(A Brief Description of Climatic Regions)
১. উষ্ণ জলবায়ু (Warm climate)
i. নিরক্ষীয় জলবায়ু (Equatorial climate)
নিরক্ষরেখার উভয় পাশে থেকে অক্ষাংশের মধ্যে এ অঞ্চল বিস্তৃত। এ অঞ্চলে বার্ষিক সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য খুবই কম। এখানকার গড় তাপমাত্রা থেকে ৩৪°C ও গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাত ১৭০ থেকে ২৫০ সেমি.। এখানে সারা বছর একটি মাত্র ঋতু গ্রীষ্মকাল বিরাজ করে ও পরিচলন প্রক্রিয়ায় বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়।
এ জলবায়ুর অন্তর্গত অঞ্চলগুলো হলো- দক্ষিণ আমেরিকার আমাজান এবং আফ্রিকার কঙ্গো নদীর অববাহিকা ও গিনি উপকূল, এশিয়ার ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা, পাপুয়া নিউগিনি প্রভৃতি।

ii. মৌসুমি জলবায়ু (Monsoon climate)
ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যে বায়ুর দিক পরিবর্তন হয়, তাকে মৌসুমি বায়ু বলে। আর এ বায়ু প্রবাহিত অঞ্চলের জলবায়ুকে বলে মৌসুমি জলবায়ু। ক্রান্তীয় অঞ্চলে এর প্রভাব সর্বাধিক বলে এ জলবায়ুকে ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ুও (Tropical Monsoon Climate) বলা হয়। সাধারণভাবে ১৫০-৩০০ উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশে অবস্থিত মহাদেশসমূহের পূর্ব প্রান্তে এ জলবায়ু পরিলক্ষিত হয়। এ অঞ্চলে প্রায় সারা বছর উচ্চ তাপমাত্রা বিরাজ করে। এখানে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ১২৫-২০০ সেমি। মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্ভূক্ত ভারতের আসামের চেরাপুঞ্জি এলাকায় বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয় (প্রায় ১২৫০ সেমি)।
এ জলবায়ুর অন্তর্গত অঞ্চলগুলো হলো- দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, লাওস,
থাইল্যান্ড প্রভৃতি, পূর্ব চীন, দক্ষিণ জাপান, মেক্সিকো উপসাগরের উপকূল, ক্যারিবিয়ান সাগর, পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের কিছু অংশ, ব্রাজিলের পূর্ব অংশ, পূর্ব আফ্রিকা ও মাদাগাস্কার দ্বীপ এবং উত্তর-পূর্ব অস্ট্রেলিয়া।
iii. ক্রান্তীয় সমুদ্র উপকূলীয় জলবায়ু (Tropical oceanic climate)
মহাদেশসমূহের পূর্ব উপকূলে উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে এ জলবায়ু পরিলক্ষিত হয়।
নিরক্ষীয় অঞ্চলের মতো এখানেও সারা বছর অধিক তাপমাত্রা বিরাজ করে। তবে শীত-গ্রীষ্মের তাপমাত্রার পার্থক্য কম থাকে। শীত এবং গ্রীষ্মকালীন গড় তাপমাত্রা যথাক্রমে ২৫°০ এবং ২৯°০। বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত প্রায় ১২৭ সেমি। গ্রীষ্মকালে এ অঞ্চলে প্রবল ঘূর্ণিঝড়, টাইফুন, হারিকেনের সৃষ্টি হয়।
এ জলবায়ুর অন্তর্গত অঞ্চলগুলো হলো- মধ্য আমেরিকা, ভেনেজুয়েলা, গায়ানা, ব্রাজিলের উপকূল, ফিলিপাইন, উত্তর-পূর্ব অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু অংশ।
iv. ক্রান্তীয় মহাদেশীয় জলবায়ু (Tropical continental climate)
মহাদেশসমূহের নিরক্ষীয় এবং উষ্ণ মরু অঞ্চলের মধ্যভাগে যে জলবায়ু দেখা যায় তাকে ক্রান্তীয় মহাদেশীয় জলবায়ু বলে। আফ্রিকার সুদান অঞ্চলে এ জলবায়ু স্পষ্টরূপে দেখা যায় বলে একে সুদানি জলবায়ুও বলে। সাধারণত নিরক্ষরেখার উত্তরে অক্ষাংশে এ জলবায়ু অঞ্চল অবস্থিত। তবে উষ্ণমণ্ডলে উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশেও এ জলবায়ু পরিলক্ষিত হয়।
