hsc

পাঠ-৪: তাপের আনুভূমিক বিন্যাস

ভূগোল ১ম পত্র - ভূগোল - এইচএসসি | NCTB BOOK

1.1k

(Horizontal Distribution of Temperature)

বিশ্বের উত্তাপের বিন্যাস সম্পর্কে ধারণা লাভের জন্য জানুয়ারি ও জুলাই মাসকে আদর্শ (Standard) ধরা সুবিধাজনক। এই দুই মাসের উষ্ণতার মধ্যে চরমভাব লক্ষ করা যায়। সূর্যের অবস্থান সাপেক্ষে এই দুই মাসের গড় উষ্ণতা হিসাব করে সমোষ্ণরেখার (Isotherm) সাহায্যে তাপমাত্রার বিন্যাস দেখানো হয়।

১. জুলাই মাসে তাপের বিন্যাস: গ্রীষ্মকালে সূর্য উত্তর গোলার্ধে অবস্থান করে। আর দক্ষিণ গোলার্ধ এ সময় সূর্য থেকে অনেক দূরে থাকে। জুলাই মাসে উত্তর গোলার্ধে সর্বাধিক উষ্ণতা বিরাজ করে।

ক. উত্তর গোলার্ধে তাপের বিন্যাস: জুলাই মাসে ৪৫°সে, সমোষ্ণরেখা সাহারা মরুভূমির ক্ষুদ্র এলাকা বেষ্টন করে থাকে। তারপর থেকে কমতে থাকে। ৩০°সে. সমোষ্ণরেখা দ্বারা সৃষ্ট নিম্নচাপ বৃত্তগুলো যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে, আফ্রিকার উত্তর দিকে এবং এশিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমে স্থান করে নেয়। এ সময় এসব অঞ্চলে রীতিমতো উত্তাপ (> ২৫° সে.) বিরাজ করে। ° উত্তর অক্ষাংশের অঞ্চলগুলোতে বেশি তাপ অনুভূত হয়। এভাবে ধীরে ধীরে সমতাপ রেখাগুলোর মান দক্ষিণ থেকে উত্তরে কমতে থাকে। তবে উত্তর মেরু থেকে আগত শীতল সমুদ্রস্রোত। প্রবাহিত অঞ্চলে সমোষ্ণরেখাগুলোর স্বাভাবিক অবস্থা পরিবর্তিত হয়। জলভাগের ওপর সমোষ্ণরেখা প্রায় সমান্তরাল থাকে।

খ. দক্ষিণ গোলার্ধে তাপের বিন্যাস: স্বাভাবিকভাবে উত্তর গোলার্ধে যখন গ্রীষ্মকাল, দক্ষিণ গোলার্ধে তখন
শীতকাল। দক্ষিণ গোলার্ধে স্থলভাগ কম থাকায় সমোষ্ণরেখাগুলো প্রায় সোজাভাবে পূর্ব-পশ্চিমে প্রলম্বিত হয়। এই গোলার্ধে ২৫°সে. সমোষ্ণরেখা থাকে না। ২০°সে. সমোষ্ণরেখা দক্ষিণ গোলার্ধে প্রায় ° অক্ষাংশের ওপর অবস্থান করে। জলরাশির ওপর সমান্তরালভাবে বিস্তৃত সমোষ্ণরেখাগুলো স্থলভাগ অতিক্রম করার সময় স্থানীয় কারণে বেশ বাঁকা হয়ে যায়। নিরক্ষরেখা থেকে যত দক্ষিণে যাওয়া যায় তত এ রেখাগুলোর মান কমতে থাকে। বেশ দক্ষিণে ° সে. সমোষ্ণরেখা প্রায় ° অক্ষাংশের কাছ দিয়ে সমান্তরাল অবস্থান সৃষ্টি করে অগ্রসর হয়।

২. জানুয়ারি মাসে তাপের বিন্যাস: জানুয়ারি মাসে উত্তর গোলার্ধে শীতকাল আর দক্ষিণ গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল। এ সময় তাপ শোষণ ক্ষমতা অনুযায়ী নিকটবর্তী সমুদ্র অপেক্ষা স্থলভাগ অধিক শীতল হয়। সমোষ্ণরেখাগুলো সমুদ্রের ওপর উচ্চ অক্ষাংশের দিকে এবং স্থলভাগে নিম্ন অক্ষাংশের দিক থেকে অগ্রসর হয়।

