hsc

পাঠ-৯: বিশ্বব্যাপী চা এর উৎপাদন, বণ্টন এবং অর্থনৈতিক গুরুত্ব

ভূগোল ২য় পত্র - ভূগোল - এইচএসসি | NCTB BOOK

17

(Worldwide Production, Distribution and Economic Importance of Tea)

এশিয়া মহাদেশে বিশ্বের প্রায় ৮০% চা উৎপন্ন হয়। আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা এবং ইউরোপে অবশিষ্ট চা (২০%) উৎপন্ন হয়। অধিকাংশ চা বাগান এশিয়ার বৃষ্টিবহুল মৌসুমি এবং নিরক্ষীয় অঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় অবস্থিত। আফ্রিকার চা বাগানগুলো পূর্বাঞ্চলীয় বৃষ্টিবহুল পার্বত্য এলাকায় অবস্থিত।

সারণি-৪.৮: মহাদেশ ভিত্তিক চা পাতা উৎপাদন (২০১৭)

মহাদেশজমি (হেক্টর)মোট ফলন (মেট্রিক টন)
এশিয়া৩৭৫৯৭৯৬৫৪৩৪৩৭০
আফ্রিকা৩৮৪৮০১৮১০২৬২
দক্ষিণ আমেরিকা৪২৪৫৬৮১০২৬২
অস্ট্রেলিয়া৩৯৪৩৫৫৮৯
উত্তর আমেরিকা১৪৫৪১০০৯
ইউরোপ৭৩৬৬৮৮
সমগ্র বিশ্ব৪১৯৩১৭৬৬৩৩৭৯৬৮

উৎস: FAOSTAT.February, 2020

প্রধান প্রধান চা উৎপাদনকারী দেশ

১. চীন: ধারণা করা হয়, চীনে সর্বপ্রথম বুনো অবস্থা থেকে চা গাছকে চায়ের আওতায় আনা হয়। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় চা উৎপাদনকারী দেশ চীন। এখানে প্রধানত পাঁচ ধরনের চা উৎপাদিত হয়। যথা: কালো, সবুজ, জেসমিন, ওলো এবং ইস্টক চা। প্রধানত রপ্তানির উদ্দেশ্যে দেশটিতে কালো চা উৎপাদন করা হয়। ইয়াংসি নদীর দক্ষিণে অবস্থিত সিচুয়ান, হুনান, আনহুই, ফুকিয়েন প্রদেশের বর্ষণমুখর পার্বত্য ঢালে অধিক চা বাগান গড়ে উঠেছে।

২. ভারত: বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষস্থানীয় চা উৎপাদনকারী দেশ ভারত। এ দেশে কয়েক হাজার চা বাগান রয়েছে। বেশিরভাগ বাগান আসাম এবং পশ্চিমবঙ্গের বৃষ্টিবহুল পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত। পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং এর চা বাগান থেকে বিশ্বমানের চা উৎপাদিত হয়। এখানকার চা বাগানগুলো সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১২০০ মিটার বা তার চেয়ে বেশি উচ্চতায় অবস্থিত। মেঘালয় এবং দক্ষিণ ভারতের তামিলনাডু ও কেরালা রাজ্যে অবস্থিত বাগানগুলো থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চা পাতা সংগ্রহ করা হয়।

সারণি-৪.৯: পৃথিবীর প্রধান প্রধান দেশের চা উৎপাদন (২০১৮)

দেশউৎপাদন (হাজার মেট্রিক টন)দেশউৎপাদন (হাজার মেট্রিক টন)
১. চীন২৬২৫৬. তুরস্ক২৭০
২. ভারত১৩৪৫৭. ইন্দোনেশিয়া১৪১
৩. কেনিয়া৪৯৩৮. ইরান১০৯
৪. শ্রীলংকা৩০৪৯. জাপান১০৯
৫. ভিয়েতনাম২৭০১০. বাংলাদেশ১০৯

উৎস: FAOSTAT. February, 2020

৩. কেনিয়া: কেনিয়া বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম চা উৎপাদনকারী দেশ। ২০১৮ সালে এ দেশের চা উৎপাদনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৯৩ হাজার মেট্রিক টন। এ দেশ প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণ চা বিদেশে রপ্তানি করে।

৪. শ্রীলঙ্কা: ভারত মহাসাগরের এই দ্বীপ দেশে অতি অল্প সময়ে চা চাষের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। শ্রীলঙ্কার পার্বত্য ভূপ্রকৃতি এবং ভৌগোলিক অবস্থান চা চাষে সহায়ক। এখানে পশ্চিম ও উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে পাহাড়ের ঢালে প্রায় সারা বছরই বৃষ্টিপাত হয়। শ্রীলঙ্কার মধ্যভাগে অবস্থিত পর্বতকে ঘিরে চা বাগান গড়ে উঠেছে। নিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং আর্দ্রতার ঘাটতি না থাকায় বাগানের চা গাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ফলে সারা বছর ধরে সপ্তাহে অন্তত দুবার চা পাতা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়।

