hsc

পাঠ-১১: বাংলাদেশের প্রধান কৃষিক্ষেত্র: ফসল উৎপাদন, পশুপালন, বনায়ন ও মৎস্য চাষ

ভূগোল ২য় পত্র - ভূগোল - এইচএসসি | NCTB BOOK

12

(Major Sectors of Bangladesh Agriculture: Crop Production, Herding, Afforestation and Fish Cultivation)

বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। এদেশের সার্বিক প্রেক্ষাপটে কৃষির ক্ষেত্রসমূহ আলোচনা করা হলো-

ক. শস্য উৎপাদনক্ষেত্র বিভিন্ন প্রকার শস্য নিয়ে বাংলাদেশে কৃষির এই ক্ষেত্র গঠিত। এটি বাংলাদেশে কৃষির বৃহত্তম
ক্ষেত্র। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৯ অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশে ৪১৫.৭৪ মেট্রিক টন শস্য উৎপাদিত হয়। বাংলাদেশের প্রধান প্রধান শস্য হচ্ছে ধান, পাট, ডাল, তৈলবীজ, আলু, তামাক, শাকসব্জি, রেশম, চা প্রভৃতি। আমাদের মোট কৃষি উৎপাদনের প্রায় ৫৭% এর বেশি উৎপাদিত হয় শস্য উৎপাদন ক্ষেত্র থেকে। ধান এবং পাট যথাক্রমে বাংলাদেশের প্রধান খাদ্যশস্য ও অর্থকরী ফসল। ।। পাট এদেশে "সোনালী আঁশ" নামে পরিচিত।

সারণি ৪.১১: খাদ্যশস্য উৎপাদন ২০১৮-২০১৯
(লক্ষ মেট্রিক টন)

খাদ্যশস্যপরিমাণ
আউশ২৭.০২
আমন১৪১.৩৪
বোরো১৯৬.২৩
মোট চাল৩৬৪.৫৯
গম১২.৮৭
ভূট্টা৩৮.২৮
সর্বমোট৪১৫.৭৪

খ. মৎস্য সম্পদ: বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃষিখাত হচ্ছে মৎস্য খাত। এদেশে আত্মকর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচন, প্রাণিজ আমিষ সরবরাহ ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে মৎস্য খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশের মৎস্য খাত আবার দুই ভাগে বিভক্ত। যথ- i) মিঠা পানির মৎস্য ও ii) সামুদ্রিক মৎস্য। দেশের বিভিন্ন প্রাকৃতিক জলাশয় ছাড়াও সরকারি ও বেসরকারি এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন মৎস্য খামার ও হ্যাচারী বৃদ্ধি পাওয়ায় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাছাড়া দেশের উপকূলভাগে প্রায় সারাবছর জেলেরা বিভিন্ন সামুদ্রিক মৎস্য ধরে জীবিকা নির্বাহ করছে। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি দ্রব্য হলো মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য। অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৯ অনুযায়ী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এদেশে অভ্যন্তরীণ জলাশয় ও সামুদ্রিক উৎস থেকে মোট ৪৩.৮১ লক্ষ মেট্রিক টন মৎস্য উৎপাদিত হয়েছে। মুক্ত জলাশয় এবং বদ্ধ জলাশয়ে মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে যথাক্রমে ৩য় ও ৫ম স্থানে রয়েছে (২০১৯)।

সারণি ৪.১২: মৎস্য খাতের বিভিন্ন উৎস হতে মাছের উৎপাদন (২০১৮-২০১৯)
(লক্ষ মেট্রিক টন)

গ. প্রাণিসম্পদ: কৃষির উপযোগ সৃষ্টি, গ্রামীণ পরিবহন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন, প্রভৃতি ক্ষেত্রে পশু সম্পদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি, ভেড়া, বিভিন্ন প্রকার পাখি প্রভৃতি আমাদের দেশে পশু সম্পদ হিসেবে পালন করা হয়। এ সমস্ত পশুপাখির মাংস, চামড়া, দুধ, ডিম, পশম, বাচ্চা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রয় করে আমরা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করি। বাংলাদেশের মোট কৃষি আয়ের ১৩.৪৬% প্রাণিসম্পদ খাত থেকে আসে। আমাদের দেশে যদি বাণিজ্যিকভাবে আরো ব্যাপক পরিসরে পশুপাখির খামার করা হতো, তাহলে আমরা আমাদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে অনেক বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারতাম।

সারণি ৪.১৩: প্রাণিসম্পদের পরিমাণ (২০১৮-২০১৯)

প্রাণিসম্পদসংখ্যা (লক্ষ)
গরু২৪২
মহিষ১৫
ছাগল২৬২
ভেড়া৩৫
মোরগ-মুরগি২৮৬৯
হাঁস৫৭১

সূত্র: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা- ২০১৯ (ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, পৃষ্ঠা-৮৮)
সারণি ৪.১৪: দুধ, মাংস ও ডিম উৎপাদন (২০১৭-২০১৮)

দ্রব্যউৎপাদন
দুধ৯৪.০৬ লক্ষ টন।
মাংস৭২.৬০ লক্ষ টন
ডিম১৫৫২০০ লক্ষটি

সূত্র: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা- ২০১৯, পৃষ্ঠা-৮৮

ঘ. বনায়ন: বনায়ন বা সামাজিক বনায়ন কৃষিখাতের একটি নতুন ধারণা। কাঠ, বাঁশ, বেত, মোম, মধু, জ্বালানি কাঠ প্রভৃতি নিয়ে কৃষির এই ক্ষেত্রটি গঠিত। এই খাত থেকে মোট কৃষি আয়ের ৮% পাওয়া যায়। আমাদের (সব ধরনের বনভূমি মিলে) দেশের মোট আয়তনের ১৭.৫১% বনভূমি রয়েছে। পরিবেশ রক্ষায় বনভূমির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে বনভূমির পরিমাণ যদি আরও বেশি থাকতো এবং আমরা যদি নির্বিচারে বন ধ্বংস না করতাম, তাহলে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিক দিক দিয়ে অনেক লাভবান হতে পারতাম।

সারণি-৪.১৫: জিডিপিতে কৃষির বিভিন্ন খাতের অবদান (২০১৮-২০১৯)

কৃষিখাতমোট পরিমাণ (কোটি টাকা)
১. শস্য উৎপাদন১৭১,৩০৮
২. মৎস্য সম্পদ৭৪,৮২৮
৩. প্রাণিসম্পদ৪৩,২১২
৪. বনজ সম্পদ৩১,৭৪৭

সূত্র: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৯, পৃষ্ঠা-২২৮।

উপরের আলোচনা এবং সারণী হতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এ কথা বলা যায় যে, বাংলাদেশে কৃষির বিভিন্ন খাতের মধ্যে শস্য উৎপাদন খাতই প্রধান। এই খাতের মধ্যে আবার অর্থকরী ফসলের তুলনায় খাদ্যশস্যকে অধিক গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে আছে মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও বনায়ন খাত। সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করলে এ সমস্ত খাত থেকে আমরা অধিক উপযোগ পেতে পারি।

কৃষি (Agriculture)-ড. হ জ ম হাসিবুশ শাহীদ-স্যারে লেখা বই

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...