hsc

সমোন্নতি রেখা থেকে ভূমিরূপ: প্লাবন ভূমি, বাঁক বিশিষ্ট নদী, অশ্বখুরাকৃতি হ্রদ, কর্তিত নদী বাঁক (পাঠ-১৩)

ভূগোল ১ম পত্র - ভূগোল - এইচএসসি | NCTB BOOK

23

প্লাবন ভূমি (Flood plain) :

সাধারণত পরিণত অবস্থায় সমভূমির নদীতে পার্শ্বক্ষয় প্রাধান্য লাভ করে। অর্থাৎ পানি ধারা নদী উপত্যকার পার্শ্বক্ষয় করতে থাকে। ফলে বাঁকগুলো যথেষ্ট প্রশস্ত ও খাড়া ঢাল বিশিষ্ট হয়।
মাঝে মাঝে নদীর দিকে অভিক্ষিপ্ত বহিঃপ্রসূতি উচ্চভূমি (spur) দেখা যায়। বাঁকগুলো আকৃতিতে বড় এবং ভাটির দিকে অগ্রসর হতে থাকায় একটি বিপরীত ধর্মী ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়। কর্তিত তীর অভিক্ষিপ্ত উচ্চভূমির স্থান এবং অভিক্ষিপ্ত উচ্চভূমি কর্তিত তীরের স্থান দখল করে। ফলে যে প্রশস্ত সমভূমি গঠিত হয় তার তলদেশের সর্বত্র নদী সঞ্চয় দেখতে পাওয়া যায়। অর্থাৎ সমভূমির পার্শ্বদেশে ক্ষয়ের প্রভাব এবং তলদেশে সঞ্চয়ের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠে। সাধারণত বাঁক সম্পন্ন এই সমভূমির মধ্য দিয়ে নদী অগ্রসর হয় এবং এর উত্তর পার্শ্ব খাড়াই ঢাল বিশিষ্ট হয়। বন্যার সময় সমগ্র সমভূমি পানি দ্বারা আবৃত হয় বলে একে 'প্লাবন সমভূমি' বলা হয়। এই সমভূমিতে অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ, প্রাকৃতিক বাঁধ থাকে। মানচিত্রে এই ধরনের ভূমিরূপ দেখাবার জন্য মাঝে মাঝে সমভূমিটি সমতল বা স্বর তরঙ্গায়িত বলে প্রতীয়মান অঙ্কন করে খাড়াই ঢাল চিহ্নিত করা হয়। প্লাবন ভূমির উভয় পার্শ্বের ব্যবচ্ছেদিত অঞ্চল দেখাবার জন্য আঁকাবাঁকা সমোন্নতি রেখাগুলোর সমাবেশ ঘটানো হয়।

বাঁকবিশিষ্ট নদী (Meandering river): সমভূমি অঞ্চলগুলোতে নদী উপত্যকা প্রশস্ত ও বাঁকবিশিষ্ট হয় এবং মাঝে
মাঝে অশ্বক্ষুরাকৃতির হ্রদ দেখা যায়। এই প্রকার ভূমিরূপ দেখাবার জন্য প্রথমে বিস্তীর্ণ অঞ্চল আঁকাবাঁকা নদী ও অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ অঙ্কন করা হয় এবং পরে দূরে দূরে সমোন্নতি রেখাগুলো নদী অতিক্রম করে। ফলে উপত্যকার ঢাল স্বাভাবিক দেখা যায়। নদীর পার্শ্ববর্তী স্থানে সমোন্নতি রেখাগুলোও বেশ দূরে দূরে অঙ্কন করা হয়।

অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ (Ox-bow Lake)

পরিণত প্লাবন ভূমিতে অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ দেখতে পাওয়া যায়। নদী বাঁকগুলো ক্রমশ আকারে বৃদ্ধি পায়। বন্যার সময় নদী বক্ষ দিয়ে দ্রুত প্রচুর পানি প্রবাহিত হয়। কিন্তু বাঁকা পথে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়। ফলে অতিরিক্ত পানির ধারা নুতন পথ সৃষ্টি করে এবং এটি ক্রমশ গভীর হয়। পানি স্রোত সোজা পথ অবলম্বন করায় বালি ও পলি জমে বাঁকের উভয় মুখ মূল নদী থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। ফলে পূর্বের বাঁকা পথটি একটি বন্ধ জলাশয় বা হ্রদে পরিণত হয়। এটি 'অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ' নামে পরিচিত। গভীরতা কম হওয়ায় মানচিত্রে এটি দেখানোর জন্য মাত্র কয়েকটি সমোন্নতি রেখা এর চারদিকে অঙ্কন করতে হয়। এইরূপে বিচ্ছিন্ন অবনত অংশগুলোসহ প্লাবনভূমির তরঙ্গায়িত বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তোলা যায়।

কর্তিত নদী বাঁক (Incised meander): ভূআলোড়ন বা অন্য কোনো কারণে নদী পুনর্জীবিত হলে পানির ধারা খাদটিকে পুনরায় গভীর করে কাটতে থাকে এবং কর্তিত হওয়ার ফলে নদী বাঁকের উভয় তীর খাড়াই হয়। এরূপ উপত্যকাকে কর্তিত নদীর উপত্যকা বলে। কখনো কখনো স্থানীয় বৃষ্টিপাত বিশিষ্ট, সহজে ক্ষয়শীল শিলা দ্বারা গঠিত মালভূমি অঞ্চলে এরূপ উপত্যকা দেখতে পাওয়া যায়। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম হওয়ায় উপত্যকা প্রশস্ত হয় না কিন্তু গভীর হয়। মানচিত্রে এইরূপ উপত্যকা দেখাবার জন্য সমোন্নতি রেখাগুলো নদী বাঁকের অতি কাছে ঘন সন্নিবিষ্ট হয় এবং এরা অল্প দূরে দূরে নদী অতিক্রম করে।

পৃথিবীর গঠন - প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরীর এর লেখা বই

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...