(Factors of Wheat Production)
গম এক প্রকার দানাদার খাদ্যশস্য, যা পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষের প্রধান খাবার। প্রাচীনকাল থেকে এর বিভিন্নমূখী ব্যবহার চলে আসছে। গম গ্রামিনি গোত্রভূক্ত তৃণজাতীয় উদ্ভিদ। গমের বৈজ্ঞানিক নাম Triticum aestivum। এর প্রধান জাতগুলোর আদিভূমি পাকিস্তান, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল এবং উত্তর আমেরিকা। পরবর্তীকালে এসমস্ত অঞ্চল থেকে গম সারাবিশ্বে বিস্তার লাভ করেছে।
গম উৎপাদনের নিয়ামকসমূহ: গম উৎপাদনে বেশ কিছু নিয়ামক বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেগুলো হলো:
ক. প্রাকৃতিক নিয়ামক: গম উৎপাদনের প্রাকৃতিক নিয়ামকসমূহ নিম্নরূপ:
১. জলবায়ু গম মূলত নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের শস্য। গম চাষের আদর্শ তাপমাত্রা হচ্ছে ১৫০-২০°সে.। শস্যটি চাষের প্রাথমিক অবস্থায় তাপমাত্রা কম (১৮০°সে.) এবং ফসল পাকার সময় বেশি তাপমাত্রা (২২°সে.) থাকা প্রয়োজন। গম চাষের জন্য অবস্থান অনুসারে বার্ষিক গড়ে ৩০ থেকে ১০০ সে.মি. বৃষ্টিপাত প্রয়োজন। যেমন- উত্তর আমেরিকার প্রেইরি, রাশিয়া।
২. মৃত্তিকা: কর্দমময় দোআঁশ মৃত্তিকা গম চাষের জন্য সর্বোৎকৃষ্ট। লাভাগঠিত এবং লোয়েস মৃত্তিকাতেও গম চাষ ভালো হয়।
৩. ভূপ্রকৃতি: সমতল ভূমি গম চাষের জন্য উপযোগী। সহজে পানি সরে যেতে পারে এমন সমতল ভূমি গম চাষের জন্য সর্বোৎকৃষ্ট। যেমন- বাংলাদেশের প্লাবন সমভূমি।
খ. আর্থ-সামাজিক নিয়ামক: গম চাষের জন্য আর্থ-সামাজিক নিয়ামকসমূহ নিম্নরূপ:
১. খাদ্যাভ্যাস: বিশ্বের নাতিশীতোষ্ণ ও শীতপ্রধান অঞ্চলের এক বিরাট জনগোষ্ঠীর প্রধান খাদ্য গম। বিশ্বের যেসব অঞ্চলে গমের চাহিদা আছে, সেখানে গমের চাষ বেশি হয়। যেমন- যুক্তরাষ্ট্র।
২. জনবসতি: জনবসতির ঘনত্ব কম হলে অধিক চাষের জমি পাওয়া যায়। ফলে গম চাষ ভালো হয়। জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি হলে জমি খণ্ড খণ্ড হয়ে যাওয়ায় গম উৎপাদন ভালো হয় না।
৩. কৃষি উপকরণ: বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ব্যাপক এলাকায় গম চাষের জন্য আধুনিক ও উন্নত কৃষি উপকরণ-যেমন: ট্রাক্টর, হার্ভেস্টর প্রভৃতি প্রয়োজন।
৪. নগদ অর্থ: উন্নত বীজ, সার, কীটনাশক, যান্ত্রিক পদ্ধতির চাষাবাদ, সেচ প্রভৃতি ব্যয় নির্বাহের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হয়। এ কারণে অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল দেশসমূহে গম চাষের প্রসার বেশি হয়। যেমন- চীন, রাশিয়া।
৫. সংরক্ষণ সুবিধা: চাল অপেক্ষা গম দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়। কার্যকর ও আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের গম চাষকে প্রভাবিত করে।
৬. রপ্তানির সুযোগ: খাদ্যশস্যের মধ্যে গমের রপ্তানি বাণিজ্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বার্ষিক মোট উৎপাদিত গমের ১৫%-২০% বিশ্ব বাজারে প্রবেশ করে। রপ্তানির এ সুযোগ গ্রহণ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, রাশিয়া, প্রভৃতি দেশ অধিক পরিমাণ গম উৎপাদন করে থাকে।
৭. সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা: বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গম চাষ করতে হলে রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা আবশ্যক। ফলে প্রয়োজনের সময় ভর্তুকি প্রদান করে গমের উৎপাদন অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়।
কৃষি (Agriculture)-ড. হ জ ম হাসিবুশ শাহীদ-স্যারে লেখা বই
Read more