hsc

পাঠ-১৫: জোয়ার-ভাটা ও বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল

ভূগোল ১ম পত্র - ভূগোল - এইচএসসি | NCTB BOOK

6

(Ebb-Tide and Coastal Area of Bangladesh)

উপকূলবর্তী নদী বা খাঁড়িতে ঋতুভেদে নদীর পানির প্রবাহের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে জোয়ারের প্রভাবে বিরাট তারতম্য লক্ষ করা যায়। বাংলাদেশের উপকূলে জোয়ার-ভাটার পরিমাণ বেশ উল্লেখযোগ্য। জোয়ারের প্রভাব বাংলাদেশের উপকূলের খাঁড়ি থেকে বহুদূরে নদীর অভ্যন্তরে প্রায় গোয়ালন্দের নিকট পর্যন্ত পৌছে। শীত ঋতুতে নদীবাহিত পানির পরিমাণ গ্রীষ্ম ঋতুর তুলনায় অত্যন্ত কম। এজন্য শীত ঋতুতে জোয়ারের লবণাক্ত পানি নদীর অভ্যন্তরে বহুদূরে অগ্রসর হতে পারে। ফলে বহুদূর পর্যন্ত নদীর অভ্যন্তরে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করে মাঠের ফসল, গবাদি পশু ও শিল্পের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে থাকে।

বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের উপর জোয়ার-ভাটার যথেষ্ট প্রভাব আছে উপকূলবর্তী এলাকায় জোয়ার-ভাটার নিম্নের

প্রভাবসমূহ লক্ষ করা যায়:

১. জোয়ার-ভাটার মাধ্যমে ভূখণ্ড থেকে আবর্জনাসমূহ নদীর মধ্য দিয়ে সমুদ্রে পতিত হয়।
২. নদীর মোহনা পরিষ্কার থাকে। দৈনিক দুবার জোয়ার-ভাটা হওয়ার ফলে ভাটার টানে নদীর মোহনায় পলি ও আবর্জনা জমতে পারে না।
৩. জোয়ার-ভাটার ফলে সৃষ্ট স্রোতের সাহায্যে নদীখাত গভীর হয়।
৪. নদীতে (কর্ণফুলি) ভাটার স্রোতের বিপরীতে বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ (hydro-electricity) উৎপাদন করা হয়।
৫. জোয়ারের পানি নদীর মাধ্যমে সেচে সহায়তা করে এবং অনেক সময় খাল খনন করে জোয়ারের পানি আটকিয়ে সেচকার্যে ব্যবহার করা হয়।
৬. জোয়ার-ভাটার ফলে নৌযান চলাচলের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধা হয়। জোয়ারের সময় নদীর মোহনায় ও তার অভ্যন্তরে পানি অধিক হয় বলে বড় বড় সমুদ্রগামী জাহাজের পক্ষে নদীতে প্রবেশ করা সুবিধা হয়। আবার ভাটার টানে ঐ জাহাজ অনায়াসে সমুদ্রে নেমে আসতে পারে। বাংলাদেশের দুটি প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম ও মংলা এবং অন্যান্য উপকূলবর্তী নদীবন্দর সচল রাখতে জোয়ার-ভাটার ভূমিকা রয়েছে।
৭. অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে নদীতে জোয়ারের সময় বান ডাকার ফলে অনেক সময় নৌকা, লঞ্চ প্রভৃতি ডুবে যায়। এতে নদীর পার্শ্ববর্তী এলাকায় জানমালের ক্ষতি হয়।

