hsc

পাঠ-২: মাটি দূষণের কারণ ও তার প্রতিরোধ

ভূগোল ২য় পত্র - ভূগোল - এইচএসসি | NCTB BOOK

1k

(Causes of Soil Pollution and Its Prevention)

মাটি বলতে আমরা পৃথিবীর উপরিভাগের স্তরকে বুঝি যা অপেক্ষাকৃত নরম এবং নানা ধরনের জৈব ও অজৈব পদার্থের মিশ্রণে গঠিত। মাটির উপরে আমরা বসবাস করি। মাটি থেকে আমাদের জীবনধারণের নানা রকম প্রয়োজনীয় উপাদান গ্রহণ করি। উদ্ভিদ ও প্রাণী মরে গেলে এগুলো আবার মাটিতে ফিরে যায়। এভাবে মাটির বিভিন্ন উপাদান আমরা পর্যায়ক্রমে বার বার ব্যবহার করতে পারি। তাই বলা যায় মাটির সাথে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। মাটি দূষিত হলে আমাদের জীবনযাত্রায় মারাত্মক প্রভাব গড়ে।

মাটিতে যখন বিষাক্ত যৌগ, রাসায়নিক উপাদান, লবণ, তেজস্ক্রিয় পদার্থ অথবা রোগ সৃষ্টিকারী কোনো জৈব বা অজৈব উপাদান যুক্ত হয় যা উদ্ভিদের বেড়ে ওঠা অথবা প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর তখন তাকে মৃত্তিকা বা মাটি দূষণ বলে।

মাটি দূষণের কারণ

মানুষের নানা কাজ মাটিকে দূষিত করে। বন ও গাছপালার ধ্বংস সাধন, অতিমাত্রায় কৃষিকাজ, অতিরিক্ত পানিসেচ ইত্যাদির কারণে মাটি দূষিত হয়। গাছপালা না থাকলে এবং অতিমাত্রায় কৃষিকাজ করলে মাটির উর্বরা স্তর ক্ষয় হয়ে মাটি অনুর্বর হয়ে পড়ে। অতিরিক্ত পানিসেচের ফলে মাটিতে জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততার সৃষ্টি হয়। মাটির নিচের লবণ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে উপরে উঠে এসে মাটিকে অনুর্বর করে তোলে। নানা ধরনের বর্জ্য পদার্থ মাটি দূষণের অন্যতম কারণ। ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ এবং প্রকৃতিতে ধীরে ধীরে মিশে যায় না এমন পদার্থ (পলিথিন, প্লাস্টিক) মাটিকে দূষিত করে।

মাটি দূষণ প্রতিরোধ

মাটি দূষিত হলে তাতে গাছপালা, পোকামাকড়, অণুজীব জন্মাতে পারে না। এর ফলে মাটি অনুর্বর হয়ে ধীরে ধীরে মানুষের ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য উর্বর উৎপাদনশীল মাটি প্রয়োজন। এ কারণে মাটি যাতে অনুর্বর ও দূষিত না হয় আমাদের সবারই সেদিকে নজর দেয়া প্রয়োজন। বেশি করে গাছপালা লাগানো মাটি দূষণ রোধের একটি উপায়। জমিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার সীমিত করা প্রয়োজন। কলকারখানাগুলো যেন বর্জ্য যেখানে সেখানে না ফেলে সে বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। আমরা সবাই মাটি দূষণের বিরুদ্ধে সচেতন হলে দূষণ রোধ করা সম্ভব।

দূষণ ও দুর্যোগ- প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী- স্যারে লেখা বই

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...