(Production and Distribution of Textile Industries)
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বয়ন শিল্প সমৃদ্ধি লাভ করলেও এশিয়ার আর্দ্র জলবায়ুতে পোশাক তৈরির কাঁচামাল সুতা ছিড়ে না. যাওয়ায় এশিয়ার দেশগুলোতে এ শিল্পের অধিক প্রসার ঘটেছে। বস্ত্র উৎপাদনে প্রথম সারির দেশগুলোর মধ্যে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ব্রাজিল ও পাকিস্তান রয়েছে।
সারণি ৬.৩: বিশ্বের কার্পাস (তুলা) উৎপাদন-২০১৮-২০১৯ (হাজার মেট্রিক টন)
| দেশের নাম | পরিমাণ | দেশের নাম | পরিমাণ |
| ১. ভারত | ৫৭৭০ | ৬. তুরষ্ক | ৮০৬ |
| ২. যুক্তরাষ্ট্র | ৩৯৯৯ | ৭. উজবেকিস্তান | ৭১৩ |
| ৩. চীন | ৩৫০০ | ৮. অস্ট্রেলিয়া | ৪৭৯ |
| ৪. ব্রাজিল | ২৭৮৭ | ৯. তুর্কেমিনিস্তান | ১৯৮ |
| ৫. পাকিস্তান | ১৬৫৫ | ১০. কুরকিনা ফাসো | ১৮৫ |
Source: Statista.com, 2020
১. ভারত: ভারতে বার্ষিক ৫,৭৭০ হাজার মেট্রিক টন তুলা উৎপাদিত হয়। সুতি বস্ত্র উৎপাদনে ভারতের অবস্থান প্রথম। দেশীয় কাঁচামালের পর্যাপ্ততা, পানিবিদ্যুৎ শক্তির পর্যাপ্ততা, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজার, সুলভ শ্রমিক সরবরাহ প্রভৃতি এ শিল্পের উন্নয়নে সাহায্য করেছে। ভারতের সর্বত্রই বস্তু কলগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। দেশটির বয়ন শিল্পগুলো কলকাতা, হুগলি, হাওড়া, আহমেদাবাদ, মুম্বাই, লুধিয়ানা, বারোদা, রাজকোট, ভাবনগর, সুরাট, নাগপুর, কোলাপুর, দিল্লি, আসানসোল এবং গোয়ালিয়রে কেন্দ্রীভূত। অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পর এদেশ যথেষ্ট কাপড় বিদেশে রপ্তানি করে থাকে।
২. যুক্তরাষ্ট্র: সুতি বস্ত্র উৎপাদনে এদেশের স্থান বিশ্বে দ্বিতীয়। নিউ ইংল্যান্ড রাজ্যের রোড আইল্যান্ডে ১৭৯০ সালে এদেশের প্রথম বস্ত্র কলটি স্থাপিত হয়। এদেশ বছরে গড়ে ৩২৫ কোটি বর্গমিটার বস্ত্র উৎপাদন করে। মেইন, নিউ হ্যাম্পশায়ার, ভার্মন্ট, ম্যাসাচুসেটস, কানেকটিকাট, নিউইয়র্ক, পেনসিলভানিয়া, মেরিল্যান্ড, কলম্বিয়া প্রভৃতি স্থানে দেশের বস্ত্রকলগুলো কেন্দ্রীভূত হয়েছে। এদেশ থেকে প্রচুর বস্ত্রাদি মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোতে রপ্তানি করা হয়।
৩. চীন: এ শিল্পে চীন বিশ্বে তৃতীয়। দেশটিতে বছরে ৭৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের সুতি বস্ত্র উৎপাদিত হয়। স্থানীয় কাঁচা তুলা, সরকারি পরিকল্পনা ও পৃষ্ঠপোষকতা, ব্যাপক বিস্তৃত অভ্যন্তরীণ বাজার, দক্ষ ও সুলভ শ্রমিক সরবরাহ, শক্তি সম্পদের প্রাচুর্য, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত প্রভৃতি এদেশে বয়ন শিল্পের সমৃদ্ধির মূলে কাজ করে। সিকিয়াং, ইয়াং-সিকিয়াং ও হোয়াংহো নদীর উপত্যকার তুলা উৎপাদনকারী এলাকা জুড়ে দেশের বস্ত্র শিল্পগুলো বিস্তার লাভ'করেছে। চীনের সাংহাই এ শিল্পের জন্য সুপ্রসিদ্ধ। এ শিল্পের অন্যান্য কেন্দ্রগুলোর মধ্যে তিয়েনজিন, নানকিং, কিলডাও, হ্যালচাও, ওস্কি প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
৪. ব্রাজিল: তুলা উৎপাদনে ব্রাজিলের স্থান বিশ্বে চতুর্থ। দেশীয় তুলা, অভ্যন্তরীণ বাজার, দক্ষ শ্রমিক, সরকারি পরিকল্পনা ও উদ্যোগ প্রভৃতি এদেশে বয়ন শিল্পের সম্প্রসারণে সাহায্য করেছে। দেশটির শিজু, নিগ্রো নদী অববাহিকা অঞ্চলের আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চলে এ শিল্পের প্রসার ঘটেছে।
৫. পাকিস্তান: উন্নতমানের তুলা উৎপাদনে পাকিস্তান বিশ্বে পঞ্চম স্থানের অধিকারী। স্থানীয় তুলার উপর নির্ভর করে এখানে বস্ত্র শিল্প গড়ে উঠেছে। নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর দেশটি কিছু কাপড় রপ্তানি করে থাকে। করাচী, লাহোর, মূলতান, পেশোয়ার প্রভৃতি স্থানে এদেশের বয়ন শিল্পগুলো কেন্দ্রীভূত হয়েছে।
উপরিউক্ত দেশগুলো ছাড়াও বিশ্বের অন্যান্য দেশের মধ্যে উজবেকিস্তান, তুরস্ক, অস্ট্রেলিয়া, তুর্কেমিনিস্তান, মেক্সিকো প্রভৃতি দেশ কার্পাস তুলা উৎপাদনে ভূমিকা রাখছে। বস্ত্র শিল্পে বাংলাদেশ উন্নত হলেও এ শিল্পের কাঁচামাল (সুতা) উৎপাদনে দেশটি স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। বাংলাদেশ জাপান, কোরিয়া প্রভৃতি দেশ হতে সুতা আমদানি করতে থাকে। তাই আলোচনা থেকে বলা যায়, বস্ত্র শিল্প বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সমৃদ্ধিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।
খনিজ ও শক্তি সম্পদ-মো: আবদুল কুদ্দুস স্যারে লেখা বই
Read more