পল্যয়ন (Saddle):
দুইটি নাতি উচ্চ শৈলশিরার মধ্যে অনুচ্চ ভূভাগ বিশিষ্ট বিস্তৃত ভূমিকে পল্যয়ন বলে। কিন্তু দুইটি শৈলশিরার মধ্যবর্তী অনুচ্চভূমি স্বল্প প্রশস্ত হলে একে গিরিপথ (pass) বলে। পাকিস্তানের খাইবার গিরিপথ এর উদাহরণ। সুউচ্চ এলাকার অপ্রশস্ত গিরিপথকে কল (col) বলে। সাধারণত বিস্তৃত শিলার মধ্যে ক্ষুদ্র চূড়াগুলো গিরিপথ দ্বারা পৃথক থাকে। স্থানে স্থানে গিরিপথগুলো গভীর পল্যয়নে পরিণত হয়। লোকবসতি বিশিষ্ট অঞ্চলে এইরূপ পল্যয়নের মধ্য দিয়ে রাস্তা তৈরি করা হয়।

উপত্যকা শীর্ষ অত্যন্ত খাড়া হলে রাস্তাগুলো অনেক সময় বহিঃপ্রসূত অংশের ওপর দিয়ে অগ্রসর হয়। পাহাড় বা পর্বতমালা বিশিষ্ট অঞ্চলে পল্যয়নের মধ্য দিয়ে সৃষ্ট এইরূপ দীর্ঘ অপ্রশস্ত গিরিপথকে গিরিসঙ্কট (defile) বলে। যে শৈলশিরা দুইটি নিষ্কাশন প্রণালিকে পৃথক করে তাকে পানি বিভাজিকা (watershed) বলে।
অভিক্ষিপ্ত উচ্চভূমি (Spur): নিম্নভূমির দিকে অভিক্ষিপ্ত উচ্চভূমি' (বহিঃপ্রসূত অংশ) স্পার নামে পরিচিত। এতে সমোন্নতি রেখাগুলো নিম্ন সমোন্নতি রেখার দিকে বেঁকে উত্তল ঢালের সৃষ্টি করে। এর সমোন্নতি রেখাগুলোর মান ভিতর দিকে ক্রমশ বৃদ্ধি পায়। ফলে প্রস্থচ্ছেদ অঙ্কন করলে উৎপন্ন ভূভাগ উন্নত দেখায়।

পৃথিবীর গঠন - প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরীর এর লেখা বই
Read more