hsc

আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত (পাঠ-৫)

ভূগোল ১ম পত্র - ভূগোল - এইচএসসি | NCTB BOOK

1.2k

(Volcanic Eruption)

ভূপৃষ্ঠের ফাটল বা ছিদ্রপথে ভূঅভ্যন্তরস্থ বাষ্প, ধূম্র, ভস্ম কিংবা অ্যাসথেনোস্ফিয়ারের গলিত পদার্থ সজোরে বিস্ফোরণসহ অথবা বিস্ফোরণ ছাড়া ধীরে ধীরে নির্গত হতে পারে যাকে অগ্ন্যুৎপাত বলে। অগ্ন্যুৎপাতের ফলে নির্গত ভস্ম, গলিত লাভা এবং অন্যান্য পদার্থ জমাট বেঁধে বিভিন্ন আকারের সুউচ্চ কিংবা স্বল্পোচ্চ ভূমিরূপ সৃষ্টি করে যেগুলো আগ্নেয়গিরি নামে পরিচিত। ইতালির ভিসুভিয়াস, আইসল্যান্ডের হ্যাকলা, হাওয়াই দ্বীপের মৌনলোয়া এবং জাপানের ফুজিয়ামা প্রভৃতি বিশ্বের বিখ্যাত আগ্নেয়গিরি।

আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণ: বিভিন্ন কারণে ভূপৃষ্ঠের দুর্বল অংশে ছিদ্রপথে কিংবা ফাটলের মধ্য দিয়ে অগ্ন্যুৎপাত বা লাভা উদগিরণ হতে পারে। তন্মধ্যে নিম্নলিখিত কারণসমূহ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য:

(i) পৃথিবীর অধিকাংশ আগ্নেয়গিরি প্লেট সীমানায় অবস্থিত। পাশাপাশি দুটি প্লেট দুদিকে সরে গেলে ঐ সময় ভূগর্ভস্থ গলিত ও অর্ধগলিত পদার্থ, বাষ্প ও ভস্ম ইত্যাদি প্রবলবেগে বাইরে উৎক্ষিপ্ত হয়ে অগ্ন্যুৎপাত ঘটায়।
(ii) বিচূর্ণীভবন, ক্ষয়ীভবন ও নগ্নীভবনের ফলে ভূপৃষ্ঠের কোনো কোনো অংশ কখনও কখনও ক্ষয়প্রাপ্ত হলে ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগের চাপ হ্রাস পায়। এতে ভূঅভ্যন্তরের গলিত ম্যাগমা ও গ্যাসীয় পদার্থসমূহের চাপ বৃদ্ধি পায় এবং কোনো অংশ দিয়ে প্রবলবেগে ভূপৃষ্ঠের বাইরে চলে আসে এবং আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত সৃষ্টি হয়।
(iii) ভূঅভ্যন্তরে খনিজসমূহে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটলে তাপ ও বায়বীয় পদার্থের সৃষ্টি হয়। এ সকল পদার্থ ভূত্বকে প্রচণ্ড চাপ দেয় এবং কখনও তা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভূত্বকে ফাটল সৃষ্টির মাধ্যমে অগ্ন্যুৎপাত ঘটায়।
(iv) ভূঅভ্যন্তরে রেডিয়াম, থোরিয়াম ও ইউরেনিয়াম প্রভৃতি তেজস্ক্রিয় পদার্থ কখনও কখনও ভূগর্ভে প্রচন্ড তাপের সৃষ্টি করে। এতে ভূগর্ভাস্থ পদার্থসমূহ আয়তনে বৃদ্ধি পায়। ফলে ভূত্বক ফেটে গিয়ে অগ্ন্যুৎপাতের সৃষ্টি হয়।
(v) ভূপৃষ্ঠের পানি কখনও কখনও কোনো ফাটল বা ছিদ্রপথের মাধ্যমে ভূঅভ্যন্তরে প্রবেশ করলে তা ভূঅভ্যন্তরের তাপে বাষ্পে পরিণত হয় এবং উপরস্থ ভূপৃষ্ঠে ফাটলের সৃষ্টি করে অগ্ন্যুৎপাতে সাহায্য করে।
(vi) ভূআন্দোলনের ফলে কখনও কখনও ভূপৃষ্ঠ ফেটে যায়। ফলে ভূগর্ভস্থ গলিত লাভা এ ফাটলের মধ্য দিয়ে প্রবলবেগে ভূপৃষ্ঠে এসে উপনীত হয়। এতেও আগ্নেয়গিরি সৃষ্টি হয়।
(vii) ভূপৃষ্ঠ সর্বদাই তাপ বিকিরণ করে শীতল ও সংকুচিত হচ্ছে। এতে ভূঅভ্যন্তরের সাথে ভূত্বকের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এ কারণে ভূত্বকে চ্যুতি ও ভাঁজের সৃষ্টি হয়। এ ফাটল দিয়ে লাভা উদগিরণ হয়ে আগ্নেয় পর্বতের সৃষ্টি করে।

(viii) ভূত্বকের শিলারাশির চাপের হ্রাস এবং ভূগর্ভে সঞ্চিত বাষ্পরাশির চাপ বৃদ্ধির ফলে কঠিন উত্তপ্ত শিলা তরল হয় এবং আয়তনে বৃদ্ধি পায়। ম্যাগমা গহ্বরে সঞ্চিত এসব তরল শিলা বা ম্যাগমা ভূত্বকের দুর্বল স্থান ভেদ করে ভূপৃষ্ঠে বেরিয়ে অগ্ন্যুৎপাত ঘটায়।

ভূমিরূপ পরিবর্তন. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এর লেখা বই

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...