hsc

পাঠ-১১: বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে অপ্রচলিত পণ্য ও জনশক্তি রপ্তানি

ভূগোল ২য় পত্র - ভূগোল - এইচএসসি | NCTB BOOK

7

(Non-traditional goods of Bangladesh in earning foreign currency and man-power export)

বাংলাদেশ বৈদেশিক বাণিজ্যের সাথে যুক্ত হওয়ার পর থেকেই প্রচলিত ও অপ্রচলিত উভয় পণ্য রপ্তানি করে আসছে। বাংলাদেশ যেসব অপ্রচলিত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে সেগুলোর মধ্যে তৈরি পোশাক চামড়া ও হস্ত শিল্পজাত দ্রব্য উল্লেখযোগ্য। এসব অপ্রচলিত পণ্যের মধ্যে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক রপ্তানির মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। দ্বিতীয় অপ্রচলিত পণ্য রপ্তানিতে রয়েছে চামড়াজাত দ্রব্য। উল্লেখ্য তৈরি পোশাক ও চামড়াজাত দ্রব্য দীর্ঘদিন ধরে রপ্তানি বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখায় এগুলো বর্তমানে প্রচলিত পণ্যের তালিকায় চলে এসেছে।

(ক) তৈরি পোশাক: তৈরি পোশাক শিল্প বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানিমুখী শিল্প। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক খাত থেকে ৩৪.৯৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে যা মোট রপ্তানির ৮৬.২ শতাংশ। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রধান আমদানিকারক দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, পূর্ব ইউরোপের দেশসমূহ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে দেশটি তৈরি পোশাক রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। এ দেশের তৈরি পোশাকের মধ্যে শার্ট, পাজামা, জিন্স প্যান্ট, জ্যাকেট, ট্রাউজার, গেঞ্জি, সোয়েটার, পুলওভার, ড্রেস, গ্লাভস, খেলাধুলার পোশাক, শীতকালীন পোশাক, নাইট ড্রেস প্রভৃতি বিদেশে যথেষ্ট সমাদৃত। নিচের সারণিতে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে পোশাক শিল্পের মোট রপ্তানি আয় দেখানো হলো:

সারণি-৮.১৭: তৈরি পোশাকের রপ্তানি আয় (মিলিয়ন মার্কিন ডলার)

সালআয়
২০১৪-২০১৫২৫৪৯২
২০১৫-২০১৬২৮১৩৯
২০১৬-২০১৭২৮১৪৯
২০১৭-২০১৮৩০১৪৭.৭৬
২০১৮-১৯৩৪৯৮৪,৯৯

উৎস: রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো, ২০১৯

(খ) চামড়া: বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যগুলোর মধ্যে চামড়া ও চামড়াজাত দ্রব্য অন্যতম। এসব দ্রব্য বিদেশে রপ্তানি করে দেশটি প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। এ দেশের চামড়া প্রধানত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, বেলজিয়াম, পোল্যান্ড, জাপান প্রভৃতি দেশে রপ্তানি করা হয়। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ এ খাত থেকে ১০১৯.৭৮ মিলিয়ন ডলার আয় করে (সূত্র: ইপিবি-২০২০)।

(গ) হস্তশিল্পজাত দ্রব্য: বিদেশের বাজারে বাংলাদেশের হস্তশিল্পজাত দ্রব্যের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। বিভিন্ন হস্তশিল্পজাত দ্রব্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে (মার্চ পর্যন্ত) বাংলাদেশ এ খাত থেকে ১৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে।
জনশক্তি রপ্তানি: জনশক্তি, কর্মসংস্থান এবং প্রশিক্ষণ ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবাসী আয় (remittance) প্রায় ১,৬৪২ কোটি মার্কিন ডলার।

সারণি-৮.১৮ : ২০১৭-২০১৮ দেশভিত্তিক প্রবাসী আয় (মিলিয়ন মার্কিন ডলার)

সৌদি আরবসংযুক্ত আরব আমিরাতকাতারওমানকুয়েতযুক্তরাষ্ট্রযুক্তরাজ্যমালয়েশিয়াসিঙ্গাপুরঅন্যান্যমোট
২৫৯১.৬২৪৩০.০৮৪৪.১৯৫৮.২১১৯৯.৭১৯৯৭.৫১১০৬.০১১০৭.২৩৩০.২১৮৭৫.৭১৪৯৮১.৭

উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৯

এছাড়া বাংলাদেশ থেকে আরও কিছু অপ্রচলিত পণ্য যেমন- অশোধিত সার, চিটাগুড়, দিয়াশলাই, পারটেক্স, রেয়ন, নারিকেলের ছোবড়া, গরুর ভুঁড়ি, মসলা, ফুলের ঝাড়ু, ওষুধ প্রভৃতি বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে।

বাণিজ্য (Trade) - মোহাম্মদ আরিফুর রহমান ও ইকবাল উদ্দিন আহমেদ মিঠু স্যারে লেখা বই

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...