(Practical: Observation of Geographic Area and Report Presentation)
সৃষ্টির শুরু থেকেই মানুষ জ্ঞান অর্জন করে আসছে। এটি তার স্বাভাবিক প্রবৃত্তি (nature)। জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রধানত দুইটি পদ্ধতি মানুষ ব্যবহার করে। একটি বই পড়া এবং অন্যটি বাস্তবতা থেকে শেখা। যেমন- কোনো স্থান ভ্রমণ করে তা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে জ্ঞানার্জন করা। বই পড়ার পাশাপাশি ভূগোলে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রীদের জন্য শিক্ষাসফরের মাধ্যমে ভৌগোলিক স্থান পর্যবেক্ষণ করা একটি অপরিহার্য বিষয়।প্রতিনিয়ত পৃথিবীর বিভিন্ন অংশ (প্রাকৃতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক) পরিবর্তিত, পরিবর্ধিত এবং পরিমার্জিত হচ্ছে। আর এসবের পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা করাই হচ্ছে একজন ভূগোলবিদের প্রধান কাজ। নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে ভৌগোলিক স্থান পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রতিবেদন তৈরি করতে হয়। এর মাধ্যমে উক্ত স্থানের প্রাকৃতিক উপাদানের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়। আবার মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থা বা প্রাকৃতিক ও মানব ভূগোলের মধ্যে যে আন্তঃসম্পর্ক তাও ব্যাখ্যা করা যায়।
কোনো একটি ভৌগোলিক স্থান পর্যবেক্ষণে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি দৃষ্টি দিতে হবে:
ক. লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য: এই অংশে সেইসব লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য লিপিবদ্ধ করা হয় যেন প্রতিবেদন পাঠক ভৌগোলিক স্থান : পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব বুঝতে পারেন।
খ. ব্যাখ্যা: যে স্থান পর্যবেক্ষণ করা হলো সেখানে তার ব্যাখ্যা দিতে হয়। এখানে কীভাবে, কখন এবং কার কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে
গ. বিষয়বস্তু:
* পাঠক যেন সন্তুষ্ট হয় সেভাবে এই অংশে তথ্য দিতে হবে।
তথ্য সংগ্রহ বৈধ (authentic) হতে হবে। কেননা, ঐ একই স্থান নিয়ে পূর্বে ও পরে আরো পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা হতে পারে।
তথ্য সংগ্রহ নির্ভরযোগ্য (reliable) হতে হবে। একই সময়ে একই তথ্য অন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সংগ্রহ করলে যেন * তা একই হয়।
ঘ. কাঠামো
*কোন সময়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। যেমন: এই প্রতিবেদনের তথ্যগুলো ১৪ থেকে ২৫ আগস্টের মধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে।
* বিভিন্ন তথ্য কীভাবে সংগ্রহ করা হবে তা কাঠামো অংশে উল্লেখ করা হয়। যেমন: পর্যবেক্ষণ বা জরিপ (প্রশ্নমালা, অনলাইন বা লাইব্রেরি) ইত্যাদি।
প্রতিবেদন তৈরি: কোনো একটি ভৌগোলিক স্থান পর্যবেক্ষণের পর যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয় তার গঠন বা
Structure নিম্নরূপ-
১. শিরোনাম: প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে গেলে এর গ্রহণযোগ্য একটি শিরোনাম বা Title দিতে হয়। এই পৃষ্ঠার নিচে পর্যবেক্ষক বা গবেষকের নাম, প্রতিবেদন জমাদানের তারিখ, ডিপার্টমেন্ট বা কোর্সের নাম ইত্যাদি উল্লেখ করতে হবে।
২. কৃতজ্ঞতা স্বীকার (Acknowledgements): প্রতিবেদন তৈরিতে এবং তথ্য সংগ্রহে যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সহায়ক হয়েছে তাদের নাম দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হয়।
