hsc

পাঠ-১১: বাংলাদেশের নগরের প্রকারভেদ

ভূগোল ২য় পত্র - ভূগোল - এইচএসসি | NCTB BOOK

8

(Classification of Urban Areas in Bangladesh)

বাংলাদেশে ৫০০ এর বেশি ছোট বড় শহর আছে। কিন্তু সব শহর সমান বড় বা সুবিধাসম্পন্ন নয়। কোনো শহরে জনসংখ্যা কত তার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের নগরসমূহকে পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। যথা:

নিম্নে এগুলোর বর্ণনা দেওয়া হলো:

ক. শহর (Town): কোনো বসতিতে জনসংখ্যার ঘনত্ব কমপক্ষে ৫০০ জন (প্রতি বর্গ কি.মি.) হলে এবং মোট অধিবাসীদের বেশির ভাগ বা ৯০% এর বেশি অকৃষি পেশায় নিয়োজিত থাকলে এবং মোট জনসংখ্যা ১ লক্ষের কম হলে সেই বসতিকে শহর বলে। শহর গ্রাম অপেক্ষা বড়। সাধারণত বড় কোনো গঞ্জ বা নদীবন্দর বা হাট কালক্রমে শহরে পরিণত হয়। শহরে প্রশাসনিক ভবন, বিভিন্ন অফিস আদালত, হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকে। বাংলাদেশের সকল পৌরসভাকে শহর হিসেবে ধরা যায়।

খ. নগর (City): শহর অপেক্ষা নগরের আয়তন ও জনসংখ্যা বেশি। এক লক্ষের বেশি লোকের আবাসস্থলবিশিষ্ট শহরকে নগর বলে। বাংলাদেশের সকল পুরাতন জেলাশহর (যেমন- যশোর, কুষ্টিয়া, দিনাজপুর, বগুড়া, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর প্রভৃতি) এবং অনেক নতুন জেলা শহর (নরসিংদী, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ প্রভৃতি) নগর হিসেবে স্বীকৃত।

গ. মহানগর (Metropolis): যে নগরে জনসংখ্যা ১০ লক্ষের বেশি তাকে মহানগর বলে। মহানগরের আয়তন, প্রভাবাধীন এলাকা, কর্মক্ষেত্র এবং প্রশাসনিক ক্ষমতা নগর অপেক্ষা অনেক বেশি। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী প্রভৃতি বিভাগীয় শহর মহানগরী হিসেবে পরিচিত। মহানগরের জীবনযাত্রার মান অনেক বেশি উন্নত।

ঘ. মেগাসিটি (Mega city): কোনো নগরের জনসংখ্যা ৫০ লক্ষের বেশি হলে তাকে মেগাসিটি বলে। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা একটি মেগাসিটি। সবদিক দিয়ে মেগাসিটি অন্যান্য নগর অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।

ঙ. কনারবেশন (Conerbation): পাশাপাশি দুটি মহানগরী আয়তনে ক্রমে বৃদ্ধি পেয়ে পরস্পর যুক্ত হলে তাকে কনারবেশন বা নগরপুঞ্জ বলে। বাংলাদেশে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ উভয় নগর সম্প্রসারিত হয়ে কনারবেশন সৃষ্টি করেছে। তবে লক্ষণীয় যে, কনারবেশনে উভয় নগরীর প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ পৃথক হয়।

বসতি (Settlement) - মোহাম্মদ আরিফুর রহমান ও ইকবাল উদ্দিন আহমেদ মিঠু স্যারে লেখা বই

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...