এ অধ্যায়ের প্রধান শব্দভিত্তিক সারসংক্ষেপ

সমুদ্রস্রোতসমুদ্রের উপরপৃষ্ঠে নিয়মিত প্রবহমান পানি রাশিকে সমুদ্রস্রোত বলে। পৃথিবীর আবর্তনজনিত কারণ, আবহাওয়া ও জলবায়ু, বাষ্পীভবন, সমুদ্রের অভ্যন্তরীণ বৈশিষ্ট্যসমূহ যেমন-তাপমাত্রার পার্থক্য, লবণাক্ততার তারতম্য, ঘনত্বের তারতম্য, ঋতুভিত্তিক তারতম্য, ইত্যাদি কারণে সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি হয়।
মহাসাগরীয় স্রোতকুমেরু স্রোত, বেঙ্গুয়েলা স্রোত, উপসাগরীয় স্রোত, ক্যানারি স্রোত ইত্যাদি আটলান্টিক মহাসাগরের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি স্রোত। পশ্চিম অস্ট্রেলিয় স্রোত, সোমালি স্রোত, মৌসুমি স্রোত, আপুলহাস স্রোত ইত্যাদি ভারত মহাসাগরীয় কয়েকটি স্রোত।
অন্তঃস্রোতআন্তঃস্রোত সমুদ্রপৃষ্ঠের বেশ নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। নিরক্ষীয় অঞ্চলে সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেওয়ায় সেখানকার পানি উত্তপ্ত, আয়তনে প্রসারিত ও হালকা হয় এবং ঘনত্ব কমে যায়। অন্যদিকে, মেরু অঞ্চলে সূর্য তির্যকভাবে কিরণ দেওয়ায় সেখানকার পানির ঘনত্ব বেড়ে যায়। মেরু অঞ্চলের ভারি পানি অন্তঃস্রোত হিসেবে নিরক্ষীয় অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়ে সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি করে।
পৃষ্ঠস্রোতনিরক্ষীয় অঞ্চলে সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেওয়ায় সেখানকার পানি উত্তপ্ত, আয়তনে প্রসারিত হয় এবং ঘনত্ব কমে যায়। অন্যদিকে, মেরু অঞ্চলে সূর্য তির্যকভাবে কিরণ দেওয়ায় সেখানকার পানির ঘনত্ব বেড়ে যায়। ফলে উত্তপ্ত পানি পৃষ্ঠস্রোত হিসেবে মেরু অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়ে সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি করে।
জোয়ার-ভাটাজোয়ার-ভাটা সমুদ্রের একটি পরিচিত বৈশিষ্ট্য। সাধারণত মহাকর্যের প্রভাব ও কেন্দ্রাভিমুখী শক্তির কারণে জোয়ার-ভাটার সৃষ্টি হয়। জোয়ার-ভাটাকে মুখ্য জোয়ার, গৌণ জোয়ার, ভরা কটাল ও মরা কটাল মূলত এই চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়।
কেন্দ্রাভিমুখী শক্তিকেন্দ্রাভিমুখী শক্তির প্রভাবে জোয়ার-ভাটার সৃষ্টি হতে পারে। পৃথিবী তার অক্ষ বা মেরুদণ্ডের ওপর চারদিকে দ্রুত বেগে ঘোরে। এ ঘূর্ণায়মান গতির ফলে ভূপৃষ্ঠ হতে তরল পানিরাশি চতুর্দিকে নিক্ষিপ্ত হওয়ার প্রবণতা লাভ করে। একেই কেন্দ্রাভিমুখী শক্তি বলে। চাঁদের আকর্ষণের কারণে পৃথিবীর যে অংশে মুখ্য জোয়ার হয়, ঠিক তার বিপরীত দিকে কেন্দ্রাভিমুখী শক্তির প্রভাবে গৌণ জোয়ার হয়।
মুখ্য জোয়ারপৃথিবীর আবর্তনকালে যে অংশ চাঁদের সামনে আসে সেখানে চাঁদের আকর্ষণ বেশি থাকে। স্থলভাগ অপেক্ষা পানিরাশির উপর এ আকর্ষণ শক্তির কার্যকারিতা অনেক বেশি বলে চারদিক থেকে পানিরাশি ঐ আকর্ষণস্থলের দিকে প্রবাহিত হয়। এর ফলে চাঁদের নিকটবর্তী অংশের পানিরাশি ফুলে উঠে মুখ্য জোয়ারের সৃষ্টি করে।
গৌণ জোয়ারচাঁদের আকর্ষণের কারণে পৃথিবীর যে অংশে মুখ্য জোয়ার হয়, ঠিক তার বিপরীত দিকে কেন্দ্রাতিগ বা কেন্দ্রাভিমুখী শক্তির প্রভাবে গৌণ জোয়ার হয়। চাঁদের আকর্ষণে যেদিকে জোয়ার হয় তার নিচের স্থলভাগকেও চাঁদ আকর্ষণ করে। ফলে জোয়ার সংঘটনের স্থানের বিপরীত দিকে পানিরাশির তুলনায় স্থলভাগ চাঁদের দিকে অধিক আকর্ষিত হয়। ফলে ঐ স্থানে পানিরাশির উপর পৃথিবীর আকর্ষণ শক্তির প্রভাব কমে যায়। একইসাথে কেন্দ্রাতিগ শক্তির প্রভাবে পানিরাশি যে স্থানে প্রবাহিত হয়ে জোয়ার সৃষ্টি করে, এ লোয়ারই গৌণ জোয়ার।

সুমদ্রস্রোত ও জোয়ার-ভাটা-প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরীর স্যার এর লেখা বই

Content added By

Read more

Promotion

Are you sure to start over?

Loading...