hsc

পাঠ-৯: বাংলাদেশের অর্থনীতিতে খনিজ সম্পদের গুরুত্ব-

ভূগোল ২য় পত্র - ভূগোল - এইচএসসি | NCTB BOOK

13

(Importance of Mineral Resources in Bangladesh Economy)

খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ না হলেও প্রাকৃতিক গ্যাসের উত্তোলন ও ব্যবহার এ দেশের অর্থনীতিকে সম্ভাবনাময় করে তুলেছে। প্রাকৃতিক গ্যাস ছাড়াও অন্যান্য খনিজ সম্পদের সুষম ও যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে আমাদের জাতীয় অর্থনীতিকে সুদৃঢ় অবস্থানে নেওয়া সম্ভব।

১. কৃষি উন্নয়ন: বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নে খনিজ সম্পদ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রাকৃতিক গ্যাস দ্বারা সার ও কীটনাশক তৈরি করা হয়। আবার বিভিন্ন ধরনের কৃষি যন্ত্রপাতিও (কুদাল, দা, কাস্তে) তৈরি করা হয় খনিজ সম্পদের মাধ্যমে।
২. শিল্পোন্নয়ন: বাংলাদেশের শিল্পোন্নয়নেও খনিজ সম্পদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। খনিজ পদার্থ শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেমন- প্রাকৃতিক গ্যাস শুধু শিল্পের জ্বালানি হিসেবেই ব্যবহৃত হয় না বরং রাসায়নিক শিল্পের (রং, গ্রিজ) কাঁচামাল হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। খনিজ সম্পদের ওপর ভিত্তি করে ছোট-বড় অনেক কলকারখানা গড়ে উঠেছে। তন্মধ্যে চুনাপাথর, সিলিকা বালি ইত্যাদি শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
৩. বিদ্যুৎ উৎপাদন: বাংলাদেশের তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে প্রাকৃতিক গ্যাস, খনিজ তেল ও কয়লা দ্বারা বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে, যা আমাদের শিল্পোন্নয়ন ও প্রাত্যহিক জীবনে বিরাট ভূমিকা রাখছে। আমাদের দেশে উৎপাদিত বিদ্যুতের ৯০.৬৬% গ্যাসভিত্তিক (সূত্র-পেট্রোবাংলা)।
৪. গৃহস্থালির জ্বালানি: বাংলাদেশের প্রাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাস শুধু শিল্পের কাঁচামাল হিসেবেই ব্যবহৃত হয় না, এগুলো গৃহস্থালিতে জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। যেমন- ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ শহরে।
৫. সরকারি আয়ের উৎস: বিভিন্ন প্রকার খনিজ সম্পদ বিশেষ করে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করে সরকার প্রতিবছর প্রচুর পরিমাণে অর্থ আয় করে থাকে, যা বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা হয়।
৬. পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা: বাংলাদেশে প্রাপ্ত নুড়িপাথর ও কঠিন শিলা রেল লাইন, রাস্তাঘাট, পুল ও কালভার্ট ইত্যাদি নির্মাণ ও মেরামতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। আবার পরিবহন তৈরিতেও বিভিন্ন প্রকার খনিজ সম্পদ ব্যবহৃত হয়। তাই পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে খনিজ সম্পদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৭. রপ্তানি আয় বৃদ্ধি: খনিজ সম্পদ ব্যবহারের ফলে কৃষি উন্নয়ন ও শিল্পোন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। ফলে কৃষি ও শিল্প উভয়ক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে উদ্বৃত্ত পণ্য দেশের বাইরে রপ্তানি করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।
৮. আমদানি ব্যয় হ্রাস: খনিজ সম্পদ ব্যবহারের ফলে কৃষি ও শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি করতে হচ্ছে না। ফলে আমদানি হ্রাস পাচ্ছে।

৯. অর্থনৈতিক উন্নয়ন: বাংলাদেশে প্রাপ্ত বিভিন্ন খনিজ সম্পদকে যথার্থ ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি, শিল্প এবং পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের সঠিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে।
১০. মুদ্রার অপচয় হ্রাস: দেশে খনিজ সম্পদের প্রাচুর্য থাকলে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে খনিজ সম্পদ আমদানির প্রয়োজন পড়ে না।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে এ কথা বলা যায় যে, খনিজ সম্পদ যেকোনো দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পদ। কোনো দেশের উন্নয়ন এবং দ্রুত শিল্পায়নের ক্ষেত্রে এর কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশ খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ নয়। তবুও যে সীমিত সংখ্যক খনিজ সম্পদ পাওয়া গেছে সেগুলো আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সরকার যদি পরিকল্পিত উপায়ে খনিজ সম্পদের অনুসন্ধান, উত্তোলন ও ব্যবহার করে তবে তা বাংলাদেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে।

খনিজ ও শক্তি সম্পদ-মো: আবদুল কুদ্দুস স্যারে লেখা বই

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...