(Sea Ports in Bangladesh)
বাংলাদেশে বর্তমানে তিনটি সমুদ্রবন্দর রয়েছে। যথা- ১. চট্টগ্রাম, ২. মংলা ও ৩. পায়রা সমুদ্রবন্দর।
চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর
বাংলাদেশের প্রধান, সর্ববৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর হলো চট্টগ্রাম বন্দর। দেশের অধিকাংশ আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্য এ বন্দরের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়। তাই বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের গুরুত্ব অপরিসীম।
চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের গুরুত্ব: চট্টগ্রামের কর্ণফুলি নদীর মোহনা হতে প্রায় ১৩ কিলোমিটার অভ্যন্তরে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর অবস্থিত। এ বন্দরের গুরুত্ব নিচে বর্ণনা করা হলো-
১. এটি বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর।
২. শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি এ বন্দরের মাধ্যমে আমদানি করা হয়।
৩. দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য তথা সামগ্রিক অর্থনীতিতে চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্ব অপরিসীম
৪. দেশের মোট আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের শতকরা ৯৭ ভাগ এ বন্দরের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়।
৫. এ বন্দরকে কেন্দ্র করে এখানে বহু শিল্প কারখানা গড়ে ওঠেছে।
৬. দেশের খাদ্যঘাটতি পূরণের জন্যে এ বন্দরের মাধ্যমে বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানি করা হয়।
৭. এ বন্দরের বিভিন্ন কাজে বহুলোক নিয়োজিত থেকে তাদের জীবিকা নির্বাহ করছে।
৮. এ বন্দর না থাকলে বাংলাদেশ বহিঃবিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হতো।
চট্টগ্রাম বন্দরের আয়-ব্যয়: ২০১৭-১৮ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের আয়ের পরিমাণ ২৬৪৭.৬৪ কোটি টাকা এবং ব্যয়ের পরিমাণ ১৪১৯.৯৬ কোটি টাকা।
সারণি-৭.৫: আয়-ব্যয়ের পরিসংখ্যান (কোটি টাকায়)
| বছর | আয় | ব্যয় | উদ্বৃত্ত |
| ২০১২-২০১৩ | ১৫৭০.৩৭ | ৮০৩,০০ | ৭৬৭.৩৭ |
| ২০১৩-২০১৪ | ১৬৩৪.৩২ | ৮১৫.৬৫ | ৮১৮.৬৭ |
| ২০১৪-২০১৫ | ১৮৭৬.৮২ | ৮৬০.৯৫ | ১০১৫.৮৭ |
| ২০১৫-২০১৬ | ২০৩০.৮৫ | ১০৭৩.৫৪ | ৯৫৭.৩১ |
| ২০১৬-২০১৭ | ২৩৮৬.২২ | ১৩৬৬.২১ | ১০২০.২২ |
| ২০১৭-২০১৮ | ২৬৪৭.৬৪ | ১৪১৯.৯৬ | ১২২৮.৫৯ |
উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৯
বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য পণ্যের প্রায় ৯৭% চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রেরণ করা হয়। এ বন্দরের মাধ্যমে রপ্তানিকৃত পণ্যসামগ্রীর মধ্যে পাট ও পাটজাতদ্রব্য, তৈরি পোশাক, চা, চামড়া প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। আমদানিকৃত প্রধান পণ্যসামগ্রী হলো খাদ্যশস্য, পেট্রোলিয়াম, কলকজা, নির্মাণ দ্রব্য ইত্যাদি। এটি বিশ্বের ৬৪তম ব্যস্ততম বন্দর (সূত্র- Lloyd's list-2019) মোট কথা বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য তথা অর্থনীতিতে চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্ব অপরিসীম।
মংলা সমুদ্রবন্দর
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্দর হলো মংলা সমুদ্রবন্দর। এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর। খুলনা শহর থেকে ৪৮ কিলোমিটার দূরে পশুর নদীর তীরে এ বন্দর অবস্থিত। ১৯৫০ সালের ডিসেম্বর মাসে বন্দরটি জাহাজ চলাচলের জন্যে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