এ জলবায়ুর অন্তর্গত অঞ্চলগুলো হলো- আফ্রিকাঃ সুদান, মালি, সেনেগাল, ঘানা, নাইজেরিয়া, কেনিয়া, উগান্ডা, চাঁদ, টোঙ্গা, এঙ্গোলা ইত্যাদি। দক্ষিণ আমেরিকাঃ ভেনেজুয়েলা ও দক্ষিণ ব্রাজিল। অস্ট্রেলিয়াঃ উত্তর কুইন্সল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার অংশ বিশেষ এবং মধ্য আমেরিকার কিছু অংশ।
v. ক্রান্তীয় মরুদেশীয় জলবায়ু (Tropical desert climate)
উভয় গোলার্ধে কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তি অঞ্চলদ্বয়ের মধ্যে অক্ষাংশের মধ্যে এ জলবায়ু দেখা যায়।
বৃষ্টিহীন মরু অঞ্চলে দিনের বেলায় যেমন খুব গরম রাত্রিতে তেমনি তীব্র শীত পড়ে। এ জলবায়ু অঞ্চলে গ্রীষ্মের দুপুরে তাপমাত্রা ৪৫°C পর্যন্ত হয়ে থাকে। শীতকালে রাতে তাপমাত্রা প্রায় থাকে।
এ জলবায়ুর অন্তর্গত অঞ্চলগুলো হলো- আফ্রিকার সাহারা ও কালাহারি মরুভূমি, এশিয়ার আরব ও থর মরুভূমি, মেক্সিকোর মরুভূমি, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার মরুভূমি, দক্ষিণ আমেরিকার আতাকামা মরুভূমি ইত্যাদি।
২. মৃদু উষ্ণ নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু বা উপক্রান্তীয় জলবায়ু
(Mild Hot Temperate Climate or Sub Tropical Climate)
vi. উপক্রান্তীয় পূর্ব উপকূলীয় আর্দ্র জলবায়ু (Sub Tropical eastern humid marine climate)
মহাদেশসমূহের পূর্ব প্রান্তে উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে এ জলবায়ু অঞ্চল পরিলক্ষিত হয়। এ অঞ্চলে বেশিরভাগ বৃষ্টিপাত হয় গ্রীষ্মকালে। পাহাড়-পর্বতের অবস্থান তথা ভূপ্রকৃতিগত কারণে অঞ্চল বিশেষে বৃষ্টিপাতের তারতম্য হয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে প্রায় বারোমাসই বৃষ্টিপাত হয়। এ জলবায়ু অঞ্চলের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ১০০-১৫০ সে.মি.। গ্রীষ্মে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৭°C এবং শীতকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯°C হয়ে থাকে। এ জলবায়ুকে উপসাগরীয় জলবায়ুও বলা হয়।
এ জলবায়ুর অন্তর্গত অঞ্চলগুলো হলো-যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্ব অংশ, উত্তর ও মধ্যচীন, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার দক্ষিণ-পূর্ব উপকূল, ব্রাজিলের দক্ষিণ-পূর্বাংশ ইত্যাদি।
vii. ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু ( Mediterranean climate)
ভূমধ্যসাগর ও এর তীরবর্তী দেশসমূহে এ ধরনের জলবায়ু সৃষ্টি হয় বলে একে ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু বলে। মহাদেশগুলোর পশ্চিমাংশে অক্ষাংশের কিছু অংশে এই জলবায়ুর অবস্থান। এ জলবায়ু অঞ্চলে গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা এবং শীতকালীন তাপমাত্রা এর মধ্যে থাকে। এখানকার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো- বৃষ্টিবহুল শীতকাল ও বৃষ্টিহীন গ্রীষ্মকাল। বার্ষিক বৃষ্টিপাত ২৫-৭৫ সেমি পর্যন্ত হয়ে থাকে।
এ জলবায়ুর অন্তর্গত অঞ্চলগুলো হলো-ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলবর্তী দেশসমূহ (যেমন- মরক্কো, ফ্রান্স, পর্তুগাল), সিরিয়া; মধ্যচিলি, ক্যালিফোর্নিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা (কেপ প্রদেশ); পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ ইত্যাদি।
৩. মৃদু শীতল নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু (Cool Temperate oceanic climate)
viii. মহাদেশের পশ্চিম প্রান্তের সামুদ্রিক জলবায়ু (Oceanic climate of west coast of the continent)