৩. সূচিপত্র: সম্পূর্ণ প্রতিবেদনে যত অধ্যায় থাকবে এবং তার যত উপ-বিভাগ ও বিষয়বস্তু থাকবে তা সূচিপত্র পৃষ্ঠাতে 'পৃষ্ঠা নং' উল্লেখ করে সাজাতে হয়। এমনকি সারণি, চিত্র, মানচিত্র ইত্যাদিরও পৃষ্ঠা নম্বর এখানে উল্লেখ করা হয়।
৪. গ্রন্থ সহায়িকা: ভিন্ন গ্রন্থ থেকে কোনো টেক্সট বা উদ্ধৃতি (text or quotation) নিলে এ অংশে উল্লেখ করতে হয়। তবে প্রত্যেক প্রতিবেদনের জন্যই যে এই অংশটি গুরুত্বপূর্ণ তা নয়।
৫. পদ্ধতিঃ তথ্য সংগ্রহে এবং প্রতিবেদন তৈরিতে যেসব গবেষণা পদ্ধতি (research method) ব্যবহার করা হয় প্রতিবেদনের এই অংশে সংক্ষেপে তার বর্ণনা থাকে।
৬. সার সংক্ষেপ: প্রতিবেদন প্রস্তুতিতে সার সংক্ষেপ তৈরিতে সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। প্রতি অধ্যায়ের সারাংশ এই সার-সংক্ষেপে লিপিবদ্ধ থাকে। এটি এমনভাবে তৈরি করতে হবে যেন পাঠক পড়ে সম্পূর্ণ প্রতিবেদন সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পেতে পারে।
৭. ভূমিকা: ভৌগোলিক স্থান পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব এবং উক্ত ভ্রমণের লক্ষ্য, জ্ঞানার্জনের প্রয়োজনীয়তা ইত্যাদি সম্পর্কে সংক্ষেপে একটি ভূমিকা লেখা হয়। প্রতিবেদনের প্রথম এই ভূমিকা অংশটি অনেকটা সার-সংক্ষেপের মতো করে তৈরি করা হয়।
৮. প্রধান বিষয়বস্তু: এই অংশটিই একটি ভৌগোলিক প্রতিবেদনের প্রধান বা মূল বিষয়। এই অংশে সম্পূর্ণ প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু আলোচনা করা হয়। এতে তথ্য-উপাত্ত, সারণি, মানচিত্র ইত্যাদি ব্যবহার করে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সম্পূর্ণ প্রতিবেদনের প্রায় চার ভাগের তিন ভাগই এই অংশ দ্বারা যুক্ত থাকে।
৯. ফলাফল: প্রতিবেদনের বিভিন্ন অধ্যায়ে জরিপ বা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে যেসব তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করা হয় তা বিশ্লেষণে একটি ফলাফল পাওয়া যায়। এটা সিদ্ধান্তের আগের ধাপ। এতে করে পর্যবেক্ষণ বা জরিপ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হয়।
১০. উপসংহার: উপসংহার প্রতিবেদনের সমাপ্তি অংশ। সম্পূর্ণ প্রতিবেদনের ফলাফল ও সিদ্ধান্তসহ একটি বিদায়ী (Concluding) সার সংক্ষেপই হচ্ছে উপসংহার।
১১. সুপারিশসমূহ: ভৌগোলিক স্থান পর্যবেক্ষণের পর যে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়, তাতে লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এবং ফলাফলের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট কিছু সুপারিশমালা তুলে ধরা হয়। অর্থাৎ উক্ত এলাকা বা এর ভৌগোলিক উপাদানসমূহের উন্নয়নের জন্য প্রশাসন বা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণে কিছু সুপারিশ করা হয়।
১২. পরিশিষ্ট: প্রতিবেদন তৈরিতে একটি অন্যতম গঠন উপাদান হলো পরিশিষ্ট। এ অংশে প্রাথমিক তথ্য, উপাত্ত (raw data) উল্লেখ করা হয়।
১৩. শব্দকোষ বা শব্দভান্ডার: এটি প্রতিবেদনের গঠন কাঠামোতে খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। তবে নতুন কোনো শব্দ বা term থাকলে শব্দকোষে লিস্ট বা তালিকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এই অংশটি প্রতিবেদনের শেষে অথবা প্রথম দিকেও উল্লেখ করা যায়।
দূষণ ও দুর্যোগ- প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী- স্যারে লেখা বই
Read more