পাঠ-৯ ও ১০: বাংলাদেশের জনসংখ্যার জনমিতিক বৈশিষ্ট্য: নারী-পুরুষ অনুপাত ও অভিগমন

ভূগোল ২য় পত্র - ভূগোল - এইচএসসি | NCTB BOOK

1.4k

(Demographic Characteristics of Population in Bangladesh: Sex Ratio, Migration)

বাংলাদেশে 'জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে যাবার ফলে বয়স কাঠামোর উপর বিশেষ প্রভাব পড়ে। বাংলাদেশে আগের তুলনায় কর্মক্ষম লোকের সংখ্যা বাড়ছে এবং একই সাথে নির্ভরশীল জনসংখ্যার পরিমাণ কমছে। কোনো দেশের জনসংখ্যা কাঠামোতে কর্মক্ষম লোকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে তা অর্থনৈতিক উন্নতিকে ত্বরান্বিত করে।

সারণি-২.৮: বাংলাদেশের বয়স কাঠামো

বয়স শ্রেণিশতকরা হারপুরুষমহিলা
০-১৪২৭.৭২২,২৮৩,৭৮০২১,৫২১,৯৭৭
১৫-২৪১৯.৩৬১৫,৩০৯,৫৪৩১৫,২৪১,৯৭১
২৫-৫৪৩৯.৭৩৩০,০৯৪,০১৪৩২,৬১৪,২৮৬
২৫-৫৪৬.৯৩৫,৪০৫,৯০০৫,৫২৭,৩৩০
২৫-৫৪৬.২৩৪,৬৬৬,০৩২৫,১৬১,৭৪৪

উৎস: Bangladesh Demographic profile 2018
সূত্র: CIA World Factbook, 2018

এ বয়স কাঠামোতে নারী-পুরুষের অনুপাত তাৎপর্যময় জনমিতিক বৈশিষ্ট্য।
নারী-পুরুষের অনুপাত: বাংলাদেশে ২০০৪ সাল পর্যন্ত নারীর তুলনায় পুরুষের সংখ্যা বেশি ছিল। বর্তমান নারী পুরুষের অনুপাতে সামঞ্জস্য এসেছে। বাল্যবিবাহ, সন্তান প্রসবকালীন মৃত্যু, অপরিণত বয়সে গর্ভধারণ, যথাযথ চিকিৎসা ও পুষ্টির অভাব প্রভৃতি কারণে বাংলাদেশে নারীর মৃত্যুহার বেশি। তবে বর্তমানে এসব ব্যবস্থার উন্নতির ফলে নারী মৃত্যুহার অনেকাংশে কমেছে।

সালপুরুষমহিলা
১৯৯১১০৬.২৬১০০
২০০৪১০৪.১১০০
২০১১৯৯.৬৮১০০
২০১৮১০০.৩০১০০

উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো-২০১৮
সূত্র: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। www.bangladesh.gov.bd

অভিগমন: বাংলাদেশের জনসংখ্যার অন্যতম বৈশিষ্ট্য অভিগমন। এদেশে গ্রাম থেকে শহরে অভিগমন ব্যাপক, বিস্তৃত এবং দ্রুত। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৮০ ভাগ গ্রামে বসবাস করে। বাংলাদেশে ৮টি বিভাগীয় শহর রয়েছে এবং নগরায়ণের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অত্যধিক পরিমাণ জনসংখ্যা বসবাস করে। বর্তমানে বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ৩৫.০৬ শতাংশ নগরে বাস করে এবং নগরায়ণের হার ৩.৫% (সূত্র- বিশ্ব ব্যাংক-২০১৮)। এছাড়া গ্রাম থেকে গ্রামে বিবাহজনিত কারণে কেবল নারীদের অভিগমন উল্লেখযোগ্য।

অপরদিকে আন্তর্জাতিক অভিগমনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে বহিঃগমনকারীর সংখ্যা আগমনকারীর তুলনায় অনেক বেশি (মায়ানমার থেকে বলপূর্বক রোহিঙ্গা আগমন বিবেচনা না করে)। যে কারণে নিট অভিগমন হারে বাংলাদেশের মান ঋণাত্মক। কিন্তু বাংলাদেশে বহিঃগমনের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

সারণি-২.১০ বাংলাদেশের অভিগমনের হার (হাজারে)