সমুদ্র উপকূলের নিকটবর্তী এলাকা অক্ষাংশের মধ্যে এ ধরনের জলবায়ুর অবস্থান রয়েছে। এ জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো- পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে এখানে সারা বছর বৃষ্টিপাত হয়। ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জে এই জলবায়ু অত্যন্ত জোরালো বলে একে ব্রিটিশ টাইপ জলবায়ু (British type climate) বলে। সমুদ্রের প্রভাবে জলবায়ু মৃদু ও সমভাবাপন্ন হয়ে থাকে। গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা এবং শীতকালে গড় উত্তাপ ৪°C। অনেক স্থানে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচেও নামে। বার্ষিক বৃষ্টিপাত ৫০-৭০ সে. মি. হয়। উপকূল অঞ্চলে বেশি বৃষ্টিপাত হয় (অনেক স্থানে ২০০ সেমি)।
এ জলবায়ুর অন্তর্গত অঞ্চলগুলো হলো- কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়া, যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পশ্চিম অংশ, উত্তর-পশ্চিম ইউরোপ, দক্ষিণ তাসমানিয়া দ্বীপ এবং চিলির দক্ষিণাংশ।
ix. মহাদেশের অভ্যন্তর ও মহাদেশীয় জলবায়ু (Interior of the continent and continental climate)
উত্তর গোলার্ধে অক্ষাংশে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে অক্ষাংশের দেশগুলোতে এ জলবায়ু দেখা যায়। এ অঞ্চলের জলবায়ু কিছুটা চরমভাবাপন্ন। এখানে দীর্ঘস্থায়ী প্রচণ্ড শীত পড়ে এবং তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে নামে। গ্রীষ্মকালে গড় উষ্ণতা । গ্রীষ্মকালে মাঝে মাঝে বৃষ্টিপাত হয়। তবে সেন্টলরেন্স অববাহিকায় সারা বছরই কম-বেশি বৃষ্টিপাত হয়। বার্ষিক বৃষ্টিপাত ২৫-১০০ সেমি।
এ জলবায়ুর অন্তর্গত অঞ্চলগুলো হলো- উত্তর আমেরিকার উত্তর-পূর্বাংশ, জাপান ও কোরিয়ার কিছু অংশ, চীনের মাঞ্জুরিয়া, আমুর নদীর অববাহিকা, সাইবেরিয়া; পোল্যান্ড, সুইডেন ও জার্মানির কিছু অংশ আর্জেন্টিনার পাতাগোনিয়ার মালভূমির দক্ষিণাংশ প্রভৃতি।
X. নাতিশীতোষ্ণ মরুদেশীয় জলবায়ু (Temperate desert climate)
উভয় গোলার্ধে অক্ষাংশের মধ্যে মহাদেশসমূহের অভ্যন্তরভাগে এ জলবায়ু পরিলক্ষিত হয়। এখানে চরমভাবাপন্ন জলবায়ু দেখা যায়। গ্রীষ্মকালে যেমন প্রচণ্ড গরম শীতকালে তেমনি তীব্র শীত পড়ে। গ্রীষ্মকালে গড় তাপমাত্রা ৩৬°C এবং শীতকালে বা তার কম। শীতকালে তুষারপাত হয়। মহাদেশের অভ্যন্তরভাগ তথা বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল হওয়ায় বৃষ্টিপাত ১৩-৩৮ সেমি. এর কম। তবে গ্রীষ্মকালেই অধিকাংশ বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে।
এ জলবায়ুর অন্তর্গত অঞ্চলগুলো হলো-ইউরেশিয়ার তাকলামাগান, মনখারিখান উপত্যকা, এশিয়ার গোবি মরুভূমি, যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো ও নেভাদা এবং দক্ষিণ আমেরিকার পাতাগোনিয়া মরুভূমি।
৪. শীতপ্রধান নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু (Cold Temperate Climate)
xi. শীতপ্রধান নাতিশীতোষ্ণ সমুদ্র উপকূলীয় জলবায়ু (Cold Temperate maritime climate)
সুমেরু ও কুমেরু বৃত্তের (৬৬.৫° উত্তর ও দক্ষিণ) আশপোশে সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় এ ধরনের জলবায়ু লক্ষ করা যায়। এখানে শীতকাল দীর্ঘস্থায়ী ও গ্রীষ্মকাল স্বল্প স্থায়ী হয়ে থাকে। গ্রীষ্মে গড় উষ্ণতা এবং শীতকালে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের () নিচে থাকে। সাগরের উপকূল হওয়ায় গ্রীষ্মকালে পশ্চিমা বায়ু দ্বারা প্রচুর বৃষ্টিপাত (৩৮-৫৩ সেমি) হয়। কিন্তু এসব এলাকায় শীতকালে তুষারপাত হয়। এ অঞ্চল সর্বদা কুয়াশাচ্ছন্ন থাকে।
