(Causes of Air Pollution)
কার্বন ডাইঅক্সাইড : শিল্প-কারখানা, বিভিন্ন ধরনের চুল্লি (যেমন- ইটভাটা) ও মোটরযান হতে কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গত হয়। জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, লিগনাইট, প্রাকৃতিক গ্যাস) দহনের জন্য সারা বছর পৃথিবীতে টনের অধিক কার্বন ডাইঅক্সাইড উৎপন্ন হয়। অন্যদিকে গাছপালা হ্রাস পাওয়ায় বাতাসে কার্বনডাইঅক্সাইডের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।
নাইট্রোজেনের অক্সাইডসমূহ: মোটরযান, শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র, প্লাস্টিক, এসিড ও বিস্ফোরক নির্মাণকারী কারখানাসহ বিভিন্ন কারখানায় নাইট্রোজেন জারিত হয়ে (শিল্পের উপজাত হিসেবে) বিভিন্ন প্রকার অক্সাইড তৈরি করে। বর্তমানে পরিবেশে এর উপস্থিতি ব্যাপক ও এর ক্ষতির মাত্রাও বেশি।
সালফার ডাই-অক্সাইড শিল্প-কারখানা ও শক্তি উৎপাদক কেন্দ্র থেকে এ গ্যাস বের হয় ও বাতাসে মিশে যায়। এ গ্যাসের সাথে আরও অনেক কিছু মিশে থাকে। যেমন- সীসা, তামা, জিংক, ক্যালসিয়াম ইত্যাদি ভারি ধাতু, হাইড্রোজেন সালফাইড, হাইড্রোক্লোরিক এসিড, নাইট্রোজেন অক্সাইড, হাইড্রোকার্বন ও ৩, ৪ বেনজোপাইরিন। এগুলো মিলে ধোঁয়া সৃষ্টি হয়।
ক্লোরো-ফ্লুরোকার্বন (CFC): CFC হলো কার্বন, ফ্লোরিন ও ক্লোরিনের একটি উদ্বায়ী (Volatile) যৌগ। এটি রেফ্রিজারেটর, এয়ারকন্ডিশনার, প্লাস্টিক ও রং তৈরির কারখানা হতে নির্গত হয়। CFC ওজোন স্তরকে ধ্বংস করছে। ১ অণু CFC গ্যাস ২০০০ ওজোন অণুকে (তাপমাত্রা ভেদে) ধ্বংস করতে পারে।
ভারি ধাতু: পারদ, সীসা, ক্যাডমিয়াম, দস্তা, ক্রোমিয়াম, নিকেল প্রভৃতি ভারি ধাতু। এই ভারি ধাতুগুলো শিল্প-কারখানা, মোটরযান ও মানুষের বিভিন্ন কর্মকান্ডে (যেমন- যত্রতত্র আবর্জনা নিক্ষেপ) প্রকৃতিতে অধিক ছড়ায়।
তেজস্ক্রিয় পদার্থ: তেজস্ক্রিয় পদার্থ পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র অথবা পারমাণবিক বিস্ফোরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা, ইত্যাদি থেকে উপজাত হিসেবে নির্গত হয় এবং বায়ুদূষণ ঘটায়।
কীটনাশক, আগাছা ও ছত্রাক নাশক ওষুধ প্রয়োগ: কৃষিক্ষেত্রে অতিরিক্ত কীটনাশক, আগাছা নাশক ও ছত্রাক নাশক ব্যবহার করে মানুষ পরিবেশ দূষণ করছে। ডিডিটি, এলড্রিন, ক্লোরডেন, হেপ্টাস্ফোর, আনসার ইত্যাদি ওষুধ পৃথিবীর সব দেশেই কম-বেশি ব্যবহার হচ্ছে, যা আজ পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।
বায়ুদূষণ রোধের উপায় (Measures to prevent Air Pollution)
১. চার স্ট্রোক ইঞ্জিন ব্যবহার: দুই স্ট্রোক ইঞ্জিনের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং চার স্ট্রোক ইঞ্জিনের ধোঁয়া পরিশোধনের ব্যবস্থা করা।
১. প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার: খনিজ তেলের পরিবর্তে মোটরযানে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করা।
২. শিল্প কারখানা দূরে স্থাপন: শিল্প-কারখানা, ইটের ভাটা লোকালয় থেকে দূরে স্থাপন করা।
৩. সিএফসির ব্যবহার কমানো: ওজোন স্তর ক্ষয়কারী সিএফসি গ্যাস ব্যবহার না করে বিভিন্ন যন্ত্রাংশে বিকল্প হিসেবে তরল পেট্রোলিয়াম ব্যবহার করা।
৪. গণসচেতনতা সৃষ্টি: ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে নিয়মিত প্রচার করা যাতে বায়ুদূষণ বিষয়ে প্রত্যেকে সচেতন থাকে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করে। পাঠ্যবইয়ে এটা গুরুত্বের সাথে উপস্থাপন করা।
৫. গাছ লাগানো: পর্যাপ্ত পরিমাণে গাছ লাগানো ও বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করা
জীবমণ্ডল - তাপস কুমার মজুমদার স্যার এর লেখা বই
Read more