hsc

পাঠ-১২: বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির গুরুত্ব

ভূগোল ২য় পত্র - ভূগোল - এইচএসসি | NCTB BOOK

5

(Importance of increasing the production of exportable goods in Bangladesh)

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতিতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির গুরুত্ব অপরিসীম। অনেক উন্নয়নশীল দেশ আছে যারা নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে খুব কম সংখ্যক পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে। কিন্তু বাংলাদেশ দিন দিন রপ্তানিযোগ্য পণ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করে ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটিয়েছে। বাংলাদেশ যেসব পণ্য রপ্তানি করে উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে সেগুলোর মধ্যে তৈরি পোশাক, চামড়া, চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত দ্রব্য, সিরামিক সামগ্রী, প্রকৌশল দ্রব্যাদি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির গুরুত্ব আলোচনা করার পূর্বে এর দুটি দিক লক্ষণীয়। যথা-

১. উৎপাদনের পরিমাণ বৃদ্ধি: বাংলাদেশে রপ্তানিযোগ্য বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। যুদ্ধপরবর্তী
সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন পণ্যের যে পরিমাণ উৎপাদন হয়েছে তা থেকে বর্তমানে ঐ একই পণ্যের উৎপাদনের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৫-১৬ সালে পাট উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৫ মিলিয়ন বেলস, এই উৎপাদনের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৬-১৭ সালে তা দাঁড়িয়েছে ৯.২ মিলিয়ন বেলস। সুতরাং দেখা যাচ্ছে এভাবে বিভিন্ন রপ্তানি পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কাঁচাপাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ২০১৮-১৯ সালে ১০২৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে।

২. রপ্তানিযোগ্য পণ্যের সংখ্যা বৃদ্ধি: বাংলাদেশ আগে খুব অল্প সংখ্যক পণ্য বিদেশে রপ্তানি করতো। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে শিল্পের প্রসার ঘটায় কৃষি পণ্যের পাশাপাশি শিল্পদ্রব্যের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ৭০-৮০-র দশকে কৃষি ও শিল্পজাত পণ্যের মধ্যে কিছু পণ্য রপ্তানি করা হতো কিন্তু একবিংশ শতাব্দীতে এসে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি নিটওয়‍্যার, প্লাস্টিক সামগ্রী, জুতা, সিরামিক সামগ্রী, ওষুধ এমনকি ফুলের ঝাড়ু, গরুর ভুঁড়িও বিদেশে রপ্তানি করা হয়।
এ প্রেক্ষিতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির গুরুত্ব হলো-

১. জাতীয় আয়ের উৎস: বাংলাদেশের আয়ের অন্যতম উৎস রপ্তানিযোগ্য পণ্য। রপ্তানিযোগ্য পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। হিমায়িত মাছ, শুঁটকি, পোশাক শিল্প, চামড়াজাত পণ্য, হস্তশিল্প ইত্যাদি রপ্তানিযোগ্য পণ্য থেকে প্রতিবছর রপ্তানি শুল্ক আদায়ের মাধ্যমে জাতীয় আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। মূলত রপ্তানি পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে জাতীয় আয়ও বৃদ্ধি পায়।

২. কাঁচামালের উৎপাদন বৃদ্ধি: বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করা হয়।
পাটজাত পণ্যের কাঁচামাল পাট বাংলাদেশে প্রচুর জন্মে। রপ্তানি দ্রব্যের অধিকাংশেরই কাঁচামাল কৃষি থেকে আসে। তাই সেসব কাঁচামাল উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় রপ্তানি পণ্যগুলোর উৎপাদনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। পোশাক শিল্পের কাঁচামাল তুলা যশোর অঞ্চলে ব্যাপকভাবে চাষ করা হয় আবার রাজশাহী অঞ্চলে রেশম ও গুটি পোকার চাষ করে পোশাক শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহ করা হয়। এভাবে বিভিন্ন রপ্তানি দ্রব্যের কাঁচামালের উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্ববাজারে পণ্যসমূহের গুরুত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে।

৩. রপ্তানি আয়ের উৎস: রপ্তানিযোগ্য পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রচুর পরিমাণে আয় করে থাকে।
পোশাক, হোম টেক্সটাইল, রাসায়নিক দ্রব্য, পাটশিল্প রপ্তানির মাধ্যমে প্রচুর অর্থ উপার্জিত হয়। অর্থাৎ এসব দ্রব্য রপ্তানি আয়ের একটি অন্যতম উৎস। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ২০২০ তথ্যমতে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ৪০,৫৩৫.০৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সুতরাং বলা যায়, রপ্তানিযোগ্য পণ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে আর তাই রপ্তানি পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

