(Air Flow)
বায়ুপ্রবাহ: বায়ুর একদিক থেকে অন্যদিকের গতিকে বায়ুপ্রবাহ বলে। বায়ু সর্বদা একস্থান হতে অন্য স্থানে প্রবাহিত হয়। বায়ুর তাপ ও চাপের তারতম্যের কারণেই বায়ু তার স্থান পরিবর্তন করে। ভূপৃষ্ঠের সমান্তরাল অর্থাৎ আনুভূমিকভাবে (Horizontally) বায়ুর এ স্থানান্তরকে বায়ুপ্রবাহ বলে।
বাত পতাকা (Wind vane): বায়ু কখন কোন দিক থেকে প্রবাহিত হয় তা জানার জন্য যে যন্ত্রটি ব্যবহৃত হয় তাকে বাত
পতাকা বা বাত মোরগ (wind cock) নামে অভিহিত করা হয়। এই যন্ত্রে একটি দন্ড লম্বভাবে থাকে। আর এর মাথায় একটি হালকা তীর বা মোরগ এমনভাবে বসানো থাকে যে সামান্য বাতাসেই এটি স্বাভাবিকভাবে ঘুরতে পারে। যখন যে দিক থেকে বায়ু প্রবাহিত হয় তীরের ফলকটি তখন ঘুরে সেই দিকে মুখ করে অবস্থান করে। উঁচু জায়গায়, সাধারণত বাড়ির ছাদে, যেখানে বায়ু অবাধে প্রবাহিত হয় সেখানে এই যন্ত্রটি বসানো থাকে। বাত পতাকায় উ. (N), উ. পূ. (N. E), দ. পূ. (S. E), দ. প. (S. W), প. (W), উ. প. (N. W) প্রভৃতি অক্ষর দ্বারা ৮টি প্রধান দিক দেখানো হয়। বাত পতাকার সাহায্যে কম্পাসের ১৬টি দিকের (Point) যতদূর সম্ভব কাছাকাছি হিসাবে বায়ুপ্রবাহের দিক ঠিক করতে হয়।
বায়ুমান যন্ত্র বা অ্যানিমোমিটার (Anemometer)
বায়ু কোন দিক থেকে আসছে তা বাত পতাকা দ্বারা নিরূপণ করা গেলেও বায়ু কখন কীরূপ বেগে প্রবাহিত হয় তা বাত পতাকা দ্বারা নির্ণয় করা সম্ভব নয়। বায়ুর গতিবেগ সঠিকভাবে নির্ণয় করার জন্য যে যন্ত্র ব্যবহার করা হয় তাকে এ্যানিমোমিটার বলে। এই যন্ত্রে লম্বভাবে দণ্ডায়মান একটি শলাকার মাথায় তিনটি বা চারটি সরু দণ্ডের প্রান্তভাগে বাটি থাকে। ঐ বাটিগুলোর উত্তল (convex) দিক অপেক্ষা অবতল (concave) দিকে বায়ু বেশি বাধা পায়। বায়ুর বেগ কম হলে বাটিগুলো ধীরে ধীরে এবং বেগ বেশি হলে বাটিগুলো দ্রুত ঘুরতে থাকে। উল্লম্ব দণ্ডের পাদদেশে রক্ষিত যন্ত্রের মধ্যে ক্রমবর্ধনশীল বায়ুর বেগ নির্দেশক সংখ্যা দেখতে পাওয়া যায়।
বায়ুর বেগ বেশি হলে বাটিগুলো দ্রুত ঘুরবে এবং সঙ্গে সঙ্গে ঐ যন্ত্রের একের পর এক সংখ্যা দ্রুত পরিবর্তিত হয়ে বেগ নির্দেশ করবে। পক্ষান্তরে, বাটি ধীরে ধীরে ঘূর্ণায়মান অবস্থায় যন্ত্রের সংখ্যাগুলো ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হবে। বায়ুপ্রবাহের দিক ও গতি নিরূপণ করার জন্য থার্মোগ্রাফ (Thermograph), ব্যারোগ্রাফ (Barograph), উইন্ডরোজ (windrose) প্রভৃতি স্বয়ংক্রিয় (automatic) যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। সাধারণত আবহ-মানচিত্রে (Weather map) তীর ও পালকের সাহায্যে বায়ুর গতি ও দিক নির্দেশ করা হয়।

জলবায়ু অঞ্চল ও জলবায়ু পরিবর্তন-ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান স্যার এর লেখা বই
Read more