hsc

পাঠ-১৩: জনমিতিক ট্রানজিশনাল মডেল ও বাংলাদেশ

ভূগোল ২য় পত্র - ভূগোল - এইচএসসি | NCTB BOOK

8

(Demographic Transitional Model and Bangladesh)

বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ এশিয়ায় পঞ্চম ও পৃথিবীর অষ্টম বৃহত্তম রাষ্ট্র। ১৯৬৯ সালে এ দেশের জনসংখ্যা ছিল ৫.৫২ কোটি। ১৯৭৪ সালে জনসংখ্যার পরিমাণ ছিল ৭,৫৩৯৮,০০০০ জন। কিন্তু ২০০১ সাল ও ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী দেখা যায় বাংলাদেশের জনসংখ্যা যথাক্রমে ১২, কোটি ও ১৪ কোটি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো কর্তৃক ১ জানুয়ারী ২০১৯ সালে বাংলাদেশের মোট প্রাক্কলিত জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৫৬ লাখ। অর্থাৎ বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার অত্যন্ত বেশি এবং এর প্রধান কারণ উচ্চ জন্মহার।

সারণি-২.১২: বাংলাদেশের জনসংখ্যার জন্মহার ও মৃত্যুহার (প্রতি ১০০০ জনে)

বছরজন্মহার (প্রতি ১০০০ জনে)মৃত্যুহার (প্রতি ১০০০ জনে)
২০১০১৯.২৫.৬
২০১১১৯.২৫.৫
২০১২১৮.৯৫.৩
২০১৩১৯.০৫.৩
২০১৪১৮.৯৫.২
২০১৫১৮.৮৫.১
২০১৬১৮.৭৫.১
২০১৭১৮.৫৫.১
২০১৮১৮.৮৫.১

উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা- ২০১৯; পৃষ্ঠা ২২৭

মৃত্যুহার ও জন্মহারের ভারসাম্য দ্বারাই দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি নির্ধারিত হয়। বিগত শতকের গোড়ার দিকে জন্মহার ও মৃত্যুহার দুইটিই অধিক থাকায় জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ধীরে। যা জনমিতিক ট্রানজিশনাল মডেলের প্রথম ধাপ। চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতির ফলে জন্মহারের তুলনায় মৃত্যুহার হ্রাস পেয়েছে বেশি। ফলে বেড়েছে সমগ্র জনসংখ্যা, এটা জনমিতিক ট্রানজিশনাল মডেলের ২য় ধাপ। বর্তমানে এদেশে জনসংখ্যার বৈশিষ্ট্য ৩য় ধাপের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

সারণি-২.১৩: বাংলাদেশের জনসংখ্যা এবং বৃদ্ধির হার (শতকরায়)

১৯৬১৫৫২.২৬
১৯৭৪৭৬২.৪৮
১৯৮১৯০২.৩২
১৯৯১১১১২.১৭
২০০১১৩১১.৫৪
২০১১১৫০১.৩৭
২০১৯১৬৬১.৩৭

উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, ২০১৯

অতএব, দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশে ১৯৬১ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি এবং বাংলাদেশের জনসংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের জনসংখ্যার উপাত্ত ব্যবহার করে জনমিতিক ট্রানজিশনাল মডেলকে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে।

অতএব বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে আমরা দেখতে পাই, বাংলাদেশে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত জন্মহার ও মৃত্যুহার উভয়ই অধিক ছিল, যা এই মডেলের প্রথম পর্যায়, এর পরে মৃত্যুহার জন্মহারের তুলনায় কমতে শুরু করে এবং ২০১৭ সালের জন্মহার ও মৃত্যুহারের পার্থক্য কমে যাচ্ছে এবং ধীরে ধীরে বাংলাদেশের জনসংখ্যা জনমিতিক ট্রানজিশনাল মডেলের ৪র্থ ধাপে পৌছাবে। বাংলাদেশে স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা, নারী শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়ন, জীবনযাত্রার মানোন্নয়নসহ দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটেছে। এছাড়াও সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ জনসংখ্যার পরিবর্তনকে একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে নেয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে।

দূষণ ও দুর্যোগ- প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী- স্যারে লেখা বই

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...