সালঅভিগমনের হার
২০১৫-৩.২৩
২০১০-৪.৮৩
২০১০-২.২৪
সালঅভিগমনের হার
২০০০-১.২১
১৯৯৫-১.৪২
১৯৯০-০.৪৪
১৯৮৫-১.৮০
১৯৮০-২.৮২
  • বহি:অভিগমনকারীর সংখ্যা আগমনকারীর তুলনায় অধিক, যা ঋণাত্মক (-) চিহ্ন দ্বারা সূচিত।

সূত্র: World Data Atlas-2018

বাংলাদেশের জনসংখ্যার আরও কিছু বৈশিষ্ট্য এ প্রেক্ষিতে উল্লেখ করা হলো-

i. নৃগোষ্ঠী: বাংলাদেশের অধিক সংখ্যক লোক (প্রায় ৯৮%) বাঙালি। এছাড়া কিছু ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ২% রয়েছে যেমন: খাসিয়া, সাঁওতাল, চাকমা, মারমা, গারো, বিহারী, মুন্ডা এবং রোহিঙ্গা। বাংলাদেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর এক বিশাল অংশ পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাস করে। রোহিঙ্গারা মূলত মায়ানমার থেকে আগত। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার মধ্যে বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।
ii. ভাষাগত বৈশিষ্ট্য: বাংলাদেশের মানুষের প্রধান ভাষা বাংলা। এটি জাতীয় ভাষা (৯৫% জনগণ) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া চট্টগ্রাম, সিলেট নোয়াখালীতে কিছু উপভাষা রয়েছে। আদিবাসীদের কিছু নিজস্ব ভাষা রয়েছে যেমন: খাসিয়া, জৈয়ন্তিয়া, বিষ্ণুপ্রিয়া, মণিপুরী, আরাকানীয়, চাকমা, গারো, হো, এবং কুরুখ।
iii. ধর্মভিত্তিক বৈশিষ্ট: ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশে ৮৬.৬% লোক মুসলমান, ১২.১% লোক হিন্দু, ০.৬% লোক বৌদ্ধ, ০.৪% খ্রিস্টান এবং অন্যান্য ০.১%। বাংলাদেশের মুসলমানদের মধ্যে অধিকাংশ সুন্নী (প্রায় ৯৫%) এবং অন্য মুসলমানরা শিয়া সম্প্রদায়ের অন্তর্গত।

চিত্র-২.২: বাংলাদেশের জনসংখ্যার ধর্মভিত্তিক অবস্থানের গ্রাফচিত্র।

iv. শিক্ষাগত বৈশিষ্ট্য: উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশে শিক্ষিতের হার তুলনামূলকভাবে কম। বর্তমানে বাংলাদেশে শিক্ষার হার ৭২.৯% (সূত্র: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৮)। পূর্বের তুলনায় বাংলাদেশে অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন লোকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নারী শিক্ষার হারও আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বিরাট অংশ শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকায় দেশের উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে।
সারণী-২.১১: বাংলাদেশের শিক্ষার হার (%)

সালমোটমহিলাপুরুষ
১৯৯১২৪.৯০১৯.৫০৩০.০০
২০০৪৩৮.০৬৩৫.৩১৪০.৭০
২০১১৪৭.৬৮৪৫.৫৪৪৯.৮২
২০১৮৭২.৯৬৯.৯৭৫.৬

উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (২০১১ সালের সর্বশেষ আদমশুমারি অনুসারে)

v. পেশাগত বৈশিষ্ট্য: বাংলাদেশের অধিকাংশ লোক প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে কৃষি ও কৃষিভিত্তিক পেশার সঙ্গে জড়িত। কৃষিতে ৩৯.০৭%, শিল্পে ২১.০৯% এবং অন্যান্য সেবা খাতে ৩৯.৮৫% লোক জড়িত (সূত্র: statista, 2018)। ২০১১ সালের সর্বশেষ আদমশুমারি অনুযায়ী মোট জনসংখ্যার ৩৭.৮% লোক কর্মক্ষম বা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। মোট ৫.৪১ কোটি শ্রমিকের মধ্যে পুরুষ ৩.৭৯ কোটি ও নারী ১.৬২ কোটি (সূত্র: বিইএস)।

দূষণ ও দুর্যোগ- প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী- স্যারে লেখা বই

Content added || updated By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...