(Air Humidity)
বায়ুতে জলীয়বাষ্পের উপস্থিতিকে বায়ুর আর্দ্রতা বলে। যে বায়ুতে জলীয়বাষ্প থাকে না তাকে শুষ্ক (dry) বায়ু বলে। বায়ু নির্দিষ্ট পরিমাণ জলীয়বাষ্প ধারণ করতে পারে। কিন্তু বায়ুর তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে তার জলীয়বাষ্প ধারণ করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বায়ু যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প ধারণ করতে পারে, সে পরিমাণ জলীয়বাষ্প বায়ুতে থাকলে বায়ু আর অধিক জলীয়বাষ্প গ্রহণ করতে পারে না। তখন তাকে পরিপৃক্ত বা সম্পৃক্ত বায়ু (saturated air) বলে।
পরিপৃক্ত বায়ু যদি এক স্থানে স্থির হয়ে থাকত তাহলে বাষ্পীভবন বন্ধ হয়ে যেত। কিন্তু এ বায়ু নানা কারণে স্থান পরিবর্তন করে এবং অন্য স্থান হতে শুষ্ক বায়ু এসে তার স্থান দখল করে। শুষ্ক বায়ু জলীয়বাষ্প ধারণ করতে সমর্থ বলে বাষ্পীভবন চলতে থাকে।
আর্দ্রতা নির্ণয়ের যন্ত্র: শুষ্ক ও আর্দ্র কুণ্ডযুক্ত হাইগ্রোমিটার (hygrometer) এর সাহায্যে বায়ুর আর্দ্রতা মাপা হয়। এ যন্ত্রে এক শ্রেণির দু'টি থার্মোমিটার একটি ফ্রেমে পাশাপাশি আটকানো থাকে। একটির প্রান্তে কুন্ড খোলা থাকে এবং অন্যটির প্রান্তে কুণ্ডটি একখণ্ড মসলিন কাপড়ে আবৃত থাকে। মসলিনে আবৃত এ কুণ্ডটি একটি পাত্রে রাখা পানিতে শলতের মতো সংযুক্ত করে ভিজানো করে থাকে।

আর্দ্রতা নির্ণয়: পরীক্ষা করার সময় মসলিন কাপড় এবং পাত্রে রাখা শলতেটাকে পানিতে ভিজানো হয়। পানিসিক্ত বাতাসের মতো কাপড় থেকে পানি যতই বাষ্পে পরিণত হতে থাকে ততই বাতাসের আর্দ্রতা অনুযায়ী থার্মোমিটারের পারদ সূত্রটি নিচে নামতে থাকে এবং পরিশেষে স্থির হয়।
পর্যবেক্ষণ: যদি বায়ুতে জলীয়বাষ্প (আর্দ্রতা) অধিক থাকে তবে থার্মোমিটার দু'টির তাপমাত্রার পার্থক্য সামান্য হয়। পক্ষান্তরে, বায়ুতে যদি জলীয়বাষ্প কম থাকে তাহলে থার্মোমিটারদ্বয়ের তাপমাত্রার পার্থক্য বেশি হয়।
জলবায়ু অঞ্চল ও জলবায়ু পরিবর্তন-ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান স্যার এর লেখা বই
Read more