(River Bank Erosion)
সংজ্ঞা: পানি প্রবাহের কারণে নদীখাতে সৃষ্ট পার্শ্বক্ষয়কে নদীভাঙণ বলে। নদীভাঙনের কারণ: নদী ভাঙন বহুবিধ কারণে সংঘটিত হতে পারে। প্রধান কারণগুলোর মধ্যে বন্যা, অপরিকল্পিত ভূমি ব্যবহার, নদী ব্যবস্থাপনার ত্রুটি, অববাহিকাতে অতিরিক্ত বৃক্ষ কর্তন, নদীখাত থেকে অপরিকল্পিত বালু ও পাথর উত্তোলন প্রভৃতি ভাঙন ত্বরান্বিত করে। নিম্নলিখিত বিষয়গুলো বাংলাদেশের নদী ভাঙনের প্রভাবক হিসাবে চিহ্নিত করা যায়-
১. নদীখাত অতিরিক্ত নিম্ন কিংবা পরিপূর্ণ হয়ে যাওয়া-এক্ষেত্রে অতিশয় খাড়া পাড় মাধ্যাকর্ষণজনিত টানে ভেঙে পড়ে। পরিপূর্ণ খাতের ক্ষেত্রে স্রোতের তোড়ে ভাঙন সৃষ্টি হয়।
২. প্লাবনের সময়ে নদী পাড়ের মৃত্তিকাতে দ্রুত পানি প্রবাহিত হয়ে তা আলগা হয়ে যায় এবং স্রোতের সাথে বহুদূর প্রবাহিত হয়।
৩. পাহাড়ি ঢলে নদীতীরের মৃত্তিকা সম্পৃক্ত ও আলগা হয়ে ভাঙনের সৃষ্টি হয়।
৪. নদীখাতের মধ্যে স্রোতের দিক ও বেগ পরিবর্তনের ফলে সম্মুখভাগে ভগ্নতট এবং অপর পাড়ে ঢালু ভূমির সৃষ্টি হয়।
৫. নদীর তরঙ্গের আঘাতও ভাঙনের অন্যতম কারণ।
৬. অতিরিক্ত বর্ষণের ফলে অববাহিকার পানি দ্রুত নদীখাতের দিকে ধাবিত হবার সময় তীর ভাঙনের সূচনা হয়।
৭. নদী উপত্যকা থেকে অপরিকল্পিত এবং অতিমাত্রায় বালু ও পাথর উত্তোলন ভাঙনের একটি কারণ। বাংলাদেশের বিভিন্ন নদীতে বর্তমানে এই প্রক্রিয়ায় ভাঙনের সৃষ্টি হচ্ছে। যেমন- সুরমা।

নদীভাঙন প্রতিকার (Remedies of River Bank Erosion)
১. নদীর দু'তীরে বেড়ি বাঁধ নির্মাণ সাধারণভাবে ভাঙন প্রতিরোধের একটি প্রধান উপায়।
২. বর্ষা মৌসুমে নদী থেকে পানি অপসারণ করে (যেমন- খাল কেটে) স্রোতপ্রবাহ স্বাভাবিক খাত বরাবর রাখতে পারলে ভাঙন নিয়ন্ত্রিত হয়।
৩. বেড়িবাঁধের উপর গাছপালা লাগালেও মৃত্তিকার বাঁধন শক্ত থাকে।
৪. বাঁকের মুখে তলদেশ থেকে তীরভূমি পর্যন্ত পাথর বা সিমেন্টের বার ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
নদীভাঙন নদীমাতৃক দেশের স্বাভাবিক চিত্র। এটি নদীশাসনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও সম্পূর্ণ প্রতিরোধ সম্ভবপর নয়।
ভূমিরূপ পরিবর্তন. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এর লেখা বই
Read more