(Worldwide Production, Distribution and Economic Importance of Rice)
ধান প্রধানত মৌসুমি অঞ্চলের ফসল। জনবহুল দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলে পৃথিবীর অধিকাংশ ধান উৎপন্ন হয়ে থাকে। পাকিস্তান ও বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশ, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব চীন, জাপান, কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনে বিশ্বের প্রায় ৯০% ধান উৎপন্ন হয়ে থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অববাহিকা, ইতালির পো নদী অববাহিকা, দক্ষিণ আমেরিকার ওরিনকো নদী অববাহিকা প্রভৃতি সুপ্রসিদ্ধ ধান উৎপাদক অঞ্চল। FAO এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৮ সালে বিশ্বে মোট ৭৮২০ লক্ষ মেট্রিক টন ধান উৎপন্ন হয়।
সারণি-৪.১: বিশ্বের ধান উৎপাদন (২০১৮)
(লক্ষ মেট্রিক টন হিসাবে)
| দেশের নাম | উৎপাদনের পরিমাণ |
| ১. চীন | ২১৪১ |
| ২. ভারত | ১৭২৬ |
| ৩. ইন্দোনেশিয়া | ৮৩০ |
| ৪. বাংলাদেশ | ৫৬৪ |
| ৫. ভিয়েতনাম | 88০ |
| ৬. থাইল্যান্ড | ৩২১ |
| ৭. মিয়ানমার | ২৫৪ |
| ৮. ফিলিপাইন | ১৯০ |
| ৯. ব্রাজিল | ১১৭ |
| ১০. পাকিস্তান | ১০৮ |
| ১১. সমগ্র বিশ্ব | ৭৮২০ |
পৃথিবীর প্রধান প্রধান ধান উৎপাদনকারী দেশ
১. চীন: ধান উৎপাদনে চীন বিশ্বে প্রথম স্থান অধিকারী দেশ। চীনের হোয়াংহো, ইয়াং সিকিয়াং ও সেচুয়ান অববাহিকা এবং হুনান প্রদেশে প্রচুর ধান জন্মে। হুনান প্রদেশে অত্যধিক ধান উৎপন্ন হয় বলে একে 'ধানের আধার' (rice bowl) বলা হয়।

২. ভারত: ধান উৎপাদনে ভারত বিশ্বে দ্বিতীয়। দেশটির আসাম, মাদ্রাজ, বিহার, উড়িষ্যা, উত্তর প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, মধ্যপ্রদেশ, ত্রিপুরা, অন্ধ্র প্রদেশ, কর্ণাটক প্রভৃতি রাজ্যে প্রচুর ধান উৎপন্ন হয়।
৩.ইন্দোনেশিয়া: ধান উৎপাদনে ইন্দোনেশিয়ার স্থান বিশ্বে তৃতীয়। এ দেশের জাভা অঞ্চল ধান উৎপাদনে প্রসিদ্ধ।
৪. বাংলাদেশ: বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম ধান উৎপাদনকারী দেশ বাংলাদেশ। এ দেশের গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্রের অববাহিকা অঞ্চল ও সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলের জেলাসমূহে সর্বাধিক ধান উৎপন্ন হয়।
৫. ভিয়েতনাম: ধান উৎপাদনে ভিয়েতনামের স্থান বিশ্বে পঞ্চম। দেশটির মেকং নদীর বদ্বীপ অঞ্চল ও উত্তর ভিয়েতনামের লোহিত অববাহিকায় প্রচুর পরিমাণে ধান উৎপন্ন হয়।
৬.থাইল্যান্ড: ধান উৎপাদনে থাইল্যান্ড বর্তমান বিশ্বে যষ্ঠ। থাইল্যান্ডের সর্বত্রই ধানের চাষ হয়। তবে মেনাব নদীর অববাহিকা ও বদ্বীপ অঞ্চলেই বেশি ধান জন্মে।
৭. মিয়ানমার: ধান উৎপাদনে মিয়ানমারের স্থান বিশ্বে সপ্তম। ইরাবতী নদীর বদ্বীপ ভূমি এ দেশের ধান উৎপাদনের প্রধান অঞ্চল।
৮. ফিলিপাইন: ধান উৎপাদনে ফিলিপাইনের স্থান বর্তমানে বিশ্বে অষ্টম। ফিলিপাইনের সুজন দ্বীপের সমভূমি ও সোপান ভূমি ধান উৎপাদনে প্রসিদ্ধ।
৯. ব্রাজিল: ব্রাজিল বিশ্বে নবম ধান উৎপাদনকারী দেশ। এ দেশের আমাজন নদীর উপত্যকা ও আটলান্টিক উপকূলে প্রচুর ধান জন্মে।
১০. পাকিস্তান: ধান উৎপাদনে দেশটির স্থান দশম। দেশটির নিম্ন সিন্ধু অববাহিকা, পাঞ্জাব সমভূমি, পেশোয়ার উপত্যকা, পশ্চিম কাশ্মির প্রভৃতি অঞ্চলে প্রচুর ধান উৎপন্ন হয়।