গড়ে উঠার কারণ:
১. দেশের আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ বৃদ্ধি;
২. উত্তরবঙ্গ থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য পরিবহন কষ্টসাধ্য;
৩. চট্টগ্রাম বন্দরের সম্প্রসারণ ও জেটি নির্মাণ খুব ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য।
মংলা বন্দরের গুরুত্বঃ
১. এ বন্দরের মাধ্যমে রপ্তানিযোগ্য পণ্য সহজে সমুদ্রপথে বিদেশে পাঠানো সম্ভব হয়েছে।
২. এ বন্দরে বহুলোক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে।
৩. এ বন্দরের মাধ্যমে বিভিন্ন কৃষিজাত দ্রব্য বিদেশে রপ্তানি করা হয় বলে বন্দরটি কৃষির উন্নতিতে সহায়ক।
৪. অভ্যন্তরীণ নদী বন্দরের সাথে সংযোগ থাকায়, এ বন্দরে স্বল্প মূল্যে পণ্যদ্রব্য আনা এবং দেশজুড়ে (আমদানিকৃত) পণ্য ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
৫. বিদেশ থেকে খাদ্যশস্য এ বন্দরের মাধ্যমে আমদানি করা হয়ে থাকে।
৬. শিল্পের কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি এ বন্দরের মাধ্যমে আমদানি করা হয়ে থাকে।
৭. দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতিতে এ বন্দর সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে।
মংলা বন্দরের আয়-ব্যয়:
সারণি-৭.৬: আয়-ব্যয়ের পরিসংখ্যান (কোটি টাকায়)
| সাল | আয় | ব্যয় | উদ্বৃত্ত |
| ২০১২-২০১৩ | ১৩৮.০৮ | ৯৪.১৩ | ৪৩.৯৫ |
| ২০১৩-২০১৪ | ১৫৫.৭৩ | ১০২.১০ | ৫৩.৬৩ |
| ২০১৪-২০১৫ | ১৭০.১৭ | ১০৯.৪৮ | ৬০.৬৯ |
| ২০১৫-২০১৬ | ১৯৬.৬২ | ১৩১.৯০ | ৬৪.৭২ |
| ২০১৬-২০১৭ | ২২৬.৫৬ | ১৫৫.১৫ | ৭১.৪১ |
| ২০১৭-২০১৮ | ২৭৬.১৪ | ১৬৬.৮১. | ১০৯.৩৩ |
বাংলাদেশের মোট রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৩% মংলা বন্দরের মাধ্যমে সংঘটিত হয়ে থাকে। অতএব, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মংলা সমুদ্রবন্দরের গুরুত্ব অপরিসীম।
পায়রা সমুদ্রবন্দর
পায়রা বাংলাদেশে গড়ে ওঠা তৃতীয় সমুদ্রবন্দর। পটুয়াখালি জেলার কলাপাড়ায় রাবনাবাদ চ্যানেলের তীরে বন্দরটি গড়ে ওঠেছে। বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধির অব্যাহত গতি এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ২০১৩ সালের ১০ নভেম্বর জাতীয় সংসদে 'পায়রা সমুদ্রবন্দর আইন ২০১৩' পাস হয়। ১৯ নভেম্বর, ২০১৩ সালে 'পায়রা সমুদ্রবন্দর' উদ্বোধন করা হয়। ১৯ আগস্ট ২০১৬ থেকে সমুদ্রবন্দরটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে পশ্চাদ্ভূমি (দেশের অভ্যন্তরভাগ) থেকে বন্দর পর্যন্ত পণ্যসামগ্রী (সিমেন্ট, সার) পরিবহনের কার্যক্রম সীমিতভাবে শুরু হয়েছে। ২০১৭-১৮ সালে এ বছরে ৯টি বিদেশি জাহাজ আগমন করে এবং ১.৭২ লক্ষ মেট্রিক টন পণ্য পরিবহন করা হয়। আশা করা হচ্ছে ২০২৩ সালের মধ্যে বন্দরটি পূর্ণাঙ্গভাবে সচল হবে এবং আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে সম্পূর্ণ সক্রিয় হবে।
পায়রা সমুদ্রবন্দর গড়ে ওঠার কারণ:
১. দেশের রপ্তানি বাণিজ্যে প্রাণ সঞ্চার করা; বিশেষ করে পোশাক রপ্তানি সহজীকরণ করা;
২. স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদিত পণ্যের রপ্তানি সুবিধা নিশ্চিত করা;
৩. গভীর সমুদ্রবন্দরের অভাব পূরণ করা।
৪. কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর।
পরিবহন ও যোগাযোগ-ড. হ জ ম হাসিবুশ শাহীদ-স্যারে লেখা বই
Read more