ক . উত্তর গোলার্ধে তাপের বিন্যাস: জানুয়ারি মাসে উত্তর গোলার্ধে ° সে. সমোষ্ণরেখা সামান্য আঁকাবাঁকাভাবে অবস্থান করে। এটি উত্তর আমেরিকা, আফ্রিকা ও এশিয়ার °-° অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থান করে। কর্কটক্রান্তি রেখার উত্তর দিকে ১৫°সে. সমোষ্ণরেখা অগ্রসর হয়। মধ্য প্রশান্ত ও আটলান্টিক মহাসাগরে এটি উচ্চ অক্ষাংশের দিকে বাঁক নিয়ে ° অক্ষাংশের দিকে অগ্রসর হয়। ১০°সে. সমোষ্ণরেখা প্রশান্ত মহাসাগরের °অক্ষাংশে পৌছলে সেখানে উষ্ণ ও শীতল স্রোতের প্রভাবে আঁকাবাঁকাভাবে অবস্থান নেয়। ° সে. সমোষ্ণরেখাটি উত্তর আমেরিকার মধ্যভাগে ° অক্ষাংশের নিকট দিয়ে যায়। তবে এটি আটলান্টিক মহাসাগরের উত্তর-পূর্বে °অক্ষাংশের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়। এটি আবার ইউরোপ ও এশিয়া মহাদেশের °-° অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থান করে।
এ মাসে পৃথিবীর শীতলতম এলাকা হচ্ছে উত্তর-পূর্ব সাইবেরিয়া এবং গ্রিনল্যান্ড। মেরুর নিকটবর্তী এলাকার আবহাওয়া সংক্রান্ত বেশি তথ্য পাওয়া যায় না।

খ. দক্ষিণ গোলার্ধে তাপের বিন্যাস: জানুয়ারি মাসে দক্ষিণ গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল থাকায় সমুদ্র অপেক্ষা স্থলভাগের উষ্ণতা বেশি থাকে। এই গোলার্ধে জলভাগ বেশি থাকায় সমোষ্ণরেখাগুলো অনেকটা সমান্তরালভাবে চলে এবং ভূভাগে বেঁকে যায়।
এ সময় অস্ট্রেলিয়া ও আফ্রিকার দক্ষিণাংশ, দক্ষিণ আমেরিকার মধ্যভাগের কিছু অংশে পৃথিবীর সর্বোচ্চ তাপ অনুভূত হয়। এখানে ৩০°সে. সমোষ্ণরেখা বৃত্তাকারে এসব অঞ্চলে নিম্নচাপ বৃত্তের সৃষ্টি করে। এর কাছাকাছি ২৫° সে. সমোষ্ণরেখা ° অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থান করে এবং বিষুবরেখা অতিক্রম করে। এর পরে সমোষ্ণরেখাগুলো প্রায় সমান্তরালভাবে পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত হয়।

বায়ু তাপের উলম্ব বিস্তার (Vertical Distribution of Temperature)

লক্ষণীয় যে, বিষুবরেখা থেকে যত উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর দিকে যাওয়া যায় তত উত্তাপ কমতে থাকে। আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ভূপৃষ্ঠ থেকে যতই উপরের দিকে যাওয়া যায় বায়ুর তাপমাত্রা ততই কমতে থাকে। তবে এই কমার হার সর্বত্র এক রকম নয়। সাধারণত ওপরের দিকে প্রতি ১০০০ ফুট উচ্চতায় বায়ুর তাপ কমে .° ফা (৬.৫°c/km.)। কখনও কখনও এই হার ° ফা./১০০০' ও হতে পারে। একে বায়ু তাপের স্বাভাবিক তাপ হ্রাস (normal lapse rate) বলে। পৃথিবীপৃষ্ঠে স্থানভেদে তাপ হ্রাসের হারে সামান্য পরিবর্তন ঘটে। এক্ষেত্রে দিবাভাগের দৈর্ঘ্য, ঋতু পরিবর্তন এবং পৃথিবী পৃষ্ঠের বৈচিত্র্যময় ভূপ্রকৃতি প্রভৃতি প্রভাব বিস্তার করে থাকে।

জলবায়ুর উপাদান ও নিয়ামক - কে. আশরাফুল আলম ও মো. শরিফুল ইসলাম স্যার এর লেখা বই

Content added || updated By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...