ধানের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য
বিশ্বের কোনো দেশই সরাসরি ধান আমদানি বা রপ্তানি করে না। ধান থেকে চাল তৈরি করে বিশ্ববাজারে প্রেরণ করা হয়। বিশ্বে চাল রপ্তানিতে ২০১৮ সালে ভারত ১ম, থাইল্যান্ড ২য়, ভিয়েতনাম ৩য় ও পাকিস্তান ৪র্থ স্থানে রয়েছে। অপরদিকে, ২০১৮ সালে বিশ্বের দেশগুলো প্রায় ২১.৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের চাল আমদানি এবং ২০.৭ বিলিয়ন ডলার ও সৌদি আরব ৩য় স্থানে রয়েছে। মূল্যের চাল রপ্তানি করে। ২০১৮ সালে আমদানিতে চীন ১ম, ইরান ২য় ও।
সারণি-৪.২: চালের বিশ্ববাণিজ্য (বিলিয়ন মার্কিন ডলার হিসেবে)
| রপ্তানি বাণিজ্য | আমদানি বাণিজ্য | ||
| দেশের নাম | ২০১৮ | দেশের নাম | ২০১৮ |
| ১. ভারত | ৭.৪ | ১. চীন | ১.৬ |
| ২. থাইল্যান্ড | ৫.৬ | ২. ইরান | ১.২ |
| ৩. ভিয়েতনাম | ২.২ | ৩. সৌদি আরব | ১.২ |
| ৪. পাকিস্তান | ২ | ৪.ইন্দোনেশিয়া | ১.০ |
| ৫. যুক্তরাষ্ট্র | ১.৭ | ৫. যুক্তরাষ্ট্র | ০.৯৫৯ |
| ৬. চীন | ০.৮৮৭ | ৬. বেনিন | ০.৯৩০ |
| ৭. ইটালি | ০.৬১৪ | ৭. ফিলিপাইন | ০.৭৩৭ |
| ৮. ব্রাজিল | ০.৪৬৮ | ৮. আইভরিকোস্ট | ০.৬৮৯ |
| ৯. উরুগুয়ে | ০.৪০০ | ৯. সংযুক্ত আরব আমিরাত | ০.৬৮২ |
| ১০. কম্বোডিয়া | ০.৩৭৫ | ১০. ইরাক | ০.৬৬৯ |
সূত্র: WTE, 2020
অনুকূল প্রাকৃতিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উপাদান ধান উৎপাদনে সহায়ক। বিশ্বের সর্বত্র ধান উৎপন্ন হলেও এশিয়া মহাদেশের দেশগুলোতে প্রচুর ধান উৎপন্ন হয়। ধান আন্তর্জাতিক বাজারে বিশেষ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়নি। কারণ ধান উৎপাদনকারী দেশসমূহের অভ্যন্তরীণ চাহিদা বেশি থাকায় বিশ্ববাণিজ্যে এর প্রবেশ খুব সীমিত।
উন্নয়নশীল বিশ্বে ধান চাষের সমস্যা
উন্নয়নশীল বিশ্বে ধান চাষে কিছু সমস্যা বিরাজমান। সেগুলো হচ্ছে-
১. জলবায়ু ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ
২. মূলধনের অভাব,
৩. ধানের বীজ স্বল্পতা,
৪. মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভরশীলতা,
৫. আধাদক্ষ বা অদক্ষ শ্রমিক,
৬. সনাতন চাষ পদ্ধতি,
৭. উন্নত বীজের অভাব,
৮. সারের ঘাটতি,
৯. পানিসেচের অপর্যাপ্ততা,
১০. ভূমির অত্যধিক চাহিদা,
১১. ভূমির খণ্ডীকরণ,
১২. ভূমিহীন কৃষক,
১৩. কীটপতঙ্গের আক্রমণ,
১৪. অনুন্নত পরিবহন ব্যবস্থা,
১৫. গুদাম ও পণ্যাগারের স্বরা
১৬. বাজারজাতকরণের অসুবিধা,
১৭. শক্তি সম্পদের অভাব,
১৮. সমন্বিত কৃষিনীতির অভাব প্রভৃতি।
উন্নয়নশীল বিশ্বে ধান চাষের সমস্যার সমাধান
উন্নয়নশীল দেশের ধান চাষে বিরাজমান সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য বেশকিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। যেমন-
১. বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ,
২. কৃষি ঋণের ব্যবস্থা,
৩. উন্নতমানের বীজ সরবরাহ,
৪. সার ও কীটনাশক সরবরাহ,
৫. সেচব্যবস্থার উন্নতি,
৬. মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনা,
৭. প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা,
৮. ভূমি সংস্কার আইন সংশোধন প্রভৃতি।
কৃষি (Agriculture)-ড. হ জ ম হাসিবুশ শাহীদ-স্যারে লেখা বই
Read more