hsc

পাঠ-১১: মানচিত্র সম্প্রসারণ ও সংকোচন

ভূগোল ১ম পত্র - ভূগোল - এইচএসসি | NCTB BOOK

15

(Map Expansion And Contraction)

অনেক সময় কোনো একটি নির্দিষ্ট স্কেলের মানচিত্রের আকার ও আয়তন বড় বা ছোট করার প্রয়োজন হয়। মানচিত্রকে এ ধরনের বড় ও ছোট করাই হচ্ছে যথাক্রমে মানচিত্রের সম্প্রসারণ ও সংকোচন।
মানচিত্রের সম্প্রসারণ ও সংকোচনের জন্য যেসব পদ্ধতি প্রচলিত আছে সেগুলোর মধ্যে নিচের তিনটি পদ্ধতি সচরাচর ব্যবহার করা হয়। যেমন-

(ক) ছক বা বর্গ পদ্ধতি (Graph or square method)
(খ) সম-ত্রিভুজ পদ্ধতি (Similar triangles method) এবং
(গ) যান্ত্রিক পদ্ধতি (Instrumental method)

ছোট ও বড় ছক বা বর্গ অঙ্কনের সাহায্যে মানচিত্র ছোট বা বড় করা হলে তাকে ছক বা বর্গ পদ্ধতি বলে। একই প্রকার ছোট বা বড় ত্রিভুজ অঙ্কন করে যখন মানচিত্রকে ছোট বা বড় করা হয় তখন তাকে সম-ত্রিভুজ পদ্ধতি বলে। আবার বিভিন্ন যন্ত্র যেমন- পেন্টোগ্রাফ (pentograph), এইডোগ্রাফ (eidograph) এবং ক্যামেরা (camera) ইত্যাদির সাহায্যে যখন মানচিত্রকে ছোট বা বড় করা হয় তখন তাকে যান্ত্রিক পদ্ধতি বলে।
হক বা বর্গ পদ্ধতির সাহায্যে মানচিত্রের সম্প্রসারণ ও সংকোচন
এ পদ্ধতিতে সর্বপ্রথম মানচিত্রকে নির্দিষ্ট মাপের বাহুবিশিষ্ট কতিপয় বর্গক্ষেত্রে বিভক্ত করা হয়। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন মানচিত্রের স্কেল অনুসারে অন্য কাগজে তুলনামূলকভাবে ক্ষুদ্র বা বৃহৎ আকৃতির বাহুবিশিষ্ট সমপরিমাণ বর্গক্ষেত্র অঙ্কন করা হয়। এ পদ্ধতিতে মানচিত্রের সম্প্রসারণ ও সংকোচন করতে হলে সর্বপ্রথম নির্ণয় করতে হয় মানচিত্রটিকে কতগুণ সম্প্রসারণ বা কতটুকু সংকোচন করতে হবে। নতুন মানচিত্রের স্কেলকে পুরাতন (মূল মানচিত্র) মানচিত্রের স্কেল দিয়ে ভাগ করলেই নতুন মানচিত্র কতগুণ বড় বা ছোট হবে তা পাওয়া যায়। যেমন,

সূত্র : নতুন মানচিত্রের স্কেল = সম্প্রসারণ অথবা সংকোচনের মান

পুরাতন মানচিত্রের স্কেল

মানচিত্রটিকে কতগুণ বড় বা ছোট করার প্রয়োজন তা বের করার পর; মানচিত্রের ওপর কতকগুলো বর্গক্ষেত্রের ছক অঙ্কন করে অপর একটি সাদা কাগজে যতগুণ বড় বা ছোট করার প্রয়োজন বর্গক্ষেত্রের প্রতিটি বাহুকে ঠিক ততটুকু বড় বা ছোট করে (ওপরের সূত্র থেকে প্রাপ্ত হিসাব অনুসারে) সমান সংখ্যক বর্গক্ষেত্র অঙ্কন করতে হয়'। এরপর সাদা কাগজে অঙ্কিত বর্গক্ষেত্রগুলোর মধ্যে নতুন মানচিত্রটি অঙ্কন করা হয়। এক্ষেত্রে পুরাতন মানচিত্রের যে অংশ বর্গক্ষেত্রের যে স্থান দিয়ে যেভাবে গেছে নতুন বর্গক্ষেত্রগুলোর মধ্য দিয়ে ঠিক সেভাবে অঙ্কন করলে নতুন মানচিত্রটি হুবহু অঙ্কিত হবে।

মানচিত্র সম্প্রসারণ ও সংকোচনের প্রয়োজনীয়তা:

  • প্রয়োজন অনুযায়ী একটি মানচিত্রের সীমারেখাকে বিভিন্ন সময় নতুন নতুন আকারে অঙ্কন করতে মানচিত্র সংকোচন ও প্রসারণের প্রয়োজন হয়।
  • নতুন মানচিত্র তৈরি করতে মানচিত্র সংকোচন ও প্রসারণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
  • জরিপ কাজের সময় অধিক বিষয় উপস্থাপন ও যথেষ্ট পরিসরে তথ্যাদি লেখার জন্য মানচিত্রের আকার বড় করা হয়।
  • মুদ্রণের জন্য মানচিত্রের আকৃতি ছোট করা হয়।

সুতরাং বলা যায়, মানচিত্রের উপযোগিতা বাড়ানোর জন্য মানচিত্রকে সংকুচিত ও প্রসারিত করা হয়।

ব্যবহারিক মানচিত্র ও স্কেল-কে. আশরাফুল আলম ও মো. শরিফুল ইসলাম স্যার এর লেখা বই

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...