(Pollution and Air Pollution)
রাসায়নিক, ভৌত ও জৈবিক কারণে পরিবেশের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যের যে কোনো পরিবর্তনই হলো দূষণ। দূষণকারী উপাদানকে বলা হয় দূষক (pollutant)। দূষণকে প্রধানত বায়ু, পানি ও শব্দ দূষণ এ তিন ভাগে বর্ণনা করা যেতে পারে। বায়ু দূষণ
(Air pollution): বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন ভূপৃষ্ঠস্থ বায়ুস্তর শতকরা ২১ ভাগ অক্সিজেন ও ৭৮ ভাগ নাইট্রোজেন, ০.০৩ ভাগ কার্বন ডাইঅক্সাইড, একটি নির্দিষ্ট অনুপাতে ওজোন (O3), হাইড্রোজেন ইত্যাদি দ্বারা গঠিত। যদি কোনো কারণে এ বায়ুতে অক্সিজেন ছাড়া অন্যান্য গ্যাসের ঘনত্বের পরিবর্তন অথবা ধুলিকণার পরিমাণ বৃদ্ধি পায় তখনই বায়ু দূষিত হয়। মূলত বায়ুতে এক বা একাধিক দূষকের উপস্থিতি ও স্থায়িত্ব সেখানকার জীব, উদ্ভিদ ও অন্যান্য সম্পদের জন্য ক্ষতিকর হলে তাকে বায়ু দূষণ বলে।

বায়ু দূষণের কারণ (Causes of Air Pollution)
বায়ুতে দূষক পদার্থের উপস্থিতি বায়ু দূষণের কারণ। যেসব দূষক পদার্থের উপস্থিতি বায়ু দূষণ ঘটায় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-
১. কার্বন ডাইঅক্সাইড এটি একটি গ্রিন হাউস গ্যাস। বাতাসে এর পরিমাণ ০.০৩ ভাগ। সকল জীব শ্বসন
ক্রিয়াকালে ত্যাগ করে এবং সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণের সময় এ গ্যাস গ্রহণ করে। ফলে বায়ুমণ্ডলে এ গ্যাসের ভারসাম্য বজায় থাকে। বনভূমি ধ্বংস ও নির্বিচারে গাছপালা কাটার ফলে জীবকুলের ত্যাগ করা সবটুকুসবুজ উদ্ভিদ গ্রহণ করতে পারে না। কলকারখানার চিমনি ও যানবাহন হতেওবাতাসে যোগ হয়। তাই বাতাসে এর পরিমাণ প্রতিনিয়ত বেড়ে যাচ্ছে।
২. ধোঁয়া (Smoke): এটি এক ধরনের এরোসল (aerosol)। দহনকৃত (combustion) বস্তু নির্গত ও বাতাসে ভাসমান কলয়ডাল (colloidal) কণা এবং বাষ্পীভূত গ্যাস নিয়ে গঠিত হয় ধোঁয়া। ধোঁয়ার প্রকোপ মূলত শহর ও শিল্প এলাকাতেই বেশি দেখা যায়।
৩. ধোঁয়াশা (Smog): মোটরযান নির্গত নাইট্রোজেন অক্সাইডসমূহ ও বিভিন্ন হাইড্রোকার্বন সূর্যালোকের উপস্থিতিতে বিক্রিয়া করে ওজোন ও পারঅক্সি অ্যাসিটাইল নাইট্রেট নামের জৈব যৌগ উৎপন্ন করে। আর্দ্র পরিবেশে এগুলো বায়ুমণ্ডলে ভাসমান থেকে ঝাপসা অবস্থার সৃষ্টি করলে তাকে ধোঁয়াশা বা স্মগ বলে।
৪. এগ্জস্ট গ্যাস (Exhaust Gases) : এগুলো তেল জাতীয় জ্বালানিসমূহের দহন ক্রিয়ার ফল এবং সাধারণত অদৃশ্যমান। এ জাতীয় গ্যাস ধোঁয়ার সাথে কারখানার চিমনি ও অটোরিকশা, বাস, ট্রাক হতে নির্গত হয়। এ গ্যাসে সীসা, তামা, জিংক, ক্যালসিয়াম ইত্যাদি ভারি ধাতু ও কার্বন মনোক্সাইড (CO), সালফার ডাইঅক্সাইড হাইড্রোজেন সালফাইড (), হাইড্রোজেন ক্লোরাইড (HCl) ও নাইট্রোজেনের অক্সাইডসমূহ ইত্যাদি থাকে। দিন দিন শহরাঞ্চলের বায়ুতে এ গ্যাসের ঘনত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে।
৫. সালফার ডাইঅক্সাইড : সাধারণত শিল্পকারখানার ধোঁয়া হতে এই গ্যাস বায়ুতে মিশে। বিভিন্ন জ্বালানি দহনের ফলেই সৃষ্টি হয়। বায়ুর সাথে মিশে এই গ্যাস সালফিউরিক এসিড সৃষ্টি করে এবং এসিড বৃষ্টির (Acid rain) মাধ্যমে জীবকুলের ক্ষতি করে।
৬. ক্লোরোফ্লুরো কার্বন (CFC-Chloro-Fluoro Carbon): CFC হচ্ছে ক্লোরিন, ফ্লোরিন ও কার্বনের একটি উদ্বায়ী (volatile) যৌগ। এটি একটি গ্যাস। এটি রেফ্রিজারেটর, এয়ারকন্ডিশনার, প্লাস্টিক ও রং তৈরির কারখানা হতে-নির্গত হয়। CFC বায়ুমণ্ডলের ওজোন (ozone) স্তরকে ক্রমশ ধ্বংস করছে। এক অণু CFC গ্যাস অবস্থাভেদে ২০০০ ওজোন অণুকে ধ্বংস করতে পারে। ইতোমধ্যেই ওজোনস্তর অনেক জায়গায় পাতলা হয়ে পড়েছে এবং কোথাও কোথাও ছিদ্র (hole) হয়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। ওজোনস্তর ছিদ্র হলে সূর্যের অতিবেগুনি ও কসমিক রশ্মি সরাসরি পৃথিবীতে এসে ফাইটোপ্লাঙ্কটন ও পরে অন্যান্য গাছপালাকে ধ্বংস করে দেবে। সেই সাথে প্রাণিকুলেরও প্রচুর ক্ষতি হবে। ক্যানসার ও অন্যান্য রোগের প্রকোপও বেড়ে যাবে।
৭. পরাগরেণু: অনেক পরাগরেণু বায়ু দূষণের জন্য দায়ী। উদ্ভিদের পরাগরেণু বায়ুতে ভেসে বেড়াতে পারে। এসব পরাগরেণু জ্বর, সর্দি, কাশি এমনকি আরও মারাত্মক রোগের সৃষ্টি করতে পারে।
বায়ুমণ্ডল ও বায়ু দূষণ খন্দকার মোশাররফ হোসেন এর লেখা বই