(Extraction, Use, Conservation of Bangladesh and Indian Mineral & Energy resources)
বাংলাদেশ ও ভারতের খনিজ ও শক্তি সম্পদের মধ্যে কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ তেল রয়েছে। এছাড়া চুনাপাথর, সিলিকাবালি উভয় দেশের খনিজ সম্পদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশ যতখানি খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ তার সবটুকু উত্তোলন, ব্যবহার ও সংরক্ষণ করা সম্ভব হয় না। বাংলাদেশের শক্তি সম্পদের মধ্যে কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, খনিজ তেল ইত্যাদি উত্তোলনে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। খনিজ সম্পদ উত্তোলনের জন্য দেশের বাইরে থেকে অভিজ্ঞ লোক আনা হয়। ফলে খনিজ সম্পদগুলোর অনেকটাই বিদেশি শক্তির কাছে চলে যায়। এতে সংরক্ষণ ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়ে। প্রাকৃতিক গ্যাস দেশের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। অথচ উত্তোলন এবং সংরক্ষণের অভাবে এর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা বিদেশি শক্তির হাতে চলে যাচ্ছে। বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাস সার শিল্পে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে, পরিবহন খাতে ব্যবহৃত হয়। কয়লা ইটভাটা, কুটির শিল্প ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশের খনিজ তেল অশোধিত ও অনুন্নত মানের। তারপরও শক্তি উৎপাদনে এই তেল ব্যবহৃত হয়। চুনাপাথর সেন্টমার্টিন, চট্টগ্রাম, সিলেটের জাফলং ইত্যাদি এলাকা থেকে উত্তোলন করে দেশের বিভিন্ন স্থানে গৃহনির্মাণ, সিমেন্ট প্রস্তুতি, সাবান ও ব্লিচিং পাউডার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশের কঠিন শিলা খনিজটি রেলপথ নির্মাণ, রাস্তাঘাট নির্মাণ এবং বাঁধ ও সেতু নির্মাণে ব্যবহৃত হয়। চীনামাটি বাসনপত্র, বৈদ্যুতিক ইনস্যুলেট, স্যানিটারি সরঞ্জাম ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়। সিলেট জেলার লালঘাট, শাহজিবাজার প্রভৃতি অঞ্চলে কাঁচবালি পাওয়া যায়। বিভিন্ন ধরনের কাঁচ প্রস্তুতিতে, রাসায়নিক দ্রব্য, রং ও অগ্নিরোধক ইট তৈরিতে এ বালি ব্যবহৃত
হয়।
ভারত আকরিক লৌহ, কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, বক্সাইট, ম্যাঙ্গানিজ ইত্যাদি খনিজ উত্তোলন করে তা ব্যবহার করে থাকে। ভারত খনিজ উত্তোলনে নিজেদের অভিজ্ঞ লোক নিয়োগ করে থাকে। অল্প কিছু বিদেশি খনিজ উত্তোলনে সহায়তা করলেও নিজেদের অভিজ্ঞ ব্যক্তি থাকায় খনিজ সংরক্ষণে সুবিধা হয়। ভারতের আকরিক লৌহ দ্বারা পরিবহন সামগ্রী, যুদ্ধাস্ত্র, গৃহনির্মাণ উপকরণ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ইত্যাদি প্রস্তুত হয়।
ভারত বিশ্বের অন্যতম তামা উত্তোলনকারী দেশ। বিদ্যুৎ শিল্পে, যন্ত্রাংশ উৎপাদনে, পরিবহন খাতে, রাসায়নিক শিল্পে, রং প্রস্তুতিতে তামার ব্যবহার হয়। ভারত কয়লা উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ। পশ্চিমবঙ্গের রাণীগঞ্জ, বিহারের ঝরিয়া গিরিতি, বোকারা ইত্যাদি অঞ্চল থেকে কয়লা উত্তোলন করে। ভারতে সাধারণত কয়লার ব্যবহার দেখা যায় লৌহ ও ইস্পাত শিল্পে, কারখানার ও পরিবহন জ্বালানিতে। দেশটির প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহৃত হয় সার উৎপাদনে, বিভিন্ন যানবাহন ও কলকারখানার জ্বালানিতে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে এবং গৃহস্থালির রান্নার কাজে।
পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশ ও ভারত বিভিন্ন খনিজ ও শক্তি সম্পদ উত্তোলনে এবং সংরক্ষণে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে। বাংলাদেশের তুলনায় ভারত খনিজ ও শক্তিসম্পদ ব্যবহার ও সংরক্ষণে সুকৌশল অবলম্বন করে। তবে উভয় দেশই নিজেদের খনিজ ও শক্তি সম্পদ ব্যবহারে যথাসম্ভব যত্নশীল।
খনিজ ও শক্তি সম্পদ-মো: আবদুল কুদ্দুস স্যারে লেখা বই
Read more