hsc

সমোন্নতি রেখা থেকে ভূমিরূপ: পর্বত, পাহাড়, মালভূমি, শৈলশিরা, নল (পাঠ-১০)

ভূগোল ১ম পত্র - ভূগোল - এইচএসসি | NCTB BOOK

2

(Landform from Contours)

পর্বত (Mountain): সমুদ্রতল থেকে অন্তত ১০০০ মিটারের বেশি উঁচু সুবিস্তৃত ও খাড়া ঢালবিশিষ্ট শিলাস্তূপকে পর্বত বলে। পর্বতের সমোন্নতি রেখাগুলোর মান ক্রমশ ভিতর দিকে বর্ধিত হয়। চিত্রে সমোন্নতি রেখার প্রকৃতি দেখে পর্বতটি কিরূপ অর্থাৎ এটি দীর্ঘ সংকীর্ণ, বিস্তৃত প্রশস্ত বা সমতল শীর্ষবিশিষ্ট কি না তা বুঝতে পারা যায়।

শাঙ্কব আকৃতির পাহাড় (Conical hill): চারিদিক থেকে ভূমি প্রায় সমান হারে উঁচু হয়ে উঠে যে পাহাড়ের সৃষ্টি করে
তাকে শাঙ্কব আকৃতির পাহাড় বলে। যদি ঢাল সব দিকে সমান হয় তবে সমোন্নতি রেখাগুলো বৃত্তাকার হবে। এইরূপ বৃত্তাকার সমোন্নতি রেখাগুলোর কেন্দ্রে যদি একটি বিন্দু থাকে ও এর উচ্চতা লেখা থাকে তা হলে পাহাড়ের চূড়া শাঙ্কব আকৃতির হয়।

আগ্নেয়গিরি (Volcano): ভূপৃষ্ঠের কোনো দুর্বল অংশ দিয়ে পৃথিবীর অভ্যন্তরস্থ উত্তপ্ত গলিত পদার্থ নির্গত ও তা সঞ্চিত হয়ে যে পাহাড়ের সৃষ্টি করে তাকে আগ্নেয়গিরি বলে। সাধারণ শাঙ্কব আকৃতির পাহাড় থেকে এর পার্থক্য এই যে, আগ্নেয়গিরির কেন্দ্রস্থলে একটি গহ্বর বা মুখ থাকে, এই মুখ জ্বালামুখ নামে পরিচিত। শাঙ্কব আকৃতির আগ্নেয়গিরির সমোন্নতি রেখা অঙ্কন করার সময় সাবলীল হাতে একটির মধ্যে অন্য বৃত্তগুলো অঙ্কন করতে হয়। মধ্যস্থলে জ্বালামুখের অবস্থান দেখাবার জন্য মধ্যের বৃত্তটির পরিধি থেকে কেন্দ্রের দিকে কতিপয় রেখা অঙ্কন করতে হয়, অবশ্য এই রেখাগুলো পরস্পর মিলিত হবে না।

দুই শৃঙ্গবিশিষ্ট পাহাড় (Double peak hill): এক বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে কয়েকটি সমোন্নতি রেখা বৃত্তাকারে অবস্থিত
হলে এবং তারপর এর দুই অংশে স্বতন্ত্রভাবে রেখা অঙ্কিত থাকলে বুঝতে হবে যে, এক বিস্তৃত পার্বত্য অঞ্চলের ঐ স্থানে দুইটি শৃঙ্গ রয়েছে। দুই শৃঙ্গবিশিষ্ট এইরূপ বৃহৎ পাহাড়কে ম্যাসিফ (Massif) নামেও অভিহিত করা হয়। যেমন- হিমালয়ে K-2 শৃঙ্গ।

মালভূমি (Plateau): মালভূমি বলতে সাধারণভাবে উন্নত সমতলভূমিকে বোঝানো হয়। এর পার্শ্বদেশ অত্যন্ত খাড়া এবং বিভিন্ন নদী দ্বারা ক্ষত-বিক্ষত। অনেক সময় বিভিন্ন নদী দ্বারা মালভূমি ব্যবচ্ছেদিত হয়। পার্শ্বের চিত্রের পশ্চিম সীমা কিছু অংশ সামান্য উঁচু হয়ে যাবার পর বহুদূর পর্যন্ত প্রায় সমতল, কিন্তু তা পূর্ব সীমায় আবার নিচু হয়েছে। এইরূপ ভূমিরূপকে মালভূমি বলা হয়।

শৈলশিরা (Ridge): দূরে দূরে বিন্যস্ত সমোন্নতি রেখার মধ্যে যদি কোথাও ঘন ঘন দুই একটি সমোন্নতি রেখা থাকে তবে তা একটি উচ্চভূমি নির্দেশ করে। এইরূপ নাতি উচ্চভূমিকে শৈলশিরা বলে। পাশের চিত্রে শৈলশিরা দেখানো হয়েছে। এর স্বল্প ব্যবধান বিশিষ্ট ১০০' ও ২০০' ফুট সমোন্নতি রেখা একটি স্থানকে ঘিরে রয়েছে। এর মধ্যস্থলের অতি দীর্ঘ অংশটির উচ্চতা সর্বত্র প্রায় সমান অর্থাৎ কোথাও ৩০০' ফুট পর্যন্ত উচ্চ নয়। এইরূপ সমোন্নতি রেখার প্রস্থচ্ছেদ অঙ্কন করলে দেখতে পাওয়া যায় যে স্থানটি দুই পার্শ্বে প্রায় সমানভাবে উঁচু হয়েছে কিন্তু মধ্যের বিস্তীর্ণ অংশের উচ্চতা প্রায় সমান।

নল বা ক্ষুদ্র টিলা (Knoll): পাহাড় ও টিলা অপেক্ষা নিম্ন ইতস্তত বিচ্ছিন্ন নাতি উচ্চ ঢিবি জাতীয় সাধারণত গোলাকৃতি স্বতন্ত্র উচ্চ ভূমিকে নল বা গোলাকার ক্ষুদ্র - টিলা নামে অভিহিত করা হয়।
আর যদি সেই ভূমি অপেক্ষাকৃত উঁচু হয় তা হলে একে ছোট পাহাড় বলা হয়। সমভূমি
অন্যলে প্রায়ই শিলারাশি সঞ্চিত হয়ে ক্ষুদ্র টিলা আকৃতির নলের সৃষ্টি করে। ক্রমে এইরূপ ভূভাগে লোক বসতি গড়ে উঠে। পাহাড়ের গায়ে ভূভাগ হঠাৎ অভিক্ষিপ্ত হয়েও নলের সৃষ্টি করে।

পৃথিবীর গঠন - প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরীর এর লেখা বই

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...