ভৃগু বা খাড়া উঁচু পাড় (Cliff):
ভূমি ভাগ খাড়া হয়ে প্রায় উলম্বভাবে কোনো সমভূমি, নদী, হ্রদ বা সমুদ্রের উপর ঝুঁকে অবস্থান করলে তাকে ভৃগু বলে। পানিপ্রপাতের ন্যায় 'ভৃগু' উচ্চতাবিশিষ্ট।
উলম্ব উচ্চতা সৃষ্টি করার জন্য বিভিন্ন উচ্চতাবিশিষ্ট সমোন্নতি রেখাগুলো পরস্পর একই রেখায় মিলিত করতে হয়। দেখতে একরূপ হলেও পানিপ্রপাত ও ভৃগুর সমোন্নতি রেখাগুলোর মান বিন্যাস স্বতন্ত্র। স্মরণ রাখতে হবে যে কেবল উলম্ব ভৃগু ও পানি প্রপাতের ক্ষেত্রেই সমোন্নতি রেখাগুলো মিলিত হয়, অন্যত্র নয়। ভৃগু সমুদ্র উপকূলে পক্ষান্তরে, প্রণবভূমি দেশের অভ্যন্তরের খাড়াই ভূভাগ।
উলম্ব নিম্ন ভূভাগের উপর দিয়ে বহির্দিকে প্রক্ষিপ্ত উপরের ভৃগু 'ঊর্ধ্বে ঝুলন্ত ভৃগ' (over hanging cliff) নামে পরিচিত। এ ভূমিরূপ অঙ্কন করার জন্য অপেক্ষাকৃত নিম্নমানের সমোন্নতি রেখাগুলোকে অধিক মানবিশিষ্ট সমোন্নতি রেখাগুলোর উপর দিয়ে অতিক্রম করিয়ে বাইরের দিকে প্রসারিত করতে হয়। কেবল এ ক্ষেত্রেই সমোন্নতি রেখাগুলো পরস্পর ছেদ করে প্রসারিত করতে হয়। কোনো ভৃগু সমুদ্রের মধ্যে প্রসারিত হলে তাকে শৈলান্তরীপ (promontory বা head Land) বলে।

নদীমঞ্চ (River terrace): যদি সমোন্নতি রেখাগুলো নদী থেকে কিছুটা দূরে খুব ঘন সন্নিবিষ্ট হয় এবং দুটি সমোন্নতি রেখা কাছাকাছি থাকার পর কিছুটা স্থান বেশ ফাঁক এবং পরে দুটি সমোন্নতি রেখা আবার কাছাকাছি সন্নিবিষ্ট থাকে তা হলে একে নদীমঞ্চ বলা হয়। এর প্রস্থচ্ছেদ অঙ্কন করলে নদীর দুই পার্শ্বে বড় বড় মঞ্চের বা প্রশস্ত সিঁড়ির ন্যায় দেখা যায়।
একটি নদীমণ্ড প্রায় সমতল, এর উপরিভাগ স্বল্প তরঙ্গায়িত ও পার্শ্বদেশ খুব খাড়াই ঢালবিশিষ্ট, কখনো কখনো তা উলম্ব ঢালবিশিষ্ট হয়ে থাকে। সাধারণত মঞ্চের প্রান্তভাগের দিকে অধিক মাত্রায় ক্ষয়ীভবন হয়, ফলে তথায় গভীর ও সংকীর্ণ ভূভাগের সৃষ্টি হয়। পাশের চিত্রে ৩৫০ থেকে ৩২৫ ফুট সমোন্নতি রেখার মধ্যবর্তী স্বাভাবিক ঢাল বিশিষ্ট তরঙ্গায়িত এলাকা বর্তমান থাকলেও নদীর কাছে হঠাৎ ৩০০ ফুট গভীর হয়েছে। ফলে মঞ্চটি ২৫ ফুট উঁচু হয়। মঞ্চের প্রান্তভাগে অনেকগুলো সংকীর্ণ গভীর স্থান বর্তমান থাকে। মঞ্চের এক পার্শ্বে হঠাৎ উঁচু এবং অন্য পার্শ্বে হঠাৎ নিচু দেখাবার জন্য সমোন্নতি রেখাগুলোকে খুব কাছাকাছি অঙ্কন করতে হয়।

বালিয়াড়ি (Sand dunes): বায়ুর গতির সাথে সমকোণে বালু দ্বারা গঠিত ঢেউয়ের মতো যেসব উন্নত ভূমি গঠিত হয় সেগুলোকে বালিয়াড়ি বলে। মানচিত্রের উপর বালিয়াড়ির অবস্থান দেখাবার জন্য মোটামুটি সমান্তরালভাবে দীর্ঘায়িত সম্প্রসারিত বিচ্ছিন্ন সমোন্নতি রেখাগুলো অঙ্কন করা হয়।

পৃথিবীর গঠন - প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরীর এর লেখা বই
Read more