(Types of Migration)
সাধারণত দুই ধরনের অভিগমন দেখা যায়। যথা- ঐচ্ছিক ও অনৈচ্ছিক।
১. ঐচ্ছিক অভিগমন: যখন মানুষ তার নিজের চাহিদা মেটানোর জন্য বা নিজের ইচ্ছায় অভিগমন করে তখন তাকে বলা হয় ঐচ্ছিক অভিগমন। যেমন- উচ্চশিক্ষার্থে যুক্তরাষ্ট্রে অভিগমন।
২. অনৈচ্ছিক অভিগমন মানুষ যখন ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও পরিস্থিতির কারণে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলে যায় তখন তাকে অনৈচ্ছিক অভিগমন বলে। যেমন- মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অভিগমন।
স্থানের ওপর ভিত্তি করে অভিগমনকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। যথা- ১. অভ্যন্তরীণ; ও ২. আন্তর্জাতিক।
১. অভ্যন্তরীণ অভিগমন: যখন মানুষ নিজ দেশের মধ্যে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় অভিগমন করে তাকে অভ্যন্তরীণ অভিগমন বলে। এ অভিগমনের ক্ষেত্রে দেশের সীমা অতিক্রম করতে হয় না। যেমন: এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে, এক জেলা থেকে অন্য জেলায় অভিগমন। অভ্যন্তরীণ অভিগমনকে আবার দুইভাবে দেখা যায়। যথা-ক. ধারা (stream) অনুযায়ী অভিগমন; ও খ. দূরত্ব অনুযায়ী অভিগমন। নিচে এগুলো বর্ণনা করা হলো:
ক. ধারা অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ অভিগমন: এই ধরনের অভিগমনের প্রধান ধারাগুলো হলো:
i. গ্রাম থেকে গ্রামে: যখন কোনো মানুষ একই দেশে একটি গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে অভিগমন করে তখন তাকে বলা হয় গ্রাম থেকে গ্রামে অভিগমন। পুরুষদের তুলনায় মহিলারা এ ধরনের অভিগমন অধিক পছন্দ করে। কারণ তারা অধিক দূরত্বে অভিগমনে অনিচ্ছুক থাকে।
ii. গ্রাম থেকে শহরে একই দেশের মধ্যে গ্রাম থেকে শহর এলাকায় অভিগমনকে বলা হয় গ্রাম থেকে শহরে অভিগমন। এটি অভ্যন্তরীণ অভিগমনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধরন। সাধারণত যেসব দেশে কেবল শিল্পায়ন, প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন শুরু হয়েছে সেসব দেশে মানুষ অধিক উপার্জনের আশায় গ্রাম থেকে শহরে অভিগমন করে থাকে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এ ধরনের অভিগমনের ধারা লক্ষ করা যায়। যেমন- বাংলাদেশ।
iii. শহর থেকে গ্রামে যখন কোনো মানুষ একই দেশের মধ্যে শহর থেকে গ্রামে অভিগমন করে তখন সেই ধারাকে বলা হয় শহর থেকে গ্রামে অভিগমন। কর্মজীবন থেকে অবসর গ্রহণের পর অনেকে এ ধরনের অভিগমন করেন। উন্নত দেশে এরূপ দেখা যায়।
iv. শহর থেকে শহরে একই দেশের মধ্যে এক শহর থেকে অন্য শহরে অভিগমন হয়ে থাকে। সাধারণত ভালো চাকরি, ব্যবসা, আত্মীয়-স্বজন, জীবনযাত্রার মান ইত্যাদি কারণে মানুষ এক শহর থেকে অন্য শহরে অভিগমন করে থাকে। যেমন- ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় আগমন।
খ. দূরত্ব অনুযায়ী অভিগমন: দূরত্বের ভিত্তিতে সাধারণত তিন ধরনের অভ্যন্তরীণ অভিগমন দেখা যায়। যেমন:
i. স্বল্প দূরত্বে অভিগমন: এক থানা থেকে অন্য থানায় অভিগমন।
ii. মাঝারি দূরত্বে অভিগমন: এক জেলা থেকে অন্য জেলায় অভিগমন।
iii. অধিক দূরত্বে অভিগমন: এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে অভিগমন।
২. আন্তর্জাতিক অভিগমন: যখন মানুষ এক দেশ থেকে অন্য দেশে বেশ দীর্ঘ সময়ের জন্য (কমপক্ষে ৬ মাসের জন্য) অভিগমন করে তখন তাকে আন্তর্জাতিক অভিগমন বলা হয়। এক্ষেত্রে অবশ্যই কোনো দেশের রাজনৈতিক সীমা অতিক্রম করতে হয়। জনমিতিতে আন্তর্জাতিক অভিগমন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ এই অভিগমনের ফলে দেশের জনসংখ্যার পরিবর্তন ঘটে।
দূষণ ও দুর্যোগ- প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী- স্যারে লেখা বই
Read more