Bangladesh by Square and Circular Methods And Differentiation of Urban Population)
বৃত্ত বা বর্গ সম্বলিত মানচিত্র পরিসংখ্যান উপাত্ত উপস্থাপনের একটি কৌশল। জনসংখ্যা, ভূমি ব্যবহার, কৃষি ও শিল্প উৎপাদন ইত্যাদি আনুপাতিক হারে প্রদর্শনের জন্য এই কৌশল প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। মানচিত্রে বৃত্তলেখ, বর্গলেখ, চক্রলেখ, স্তম্ভলেখ, গোলকলেখ, রৈখিকলেখ ইত্যাদি দেখানো হয়ে থাকে।
জনসংখ্যা প্রদর্শনের জন্য শহরের কেন্দ্রস্থলে বৃত্ত অথবা বর্গ অঙ্কন করতে হবে। বৃত্ত কিংবা বর্গের আয়তন যাই হোক তার কেন্দ্রস্থলটি শহর বা নগরের কেন্দ্রস্থলে থাকা উচিৎ।
বর্গ মানচিত্রের উদাহরণ ও অঙ্কন পদ্ধতি
বর্গ মানচিত্রে জনসংখ্যা প্রদর্শনের জন্য কোনো অঞ্চলের মোট জনসংখ্যা এবং ঐ অঞ্চলের শহর কিংবা গ্রামীণ জনসংখ্যার পরিসংখ্যান থেকে আসন্ন পূর্ণসংখ্যা ও পূর্ণসংখ্যার বর্গমূল বের করতে হবে। অতঃপর প্রাপ্ত বর্গমূল থেকে প্রতি ইঞ্চি বা সেন্টিমিটারে নির্দিষ্ট সংখ্যা ধরে বর্গের বাহুর দৈর্ঘ্য নির্ণয় করতে হবে।
আনুপাতিক বর্গক্ষেত্রের জন্য প্রথমে অঞ্চল, বিভাগ বা জেলার জনসংখ্যার বর্গমূল ও বাহুর দৈর্ঘ্য নির্ণয় করার পর শহর কিংবা গ্রামের জনসংখ্যার বর্গমূল ও তার বাহুর দৈর্ঘ্য বের করতে হবে। প্রথম বর্গটি অঙ্কনের পর অঙ্কিত বর্গের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে দ্বিতীয় বর্গটি অঙ্কিত হবে। নিম্নের সারণি ও তার ব্যাখ্যা থেকে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
সারণি-৩.১: বাংলাদেশের নির্বাচিত পাঁচটি জেলা ও এগুলোয় নগরীয় জনসংখ্যা (সর্বশেষ আদমশুমারি অনুযায়ী)
| জেলার নাম | মোট জনসংখ্যা | নগরীয় জনসংখ্যা |
| ঢাকা | ১২০৪৩৯৭৭ | ৬৯৭০১০৫ |
| ময়মনসিংহ | ৫১১০২৭২ | ২৫৮০৪০ |
| ফরিদপুর | ১৯১২৯৬৯ | ১২১৬৩২ |
| টাঙ্গাইল | ৩৬০৫০৮৩ | ১৬৭৪১২ |
| জামালপুর | ২২৯২৬৭৪ | ১৪২৭৬৪ |
উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ-২০১৬
উপরের উপাত্ত থেকে এবার বর্গচিত্র উপস্থাপনের হিসাব নির্ণয় করা হবে।
সারণি-৩.২: আনুপাতিক বর্গের হিসাব (জেলার ক্ষেত্রে) [স্কেল: প্রতি ইঞ্চিতে ২০০০ জন]
| জেলার নাম | মোট জনসংখ্যা | আসন্ন পূর্ণসংখ্যা | পূর্ণসংখ্যার বর্গমূল | স্কেল অনুসারে দৈর্ঘ্য | |
