(Cylindrical Equal Area Projection)
সম আয়তনিক বেলন অভিক্ষেপেও অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখাগুলো পরস্পরকে সমকোণে ছেদ করে তবে এখানে পরিবেষ্টিত বেলনটিতে উপনীত হবার জন্য অক্ষরেখার তলগুলোকে আনুভূমিকভাবে বৃদ্ধি করা হয়।
গুণাবলি (properties):
i. এটি একটি সম আয়তনিক অভিক্ষেপ;
ii. অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখাগুলো সরল এবং পরস্পরকে সমকোণে ছেদ করে;
iii. নিরক্ষরেখা থেকে উত্তরে ও দক্ষিণে অক্ষরেখাগুলোর ব্যবধান ক্রমশ; অধিক থেকে অধিকতর হ্রাস পেয়েছে; এবং
iv. নিরক্ষরেখা থেকে উত্তরে ও দক্ষিণে উচ্চ অক্ষাংশের দেশগুলোর আকৃতি ক্রমশ বিকৃত হবে।
ব্যবহার (Use): সম-আয়তনিক অভিক্ষেপ হওয়ায় এ অভিক্ষেপে পৃথিবীর মানচিত্রে কখনো কখনো বিভিন্ন দ্রব্যের বণ্টন দেখানো হয়। তবে উচ্চ অক্ষাংশের দেশগুলোর (কানাডা, রাশিয়া) আকৃতি বিকৃত হওয়ায় সেই সব স্থানের দ্রব্যাদির বণ্টন সন্তোষজনক হয় না। নিম্ন অক্ষাংশের অর্থাৎ ৪৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যবর্তী স্থানের (চীন, ব্রাজিল) বণ্টন দেখানোর জন্য এই অভিক্ষেপ অধিক ব্যবহৃত হয়। যেমন- এতে ক্রান্তীয় অঞ্চলের ফসল চালের (Rice) বণ্টন নির্ভুলরূপে দেখানো যায়।
মার্কেটরস অভিক্ষেপ (Mercator's Projection): ডেনমার্কের অধিবাসী Gerhard Kramer Flemish (জন্ম
১৫১২ খ্রিষ্টাব্দে, পদবী মার্কেটর) সর্ব প্রথম ১৫৬৯ খ্রীষ্টাব্দে এই অভিক্ষেপের পরিকল্পনা করেন। মার্কেটর দ্বারা উপস্থাপিত অভিক্ষেপটি সংশোধন করে ৩০ বৎসর পর কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের Edward Wright নামক জনৈক বৃটিশ মানচিত্রাঙ্কনবিদ্যা বিশারদ (cartographer) প্রচলিত অভিক্ষেপ প্রণয়ন করেন। তখন থেকে এই অভিক্ষেপটি গ্রেট বৃটেনের সব ধরনের ভূচিত্রাবলিতে ব্যবহারের জন্য জনপ্রিয়তা লাভ করে। নির্ভুল দিক বুঝতে পারা যায় বলে এই অভিক্ষেপটি জাহাজ চলাচলের জন্য অত্যধিক ব্যবহৃত হয়। ঊনবিংশ শতাব্দীতে গ্রেট বৃটেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ নৌ-শক্তি থাকায় ইংরেজরা এই অভিক্ষেপ গ্রহণ করে। এই অভিক্ষেপে নিরক্ষরেখা থেকে দূরবর্তী উচ্চ ও মধ্য অক্ষাংশের দেশগুলোর আকৃতি অতিশয় বৃদ্ধি পায় বলে তদানীন্তন মধ্য অক্ষাংশের বৃটিশ সাম্রাজ্যের দেশগুলো চিত্তাকর্ষক দেখাত l
গুণাবলি (Properties):
i. অক্ষ ও দ্রাঘিমারেখাগুলো সরলরেখা হিসাবে অঙ্কিত;
ii. অক্ষ ও দ্রাঘিমারেখা পরস্পর সমকোণে ছেদ করবে;
iii. দ্রাঘিমারেখাগুলোর ব্যবধান সমান;
iv. নিরক্ষরেখা থেকে উত্তরে ও দক্ষিণে ক্রমশ অক্ষরেখাগুলোর মধ্যবর্তী ব্যবধান বৃদ্ধি পেয়েছে; অর্থাৎ বিন্যাস সমভাবে হয়নি;
v. স্বল্প পরিসর স্থানে আকৃতি নির্ভুল থাকলেও অক্ষরেখাগুলোর বিস্তৃতি বৃদ্ধি পেলে আকৃতি বিকৃত হয়;
vi. শুধু নিরক্ষরেখার পার্শ্ববর্তী স্থানের দূরত্ব নির্ভুলভাবে দেখানো যায়;
vii. মধ্য অক্ষাংশের দেশের আয়তন অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পায়; এবং
viii. সর্বত্রই বিয়ারিং নির্ভুল।
ব্যবহার (Use): সমুদ্রপথ নির্দেশ করার জন্যই এই অভিক্ষেপ অধিক ব্যবহার করা হয়। সুতরাং, এর ব্যবহার নৌ চালনা ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ।
মানচিত্র অভিক্ষেপ- মোহা: আনিছুর রহমান ও মোঃ আব্দুর রাজ্জাক-স্যারে লেখা বই
Read more