এ জলবায়ুর অন্তর্গত অঞ্চলগুলো হলো-উত্তর গোলার্ধে উত্তর আমেরিকার আলাস্কা, নিউফাউন্ডল্যান্ড, হাডসন উপসাগর এলাকা ও ব্যাফিন দ্বীপপুঞ্জ এবং ইউরোপের নরওয়ে উপকূল ও আইসল্যান্ড। দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ আমেরিকার চিলি ও আর্জেন্টিনার উপকূল, ফ্যান্ড ও তার পার্শ্ববর্তী দ্বীপসমূহ।
xii. শীতপ্রধান নাতিশীতোষ্ণ মহাদেশীয় জলবায়ু (Cold Temperate continental climate)
সুমেরু বৃত্তের নিকটবর্তী নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের মধ্যভাগে এ জলবায়ু পরিলক্ষিত হয়। সমুদ্র উপকূল থেকে অনেক ভিতরে অবস্থিত এ অঞ্চলে চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বিরাজ করে। গ্রীষ্মকালে বেশ গরম () পড়ে এবং শীতকালে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে থাকে। এখানে গ্রীষ্মকালে বৃষ্টি ৫০ সেমি ও শীতকালে তুষারপাত হয়।
এ জলবায়ুর অন্তর্গত অঞ্চলগুলো হলো-কানাডা ও রাশিয়ার উত্তরাংশ এবং ইউরোপের উত্তর-পশ্চিমাংশ। এছাড়া নিউফাউন্ডল্যান্ড, আলাস্কা, ফিনল্যান্ড এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
৫. মেরুদেশীয় জলবায়ু (Polar climate)
xiii. উপমেরু ও মেরুদেশীয় তুন্দ্রা জলবায়ু (Subpolar and Polar Tundra climate)
উভয় গোলার্ধে অক্ষাংশের মধ্যে মেরু ও উপমেরুদেশীয় তুন্দ্রা জলবায়ু দেখা যায়। হিমশীতল জলবায়ু এ অঞ্চলের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে সারা বছর বরফাচ্ছন্ন থাকে। ক্ষণস্থায়ী গ্রীষ্মকালে তুষারের গলন হয় না বললেই চলে। এখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা শীতকালে তাপমাত্রা সব সময় হিমাঙ্কের নিচে থাকে। গড় বৃষ্টিপাত ৩০ সেমি হলেও অধিকাংশ সময় তুষারপাত হয় এবং তুষার ঝড় দেখা যায়।
xiv. মেরুদেশীয় তুষারাবৃত জলবায়ু (Polar icecap climate)
সুমেরু ও কুমেরু বৃত্ত থেকে মেরুবিন্দু পর্যন্ত অঞ্চল চির তুষারাবৃত থাকে। এ জলবায়ু অঞ্চল বরফের উঁচু স্তূপে ঢাকা রয়েছে। সমুদ্রের উপরিভাগে বরফ জমে বিশাল সমভূমির রূপ ধারণ করে বলে একে ভাসমান বরফের দেশ বলে। ছয় মাস দিন ও ছয় মাস রাত্রি (অর্থাৎ-১ দিন-রাত্রি) এখানকার প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে সাধারণভাবে পাউডারের আকারে বরফ পড়ে।
৬. পার্বত্য জলবায়ু (Mountain Climate)
xv. ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলের আর্দ্র জলবায়ু (Tropical and subtropical humid climate)
দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বতের উত্তরাংশ, ব্রাজিলের উচ্চভূমি, মেক্সিকোর উচ্চভূমি, ইথিওপিয়ার মালভূমি, এশিয়ার তিব্বত মালভূমি, ইন্দোনেশিয়ার উচ্চভূমি এ অঞ্চলে অবস্থিত। এ জলবায়ুতে উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বায়ুর তাপ কমতে থাকে। অধিক উচ্চ স্থানে, উচ্চভূমির প্রতিবাত পার্শ্বে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
xvi. নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের আর্দ্র জলবায়ু (Temperate humid climate)
পৃথিবীর প্রধান পর্বতমালাগুলো এ অঞ্চলের মধ্যে গণ্য। যেমন- হিমালয়, আল্পস, রকি, আন্দিজ, এ্যাটলাস, তিয়েনশান ইত্যাদি। এ জলবায়ুতে উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বায়ুর তাপ কমতে থাকায় ওপরে শীতল অবস্থা বিরাজ করে। এ অঞ্চলে তুষারপাত, হিমবাহের সৃষ্টি হয়। পর্বতের প্রতিবাত পার্শ্বে প্রচুর শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি হয়.।
জলবায়ু অঞ্চল ও জলবায়ু পরিবর্তন-ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান স্যার এর লেখা বই
Read more