৪. আমদানি হ্রাস: বাংলাদেশ প্রতিবছর খাদ্য ঘাটতি ও পণ্য ঘাটতি পূরণের জন্য বিদেশ থেকে প্রচুর পণ্য ও
খাদ্যদ্রব্য আমদানি করে। ফলে দেশের অর্থের একটি বড় অংশ বিদেশে চলে যায়। কিন্তু রপ্তানিযোগ্য পণ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পারলে দেশের অর্থ দেশেই থাকবে এবং দেশের খাদ্য ঘাটতি ও দ্রব্য ঘাটতি হ্রাস পাবে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে দেশের বিভিন্ন সরকারের আমলে আমদানি হ্রাস করে রপ্তানি দ্রব্য উৎপাদনের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যে কারণে গত ১৫ বছরে পোশাক শিল্পের উৎপাদন অধিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ পোশাক পণ্য ছাড়াও রাসায়নিক দ্রব্য, ওষুধ ইত্যাদি পণ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করায় এগুলোর আমদানি হ্রাস পেয়েছে।

৫. অধিক বৈদেশিক মুদ্রার্জন: বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রেও রপ্তানিযোগ্য পণ্য উৎপাদন বৃদ্ধির যথেষ্ট অবদান রয়েছে। রপ্তানি পণ্যের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি বিদেশ থেকে আমদানির জন্য প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন। তাই বাংলাদেশ রপ্তানি পণ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করে পূর্বের তুলনায় অধিক বৈদেশিক মুদ্রার্জন করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিপোর্ট অনুসারে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সালে বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ রয়েছে ৩২.৯৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

৬. কর্মসংস্থান বৃদ্ধি: বাংলাদেশে শিক্ষার উন্নয়নের সাথে সাথে বেকার সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে কিন্তু সেভাবে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাচ্ছে না। তাই রপ্তানি পণ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন শিল্প কারখানায় হাজার হাজার লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। কৃষিতে আগে থেকেই অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ রয়েছে। এরূপ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন শিল্প কারখানায় রপ্তানি পণ্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুতরাং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে রপ্তানি দ্রব্যের উৎপাদন বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৭. কৃষির ওপর জনসংখ্যার চাপ হ্রাস: বর্তমানে বাংলাদেশে জনসংখ্যা দ্রুতহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে কৃষি জমির উপর চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ক্রমশ জমিগুলো খন্ড বিখন্ড হয়ে যাচ্ছে। ফলে মানুষ এবং ভূমির অনুপাত অত্যন্ত নেতিবাচক হয়ে পড়েছে। তবে প্রতিবছর শিল্পজাত পণ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং রপ্তানিযোগ্য পণ্য উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে কৃষির উপর জনসংখ্যার চাপ হ্রাস পাচ্ছে। এক সময় শতকরা ৭০ ভাগ লোক কৃষিতে নিয়োজিত ছিল। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর রিপোর্ট অনুসারে বর্তমানে কৃষিতে নিয়োজিত শ্রমশক্তির শতকরা হার ৪৮.০৪%। সুতরাং, দেখা যাচ্ছে রপ্তানিযোগ্য পণ্য উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে কৃষির ওপর জনসংখ্যার চাপ বর্তমানে অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে।

৮. শ্রমিকদের নিরাপত্তা বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভকরার পর থেকেই দেশের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। কিন্তু সে সময়ে শ্রমিকদের নিরাপত্তার অভাবে শিল্পের অগ্রগতি ব্যাহত হয়েছে এবং উদ্যেক্তাগণ উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি করতে পারেনি পণ্যের ঘাটতি থাকায়। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য প্রত্যেকটি শিল্প কারখানায় শ্রমিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে। তাছাড়া আগে নারীরা নিরাপত্তাহীনতার কারণে ঘরের বাইরে বের হয়নি। বর্তমানে শিল্প কারখানায় নিরাপত্তা বৃদ্ধি করায় দেশের বৃহৎ রপ্তানি পণ্য পোশাক শিল্পে নারী শ্রমিক সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ৯০ শতাংশ।

৯. অবাধ বাণিজ্য নীতি: আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের সম্প্রসারণের জন্য বিভিন্ন সরকার বিভিন্ন সময়ে অনেক নীতিমালা প্রণয়ন করেছেন। কিন্তু রপ্তানিজাত পণ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন দেশে রপ্তানির লক্ষ্যে অবাধ বাণিজ্য নীতি গ্রহণ করেছে সরকার। অবাধ বাণিজ্য নীতির কারণে উৎপাদিত পণ্য দেশের চাহিদা মিটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, সার্কভুক্ত দেশে রপ্তানি করা সম্ভব হচ্ছে। অবাধ বাণিজ্য নীতির কারণে বাংলাদেশের সাথে চীন, জাপান ও ভারতের সাথে বন্ধুপ্রতীম বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তাই অবাধ বাণিজ্যের জন্য রপ্তানিযোগ্য পণ্য উৎপাদন বৃদ্ধির গুরুত্ব অপরিসীম।