৫. ভিয়েতনাম: চা উৎপাদনে ভিয়েতনাম বিশ্বে পঞ্চম। এখানে কালো, সবুজ এবং জেসমিন চা উৎপন্ন হয়।

৬. তুরস্ক: চা উৎপাদনে তুরস্কের অবস্থান বিশ্বে ষষ্ঠ। দেশটির কৃষ্ণ সাগরের তীরবর্তী জর্জিয়া সংলগ্ন এলাকায় অধিক বৃষ্টিপাত হয়। এ অঞ্চলের পার্বত্য ঢালে এ দেশের চা বাগানগুলো অবস্থিত।

৭. ইন্দোনেশিয়া: ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভার পার্বত্য ঢালে বহু চা বাগান গড়ে উঠেছে। সুমাত্রা দ্বীপের উত্তরাংশে প্রচুর চা বাগান রয়েছে। এ দেশের চা বাগানগুলো সমুদ্রপৃষ্ঠের ৪৫০ থেকে ১৫০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত।

৮. বাংলাদেশ: চা উৎপাদনে দেশটি বিশ্বে দশম। বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য মতে, ২০১৯ সালে বাংলাদেশ ২৭৯,৪৩৯ হেক্টর জমিতে ৯.৫ কোটি কেজি চা উৎপাদন করে, যা বিগত বছরের তুলনায় ১.৪০ কোটি কেজি বেশি। দেশের অধিকাংশ চা বাগানগুলো মৌলভীবাজার, সিলেট ও চট্টগ্রাম জেলায় এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়িয়া উঁচু ঢালসমূহে অবস্থিত। বাংলাদেশ প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণ চা বিদেশে রপ্তানি করে। ২০১৮ সালে এদেশে চা আমদানি ও রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৬৫ ও ৬.৫ লাখ কেজি। (সূত্র: বাংলাদেশ চা বোর্ড)। যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান, সৌদিআরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশী চায়ের প্রধান ক্রেতা। দেশে মোট চা বাগানের সংখ্যা ১৬৭টি। মৌলভীবাজারে সবচেয়ে বেশি চা বাগান রয়েছে (৯২ টি)। এছাড়া হবিগঞ্জে ২৫টি, সিলেটে ১৯টি, চট্টগ্রামে ২২টি, পঞ্চগড়ে ৭টি, রাঙামাটিতে ২টি, ঠাকুরগাঁও এ ১টি চা বাগান রয়েছে।

৯. জাপান: আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এ দেশে চায়ের চাষ করা হয়। প্রচুর মৌসুমি বৃষ্টি, শ্রমিক ও আধুনিক প্রযুক্তিতে দেশের হনসু, শিকোকু ও কিউশুর পাহাড়িয়া অঞ্চলে চায়ের চাষ করা হয়। অভ্যন্তরীণ চাহিদা ব‍্যাপক থাকায় জাপান বিদেশ থেকে চা আমদানি করে।

চা এর বিশ্ববাণিজ্য ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব: চায়ের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাজ্য চায়ের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অধিকাংশ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। ভারত, শ্রীলঙ্কাসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের বহুসংখ্যক চা বাগান যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন কোম্পানি নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। যুক্তরাজ্যের কোম্পানিগুলো চা পাতা আমদানি করে বিভিন্ন ব্র্যান্ডে তা রপ্তানি করে। এছাড়াও চীন, ভারত, কেনিয়া, ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি দেশ বিপুল পরিমাণ চা পাতা বিশ্বের অন্যান্য দেশে রপ্তানি করে।

সারণি-৪.১০: চা এর বিশ্ব বাণিজ্য ২০১৮ (মিলিয়ন মার্কিন ডলার)

রপ্তানিআমদানি
অবস্থানদেশপরিমাণঅবস্থানদেশপরিমাণ
১.চীন১৮০০রাশিয়া৪৯৭
কেনিয়া১৪০০যুক্তরাষ্ট্র৪৮৭.৩
৩.শ্রীলঙ্কা৯৪২যুক্তরাজ্য৩৯৬
ভারত৭৬৩সংযুক্ত আরব আমিরাত৩২৩
সংযুক্ত আরব আমিরাত২৯৫মিশর৩১৮
জার্মানি২৫২ইরান২৯২
ভিয়েতনাম২২৫আফগানিস্তান২৯২
পোল্যান্ড২০৩সৌদি আরব২৫২
জাপান,১৪২জার্মানি২২৯
১০যুক্তরাজ্য১৪১১০মরক্কো২২১

উৎস: WTEX, 2020

যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, জার্মানি, মরক্কো, জাপান প্রভৃতি দেশ চা পাতা আমদানি করে থাকে।

কৃষি (Agriculture)-ড. হ জ ম হাসিবুশ শাহীদ-স্যারে লেখা বই

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...