সাথে অঙ্কন করার জন্য মানচিত্র অভিক্ষেপ ব্যবহৃত হয়। একটি মাত্র অভিক্ষেপে সমগ্র পৃথিবীর মানচিত্র অঙ্কন করলে স্থানভেদে বিভিন্ন দেশের আকৃতির বিকৃতি হয়। এ ত্রুটি মুক্ত করার জন্য বিভিন্ন সময় উদ্দেশ্যভিত্তিক মানচিত্র অভিক্ষেপ আবিষ্কৃত হয়েছে।

মানচিত্র অভিক্ষেপের শ্রেণিবিন্যাস (Classification of Map projections): যে যে কাজের জন্য মানচিত্র প্রয়োজন
তার উদ্দেশ্যের উপর নির্ভর করে অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখাগুলোকে ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে যথোপযুক্তরূপে সজ্জিত করা হয়। ফলে বিভিন্ন প্রকার অভিক্ষেপ প্রচলিত। গঠনগত পদ্ধতি, ভাঁজ খুলে প্রকাশমান উপরিতল, অন্তর্নিহিত বৈশিষ্ট্য, স্পর্শক তলের অবস্থান, দৃষ্টিবিন্দু বা আলোকের অবস্থান, জ্যামিতিক আকৃতি প্রভৃতি বিবেচনা করে অভিক্ষেপগুলোর শ্রেণিবিভাগ করা হয়। কাঁচ, প্লাস্টিক, বা অনুরূপ অপর কোনো স্বচ্ছ পদার্থ দ্বারা সৃষ্ট ভূগোলকের মধ্যে আলো জ্বালিয়ে ভূগোলককে একখণ্ড কাগজ দ্বারা ঢেকে দেয়া হলে অবশ্যই কাগজের উপর কৃত্রিম অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার ছায়া পতিত হবে আর এ ছায়া রেখাগুলোই হবে ভূগোলকের অভিক্ষেপ। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে সম্পূর্ণ কাগজটি ভূগোলকের উপর সম্পূর্ণরূপে ভাঁজ ব্যতীত স্থাপন করা সম্ভব নয়। কাগজটিতে বিভিন্ন অবস্থানে অক্ষরেখা স্থাপন করতে হয়। এ কারণে বিভিন্ন অবস্থানে অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখাগুলোর ছায়া বিভিন্ন ধরনের হয়। ভূগোলকের উপর কাগজকে তিনভাবে স্থাপন করা যায়। এ বিবেচনায় অভিক্ষেপ তিন প্রকারের হয়ে থাকে। যেমন-

ক. বেলন অভিক্ষেপ (Cylindrical projection) বেলনাকার তলের উপর
খ. শাঙ্কব অভিক্ষেপ (Conical projection) মোচাকৃতি তলের উপর
গ. শীর্ষদেশীয় অভিক্ষেপ (Zenithal projection) সমতল উপরিভাগের উপর।
উপরোক্ত তিন প্রকার অভিক্ষেপ ছাড়াও বিভিন্ন প্রকার ব্যবহারসিদ্ধ অভিক্ষেপের প্রচলন আছে। (রউফ ও মাহমুদ, ২০১০)

মানচিত্র অভিক্ষেপ- মোহা: আনিছুর রহমান ও মোঃ আব্দুর রাজ্জাক-স্যারে লেখা বই

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...