পাঠ-১: জলবায়ু

ভূগোল ১ম পত্র - ভূগোল - এইচএসসি | NCTB BOOK

1.1k

(Climate)

জলবায়ু হলো কোনো স্থান বা অঞ্চলের বায়ুমণ্ডলের দীর্ঘকালীন অবস্থা। বায়ুমণ্ডলের অবস্থা বলতে এর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাত, প্রবাহ এবং বায়ুমণ্ডলে গৃহীত সূর্যালোক প্রভৃতি বোঝায়। অর্থাৎ জলবায়ু বলতে একটি বৃহৎ অঞ্চল জুড়ে আবহাওয়ার উপাদানগুলো যেমন- বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাত ইত্যাদির অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ বছরের যে সাধারণ অবস্থা (গড় অবস্থা) দেখা যায় তাকে বোঝায়।

এ প্রেক্ষিতে জলবায়ুর সংজ্ঞার্থে R.G. Barry এবং R.J. Chorely কর্তৃক
প্রদত্ত সংজ্ঞা উপস্থাপন করা যায়- Climate introduces the longer time scales operating in the atmosphere. It is sometimes regarded as "the average weather" but it is more meaningful to define climate as the long term state of atmosphere encompassing the aggregate effect of weather phenomenon, the extreme as well as the mean values.

জলবায়ুর উপাদান (Elements of Climate)

যেসব বৈশিষ্ট্য নিয়ে জলবায়ু বা আবহাওয়া গঠিত হয় সেগুলোকে জলবায়ু বা আবহাওয়ার উপাদান বলে। জলবায়ুর প্রধান উপাদান পাঁচটি। যেমন- তাপমাত্রা, বায়ুর চাপ, আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ এবং বারিপাত। উপাদানগুলো সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো-

বায়ুর তাপমাত্রা (Air temperature): বায়ুর উষ্ণ ও শীতল অবস্থাকে বায়ুর তাপমাত্রা বলে। কোন স্থানের জলবায়ু কীরূপ তা তাপমাত্রার পরিমাণ দ্বারা প্রকাশ করা হয়। অধিক তাপবিশিষ্ট অঞ্চলকে উষ্ণ জলবায়ু অঞ্চল (মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া) এবং কম তাপবিশিষ্ট অঞ্চলকে শীতল জলবায়ু অঞ্চল (কানাডা, সাইবেরিয়া) বলে।
বায়ুর চাপ (Air pressure): বায়ুর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এটি উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়। উন্মুক্ত উষ্ণ সাগরের উপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু প্রচুর জলীয়বাষ্প সংগ্রহ করে পার্শ্ববর্তী স্থলভাগে বৃষ্টিপাত ঘটায়। তাই জলবায়ুর প্রকৃতি নির্ধারণে বায়ুর চাপ যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বায়ুর আর্দ্রতা (Humidity): বায়ুতে জলীয়বাষ্পের উপস্থিতিকে বায়ুর আর্দ্রতা বলে। অর্থাৎ বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণ করাই আর্দ্রতা। বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি হলে তাকে আর্দ্র বায়ু বলে। আবার বায়ুতে জলীয়বাষ্প কম হলে তাকে শুষ্ক বায়ু বলে। আর্দ্র বায়ুপ্রবাহের ফলে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকে এবং তাপমাত্রা বাড়তে পারে না। পক্ষান্তরে, শুষ্ক বায়ু প্রবাহিত হলে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকে না। বৃষ্টিহীন মরু অঞ্চলে বেশি উত্তাপ অনুভূত হয়।

বায়ুপ্রবাহ (Wind movement): ভূপৃষ্ঠের ওপর দিয়ে উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে আনুভূমিকভাবে বায়ু
চলাচল করে। একেই সাধারণভাবে বায়ুপ্রবাহ বলে। নিম্নচাপ অঞ্চলের বায়ু সর্বদাই উষ্ণ ও লঘু হয়ে উপরে উঠে যায়; আর উচ্চচাপ অঞ্চলের শীতল ও ভারি বায়ু শূন্যস্থান পূরণার্থে সেদিকে ধাবিত হয়। বায়ুর তাপের স্থিতি অবস্থা বজায় রাখতে বায়ুতে প্রবাহের সৃষ্টি হয়। এতে বায়ুর তাপের আদান-প্রদান ঘটে।

বারিপাত (Precipitation): জলীয়বাষ্প উপরে উঠে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে ঘনীভূত হয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলকণা ও তুষারকণায় পরিণত হয়ে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে ভূপৃষ্ঠে পতিত হয়, একে বারিপাত বলে। শিশির, তুষার, বৃষ্টিপাত প্রভৃতি বারিপাতের এক একটি রূপ। সকল প্রকার বারিপাত জলীয়বাষ্পের ওপর নির্ভরশীল।

জলবায়ুর উপাদান ও নিয়ামক - কে. আশরাফুল আলম ও মো. শরিফুল ইসলাম স্যার এর লেখা বই

Content added || updated By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...