hsc

পাঠ-৯: ভারত মহাসাগরের স্রোতগুলোর প্রভাব

ভূগোল ১ম পত্র - ভূগোল - এইচএসসি | NCTB BOOK

7

(Influences of India Oceanic Currents)

ভারত মহাসাগরের স্রোতগুলোর বৈশিষ্ট্য কিছুটা হলেও অন্যান্য মহাসাগর থেকে পৃথক। বিশেষত উত্তর ভারত মহাসাগরের গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি স্রোত সম্পূর্ণ ভিন্ন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। এই স্রোতের প্রভাবে সমগ্র দক্ষিণ এশিয়াতে প্রবল বৃষ্টিপাত হয় এবং বর্ষাকাল হিসাবে একটি ঋতুর আবির্ভাব ঘটে। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি আবির্ভাবের পূর্বে দক্ষিণ এশিয়ার কৃষিকাজ এই মৌসুমি স্রোতপ্রবাহ ও তজ্জনিত বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভরশীল ছিল। বর্তমানে কৃষি পদ্ধতির পরিবর্তন সত্ত্বেও বাংলাদেশ ও ভারতের কৃষির একটা বড় অংশ এবং মৎস্য প্রজনন বর্ষার ওপর নির্ভরশীল।

গ্রীষ্ম ও শীতকালীন মৌসুমি স্রোত সামুদ্রিক পরিবহনের ওপরও প্রভাব বিস্তার করে। গ্রীষ্মের শুরুতে বিশেষত ভারত ও বাংলাদেশে খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য আমদানিতে গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি স্রোতের গতিপথে অল্প সময়ে জাহাজ উপকূলে পৌছাতে পারে। আবার শীতকালীন মৌসুমি স্রোত প্রবাহিত হয় পূর্ণ উৎপাদন মৌসুমের পর। উক্ত স্রোত পথে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, ইউরোপ বা আমেরিকাতে কম সময়ে জাহাজে পণ্য পরিবাহিত হয়।
আফ্রিকার উপকূলে উষ্ণ সোমালি, মোজাম্বিক, মাদাগাস্কার ও আগুলহাস স্রোত প্রবাহিত থাকার কারণে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় এবং এ এলাকাগুলো কৃষিকার্যে যথেষ্ট উন্নত। বাৎসরিক বৃষ্টিপাতের কারণে উক্ত এলাকাগুলোতে যথেষ্ট বর্ষজীবী উদ্ভিজ্জ জন্মাতে দেখা যায়। উষ্ণ স্রোতের গতিপথে সামুদ্রিক জাহাজগুলোও দ্রুত যাতায়াত করতে পারে।

সমুদ্রস্রোত সামুদ্রিক জীবকে কীভাবে প্রভাবিত করে?
প্রবালকীট ছোট সামুদ্রিক জীব। ক্রান্তীয় অঞ্চলের উষ্ণ পানিতে প্রবালটি ব্যাপকভাবে বাস করে। নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে পানির উষ্ণতা কম বলে সেখানে প্রবালকীট থাকে না। এরা মাছের মতো চলাফেরা করে খাদ্য গ্রহণ করতে পারে না। পানির মৃদু স্রোত এদের জন্য খাদ্য বহন করে আনে। আবার সমুদ্রস্রোত বেশি হলে এরা নষ্ট হয়ে যায়। স্রোতের ফলে এরা একস্থান হতে অন্য স্থানে বাহিত হতে পারে। এই প্রবালকীট বংশানুক্রমে একই স্থানে বাস করে এবং বহুদূরব্যাপী এদের মৃতদেহ ধীরে ধীরে সঞ্চিত ও বিস্তৃত হয়ে দ্বীপের সৃষ্টি করে। বাংলাদেশের সেন্টমার্টিন এরূপ একটি প্রবালদ্বীপ ।

উষ্ণ স্রোত প্রবাহিত থাকার কারণে মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও সুমাত্রা উপকূলের জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন থাকে এবং উপকূলীয় এলাকার বৃষ্টিপাতে স্রোতগুলো প্রভাব বিস্তার করে। অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিম উপকূলে প্রবাহিত স্রোতটি পর্যায়ক্রমে উষ্ণতাপ্রাপ্ত হয় বিধায় ঐ উপকূলে বৃষ্টিপাত কম হয়। ফলে উপকূলীয় এলাকায় জলাভূমি (দক্ষিণ পার্শ্বে) সৃষ্টি হয়েছে। তবে স্রোতের উত্তরাংশে উপকূল এলাকায় বৃষ্টিপাত বেশি বলে (উষ্ণতা বাড়ার কারণে) ঘন বনাঞ্চল সৃষ্টি হয়েছে।
উষ্ণ দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোতপথে অস্ট্রেলিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে জাহাজ আফ্রিকার পথে এবং আফ্রিকা থেকে নিরক্ষীয় বিপরীত স্রোত কিংবা গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি স্রোত পথে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচল করে।
সবদিক বিবেচনায় বলা যায়, ভারত মহাসাগরীয় স্রোতগুলো উপকূলীয় এলাকার জলবায়ু, কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব বিস্তার করে থাকে।

সুমদ্রস্রোত ও জোয়ার-ভাটা-প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরীর স্যার এর লেখা বই

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...