| ঢাকা | ১২০৪৩৯৭৭ | ১২০০০০০০ | ৩৪৬৪ | ইঞি | সে.মি. |
| ময়মনসিংহ | ৫১১০২৭২ | ৫১০০০০০ | ২২৫৮ | ১.৭৩ | ৪.৩৯ |
| ফরিদপুর | ১৯১২৯৬৯ | ১৯০০০০০ | ১৩৭৮ | ১.১৩ | ৪.৩৯ |
| ফরিদপুর | ৩৬০৫০৮৩ | ৩৬০০০০০ | ১৮৯৭ | ০.৬৯ | ১.৭৫ |
| জামালপুর | ৩৬০৫০৮৩ | ২২০০০০০ | ১৪৮৩ | ০.৯৫ | ২.৪১ |
| ০.৭৪ | ১.৮৮ | ||||
সারণি-৩.৩: আনুপাতিক বর্গের হিসাব (নগরের ক্ষেত্রে) [স্কেল: প্রতি ইঞ্চিতে ২০০০ জন)
| জেলার নাম | নগরীর জনসংখ্যা | আসন্ন পূর্ণমান | পূর্ণসংখ্যার বর্গমূল | স্কেল অনুসারে দৈর্ঘ্য | |
| ঢাকা | ৬৯৭০১০৫ | ৭০০০০০০ | ২৬৪৬ | ইঞ্চি | সে.মি. |
| ময়মনসিংহ | ২৫৮০৪০ | ৩০০০০০ | ৫৪৮ | ১.৩২ | ৩.৩৫ |
| ফরিদপুর | ১২১৬৩২ | ১০০০০০ | ৩১৬ | ০.২৭ | ০.৬৯ |
| টাঙ্গাইল | ১৬৭৪১২ | ২০০০০০ | ৪৪৭ | ০.১৬ | ০.৪১ |
| জামালপুর | ১৪২৭৬৪ | ১০০০০০ | ৩১৬ | ০.২২ | ০.৫৬ |
| ০.১৬ | ০.৪১ | ||||
বর্গগুলোর বাহুর দৈর্ঘ্য নির্ণয় করার জন্য প্রতি ইঞ্চিতে ২০০০ জন ধরা হয়েছে। এভাবে জেলা ও নগরের জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্বকারী বর্গের বাহুর দৈর্ঘ্য নির্ণয় করে পরবর্তীতে মানচিত্রে বর্গক্ষেত্রগুলো অঙ্কন করা হয়েছে। মূল বর্গক্ষেত্রগুলো জেলার জনসংখ্যা এবং অন্তবর্তী বর্গক্ষেত্র শহরের জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্বকারী, যা মূল বর্গক্ষেত্রের দক্ষিণ পশ্চিম কোণ হতে অঙ্কিত। ঢাকা শহরের জনসংখ্যা সর্বাধিক হওয়াতে অন্তবর্তী বর্গক্ষেত্র আয়তনে অনেক বড় এবং ফরিদপুর জেলার নগরী জনসংখ্যা নিতান্ত কম হওয়াতে অন্তর্বর্তী বর্গক্ষেত্রের আয়তনও অতি ক্ষুদ্র।
আনুপাতিক বর্গ মানচিত্রে প্রতিনিধিত্বকারী বর্গের বাহুর দৈর্ঘ্য নির্ণয়ের সূত্র হলো: জনসংখ্যার আসন্ন পূর্ণমানের বর্গমূল/স্কেলে নির্ধারিত জনসংখ্যা
সূত্র অনুযায়ী, ঢাকা জেলার জনসংখ্যার আসন্ন পূর্ণসংখ্যার বর্গমূল ৩৪৬৪ এবং স্কেলে নির্ধারিত জনসংখ্যা প্রতি ইঞ্চিতে
২০০০ জন। এক্ষেত্রে বর্গের বাহুর দৈর্ঘ্য = ১.৭৩ ইঞ্চি বা ৪.৩৯ সে.মি.।
উপরিউক্ত নিয়মে প্রত্যেকটি অঞ্চলের মোট জনসংখ্যা ও নগরীর জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্বকারী বর্গের বাহুর দৈর্ঘ্য নির্ণয় করা হয়েছে।

বসতি (Settlement) - মোহাম্মদ আরিফুর রহমান ও ইকবাল উদ্দিন আহমেদ মিঠু স্যারে লেখা বই
Read more