(Trenches)
সামুদ্রিক খাত সমুদ্রের তলদেশের সবচেয়ে গভীরতম অংশ, যা গভীর সমুদ্রের সমভূমির প্রান্তে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এগুলো তুলনামূলকভাবে সংকীর্ণ ও অত্যন্ত ঢালযুক্ত ভূমিরূপ এবং সাধারণত কয়েক কিলোমিটার প্রশস্ত ও পার্শ্ববর্তী সমুদ্র তলদেশের তুলনায় প্রায় ৩-৪ কি.মি. (১.৯-২.৫ মাইল) গভীর। অধিকাংশ সামুদ্রিক খাত প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত, যদিও আটলান্টিক মহাসাগরে দুটি ও ভারত মহাসাগরেও একটি রয়েছে।
| সামুদ্রিক গিরিখাত (কি.মি.) | গভীরতা (কি.মি.) | দৈর্ঘ্য (কি.মি.) | গড় প্রশস্ততা (কি.মি.) |
| প্রশান্ত মহাসাগর | |||
| কুরিল-কামচাটকা | ১০.৫ | ২২০০ | ১২০ |
| জাপান | ৮.৫ | ৮০০ | ১০০ |
| বেনিন | ৯.৮ | ৮০০ | ৯০ |
| ম্যারিয়ানা | ১১.০ | ২২৫০ | ৭০ |
| ফিলিপাইন | ১০.৫ | ১৪০০ | ৬০ |
| টোংগা | ১০.৮ | ১৪০০ | ৫৫ |
| কারমাডেক | ১০.০ | ১৫০০ | 8০ |
| অ্যালুসিয়ান | ৭.৭ | ৩৭০০ | ৫০ |
| মধ্য আমেরিকান | ৬.৭ | ২৮০০ | ৪০ |
| পেরু চিলি | ৮.১ | ৫৯০০ | ১০০ |
| ভারত মহাসাগর | |||
| জাভা গিরিখাত | ৭.৫ | ৪৫০০ | ৮০ |
| আটলান্টিক মহাসাগর | |||
| পর্টোরিকো | ৮.৪ | ১৫৫০ | ১২০ |
| দক্ষিণ স্যান্ডউইচ | ৮.৪ | ১৪৫০ | ৯০ |
প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম প্রান্তে সুন্দর বৈশিষ্ট্যপূর্ণ গিরিখাত রয়েছে। এ ধরনের কয়েকটি গিরিখাত আটলান্টিক মহাসাগরে ও উত্তর ভারত মহাসাগরেও দেখা যায়। লম্বা ও অপ্রশস্ত এ গভীর অবনমিত স্থানগুলো সমুদ্রের সবচেয়ে গভীরতম অঞ্চল। পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের কয়েকটি গিরিখাত প্রায় ১১,০০০ মিটার বা প্রায় ৩৬,০০০ ফুট গভীর (সারণি ৭.৩)। গিরিখাতগুলোর নিচু ভূপ্রকৃতি ও প্রশস্ত আয়তন সমুদ্রের গভীরতার দিকে প্রায় সমান্তরাল।
অনেক স্থানেই মহীপ্রান্ত বিরাট আকারের সামুদ্রিক ক্যানিয়ন (submarine canyon) দ্বারা কর্তিত। এর অনেকগুলোই আরিজোনার কলোরাডো নদীর গ্রান্ড ক্যানিয়নের চেয়ে আকারে বড়। সমুদ্রের অনেক ক্যানিয়নই বহু বৃহৎ নদীর সাথে সম্পর্কিত, যেমন; কঙ্গো, হাডসন, কলম্বিয়া ও সিন্ধু। বঙ্গোপসাগরের কয়েকটি নদীর মোহনায় ক্যানিয়নের অবস্থান লক্ষণীয়; যেমন: গঙ্গা, কৃষ্ণা, কাবেরী, মহানন্দা প্রভৃতি। যদিও বর্তমানে নদী মোহনার সাথে সামুদ্রিক ক্যানিয়নগুলোর খুব কমই সম্পর্ক রয়েছে। এগুলোর উৎপত্তি সম্পর্কে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিকের বিতর্কিত মতবাদ প্রচলিত রয়েছে। তবে অনেকেই সমর্থন করেন যে, সামুদ্রিক ক্যানিয়ন কর্দমযুক্ত ঘোলা পানির স্রোতের (turbidity currents) দ্বারা কর্তিত হয়ে সৃষ্টি হয়েছে। এ স্রোত হলো ঘন কর্দম ও পলি মিশ্রিত পানির স্রোত, যা সমুদ্র তলদেশের ওপর দিয়ে ঢাল বেয়ে নিচের দিকে প্রবাহিত হয়। আবার কেউ কেউ এর সৃষ্টি রহস্যকে হিমবাহ ও অহিমবাহ যুগের আবর্তনে সমুদ্র সমতলের উত্থান ও পতনের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন।
বারিমণ্ডল - ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এর লেখা বই
Read more