১০. বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় হ্রাস: বাংলাদেশকে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে পণ্য আমদানি এবং দেশের খনি থেকে বিভিন্ন খনিজ পণ্য উত্তোলন করতে হয়। কিন্তু বর্তমানে এসব মুদ্রা ব্যয় হ্রাস করার জন্য রপ্তানিযোগ্য পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকারি ও বেসরকারিভাবে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

১১. আধুনিক পদ্ধতির প্রবর্তন: আগে বাংলাদেশের মানুষ প্রাচীন পদ্ধতিতে চাষাবাদ এবং শিল্পের পণ্য উৎপাদন করত
কিন্তু সময়ের সাথে সাথে উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশে পণ্য উৎপাদন ও কৃষিজাত রপ্তানি পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধিতে আধুনিক পদ্ধতির প্রবর্তন করা হয়েছে। ধান থেকে চাল তৈরিতে এখন কম্পিউটারাইজড পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। একইভাবে রপ্তানিযোগ্য পণ্যগুলো উন্নত প্রযুক্তি ও মেশিনারিজ দিয়ে উৎপাদন করা হচ্ছে ফলে পণ্যগুলোর গুণগত মান বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণে বাংলাদেশের শুরুর দিকে পণ্য উৎপাদন যে পরিমাণ ছিল তা থেকে উৎপাদন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই আধুনিক পদ্ধতির প্রবর্তনে রপ্তানিযোগ্য পণ্য উৎপাদন বৃদ্ধির গুরুত্ব রয়েছে।

১২. দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন: বাংলাদেশের দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য রপ্তানিযোগ্য পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির গুরুত্ব অপরিসীম। শুধু তৈরি পোশাক শিল্পই নয় হিমায়িত মাছ, প্লাস্টিক সামগ্রী, পাট ও পাটজাত দ্রব্য, চামড়াজাত পণ্য ইত্যাদি রপ্তানিযোগ্য পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে দ্রুত রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী জিডিপিতে নীট রপ্তানির অবদান- ৮০৬৬৩ কোটি টাকা। তাই দেখা যাচ্ছে রপ্তানি পণ্য বা আয় বৃদ্ধির দ্বারা দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন সংঘটিত হচ্ছে।

১৩. পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি: বাংলাদেশের পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে বাংলাদেশের উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করা সহজ হয়েছে। সড়ক ও রেলপথের উন্নয়নের ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানের উৎপাদিত রপ্তানি পণ্য সমুদ্র বন্দরে পৌছাতে তা সাহায্য করে। আবার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সংখ্যা বৃদ্ধি ও বিমানবন্দরের সার্বিক উন্নয়ন পণ্য রপ্তানিতে সহায়তা করে। সুতরাং, রপ্তানিযোগ্য পণ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির গুরুত্ব অপরিসীম।

১৪. জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন: জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য রপ্তানিযোগ্য পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির গুরুত্ব অপরিসীম। শ্রমিক ও অন্যদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন রপ্তানিযোগ্য পণ্য উৎপাদনের সাথে জড়িত। গত শতাব্দীর শেষের দিকে বাংলাদেশের জনগণের জীবনযাত্রার মান অত্যন্ত নিচু ছিল, কিন্তু শিল্প স্থাপন ও রপ্তানি দ্রব্য উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে বর্তমানে জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ঘটেছে।

১৫. মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি: কোনো দেশ কতখানি উন্নত তা নির্ণয় করা যায় সে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় 'কী পরিমাণ তা দেখে। বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৯-র তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের বর্তমান (২০১৮-২০১৯) মাথাপিছু জাতীয় আয় ১,৯০৯ মার্কিন ডলার, যা পূর্ববর্তী বছর থেকে ১৫৮ ডলার বেশি। মাথাপিছু আয় দিন দিন বৃদ্ধি, রপ্তানিযোগ্য পণ্য উৎপাদন বৃদ্ধির গুরুত্ব নির্দেশ করে।

১৬. অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কৃষির ওপর অধিক নির্ভরশীল। কিন্তু রপ্তানি
পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় শিল্পের উপরও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নির্ভর করছে। কৃষি উৎপাদনে বাংলাদেশ এখনও স্থিতিশীলতা অর্জন করতে পারেনি। কারণ নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন এখনো অনিশ্চয়তায় ভুগছে। কিন্তু শিল্পজাত দ্রব্য উৎপাদনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন করা যায়। এ কারণে কৃষিপ্রধান বাংলাদেশেও রপ্তানি দ্রব্য উৎপাদন বৃদ্ধির গুরুত্ব অপরিসীম।

উপরিউক্ত বর্ণনার আলোকে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির গুরুত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। রপ্তানিযোগ্য পণ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে লেনদেনের অনুকূল ভারসাম্য ও দেশের প্রবৃদ্ধির হারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই উপরিউক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্টতই বুঝা যায়, বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির গুরুত্ব অপরিসীম।

বাণিজ্য (Trade) - মোহাম্মদ আরিফুর রহমান ও ইকবাল উদ্দিন আহমেদ মিঠু স্যারে লেখা বই

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...