(The Major Energy Resources of the World)
যে তেল ভূগর্ভস্থ বিভিন্ন শিলাস্তর থেকে উত্তোলন করা হয় তাকে পেট্রোলিয়াম বা খনিজ তেল বলে। অতিসূক্ষ্ম সামুদ্রিক জীবের দেহাবশেষ পাললিক শিলাস্তরের নিচে দীর্ঘদিন চাপা পড়ে ভূপৃষ্ঠের চাপ, অভ্যন্তরীপ তাপ ও রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তিত হয়ে খনিজ তেল সৃষ্টি হয়। এ তেল সাধারণত হলদে সবুজ থেকে কালচে বাদামি রঙের হয়ে থাকে। খনিজ তেল বর্তমান বিশ্বের সর্বাধিক ব্যবহৃত শক্তি সম্পদ। দুই চাকার ছোট মোটরসাইকেল থেকে অতিকায় জাহাজে পর্যন্ত খনিজ তেল জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া কৃষি, শিল্প, পরিবহন, গৃহস্থালির দৈনন্দিন কাজ প্রভৃতি খনিজ তেল ছাড়া সম্পন্ন করা অনেকাংশেই অসম্ভব। এককথায় বলা যায় যে, বর্তমান সভ্যতা খনিজ তেল ছাড়া একদিনও চলতে পারে না।
খনিজ তেলের উৎপাদন ও বণ্টন
ব্যবহারগত দিক থেকে খনিজ তেল গুরুত্বপূর্ণ হলেও পৃথিবীর অল্প কিছু দেশে খনিজ তেল পাওয়া যায়। ধারণা করা হয় যে, পৃথিবীতে সঞ্চিত খনিজ তেলের পরিমান প্রায় ১৭২৯.৭ বিলিয়ন ব্যারেল। নিচের সারণিতে পৃথিবীর প্রধান কয়েকটি তেল সমৃদ্ধ দেশের নাম এবং মোট উৎপাদনের পরিমাণ দেওয়া হলো:
সারণি-৫.৩: সর্বোচ্চ খনিজ তেল উৎপাদনকারী দেশ ও উৎপাদনের পরিমাণ-২০১৮
| দেশের নাম | দৈনিক উৎপাদন (মিলিয়ন ব্যারেল) | রিজার্ভের পরিমাণ (বিলিয়ন ব্যারেল) |
| ১. যুক্তরাষ্ট্র | ১৫.৩১ | ৬১.২ |
| ২. সৌদি আরব | ১২.২৯ | ২৯৭.৭ |
| ৩. রাশিয়া | ১১.৪৪ | ১০৬.২ |
| ৪. কানাডা | ৫.২০ | ১৬৭.৮ |
| ৫. ইরান | ৪.৭১ | ১৫৫.৬ |
| ৬. ইরাক | ৪.৬১ | ১৪৭.২ |
| ৭. সংযুক্ত আরব আমিরাত | ৩.৯৪ | ৯৭.৮০ |
| ৮. চীন | ৩.৮০ | ২৫.৯ |
| ৮. চীন | ৩.০৫ | ১০১.৫০ |
| ১০. ব্রাজিল | ২.৬৮ | ১৩.৪ |
| ১১. মেক্সিকো | ২.০৭ | ৭.৭ |
| ১২. নাইজেরিয়া | ২.০৫ | ৩৭.৫ |
| ১৩. ভেনিজুয়েলা | ১.৫১ | ৩০৩.৩ |
| সমগ্র বিশ্ব | ৯৪.৭২ | ১৭২৯.৭ |
উৎস: BP Statistical Review of World Energy-2019.
চিন্তা করো: এপ্রিল ২০১০, যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের উপকূলে কূপের ব্লোআউট প্রিভেন্টার নষ্ট হওয়ায় গভীর পানির স্তরে (deepwater horizon) তেলখনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে মারা যায় ১১ জন। এতে দু'মাস ধরে বিরামহীন তেল নিঃসরণ হওয়ায় মার্কিন সরকার একে তেল মহামারী নামে আখ্যা দেয়।
খনিজ ও শক্তি সম্পদ-মো: আবদুল কুদ্দুস স্যারে লেখা বই
Read more