(Practical: Map Drawing with Circular Method)
বিভিন্ন স্থানের জনসংখ্যার পরিমাণ আনুপাতিক হারে প্রদর্শনের জন্য আনুপাতিক বৃত্ত মানচিত্রে উপস্থাপন করা হয়। বৃত্ত প্রদর্শনের জন্য মোট জনসংখ্যার বর্গমূল করে প্রতি ইঞ্চি বা সেন্টিমিটারে একটি নির্দিষ্ট স্কেলে জনসংখ্যা ধরে বর্গমূলগুলোকে ভাগ দিলে '০' থেকে দূরত্ব পাওয়া যাবে। অতঃপর একটি আনুভূমিক রেখায় শূন্য থেকে বিন্দুগুলোর অবস্থান চিহ্নিত করতে হবে। চিহ্নিত বিন্দুগুলোকে কেন্দ্র করে বৃত্তগুলো অঙ্কন করে মানচিত্রে যথাস্থানে তা উপস্থাপন করতে হবে। বৃত্ত মানচিত্রে অনেক সময় একটি বৃহৎ বৃত্ত অন্য একটি বৃত্তের এলাকা দখল করতে পারে। এজন্য যথাসম্ভব ব্যাসার্ধ কম নিতে হবে। বৃত্ত মানচিত্রে একটি বৃত্তকে ভাগ না করে প্রত্যেক বৃত্তের ব্যাসার্ধ নির্ণয় করা হয়।
বৃত্তের সাহায্যে জনসংখ্যা উপস্থাপনের জন্য নিচে একটি উদাহরণ দেয়া হল:
| শহর | জনসংখ্যা |
| ক | ১৭,০০০ |
| খ | ১৯,০০০ |
| গ | ৩০,০০০ |
| ঘ | ৩৬,০০০ |
| ঙ | ৪৫,০০০ |
মনে করি ১৫,০০০ লোকের জন্য একটি বৃত্তের ব্যাসার্ধ ১ সে.মি., তবে -
ক শহরের বৃত্তের ব্যাসার্ধ = ১.০ সে.মি.
খ শহরের বৃত্তের ব্যাসার্ধ = ১.০ = ১.১৩ সে.মি.
গ শহরের বৃত্তের ব্যাসার্ধ = ১.০ = ১.৪১ সে.মি.
ঘ শহরের বৃত্তের ব্যাসার্ধ = ১.০ = = ১.৫৫ সে.মি.
ঙ শহরের বৃত্তের ব্যাসার্ধ = ১.০ = ১.৭৩ সে.মি.

বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত গ্রামভিত্তিক। কিন্তু ধীরে ধীরে ভূরাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক পরিবর্তনে গ্রামীণ অর্থনীতি ভেঙে নগর বসতির প্রসার শুরু হয়। বাংলাদেশের নগর এলাকা বৃদ্ধিই হচ্ছে নগর জনসংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। সাধারণত নগরসমূহ বৃহৎ জনসংখ্যাবিশিষ্ট এবং ঘনবসতিপূর্ণ হয়ে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশের নগরসমূহে জনসংখ্যার ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। বর্তমানে বড় বড় অফিস আদালত, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সবকিছু নগর কেন্দ্রিক হয়ে গড়ে উঠছে। এমনকি অনেক ছোট বড় কারখানাও নগরের মধ্যে গড়ে উঠছে। ফলে মানুষকে বাধ্য হয়ে নগরে আসতে হয়। ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী হওয়ায় সেখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে, ভূপ্রাকৃতিক কারণে চট্টগ্রাম ও সিলেটের পাহাড়িয়া অঞ্চলে জনসংখ্যার ঘনত্ব তুলনামূলকভাবে অনেক কম। কারণ উচ্চ পার্বত্য এলাকা অপেক্ষা সমভূমিতে কৃষিকাজ সহজে করা যায় এবং মানুষের জীবনযাত্রা আরামদায়ক হয়। পাহাড়ি এলাকার ভূমি অসমতল হওয়ায় কৃষিকাজ করা তেমন সম্ভব হয় না। তাই এসকল অঞ্চলে জনসংখ্যার ঘনত্ব কম।
বসতি (Settlement) - মোহাম্মদ আরিফুর রহমান ও ইকবাল উদ্দিন আহমেদ মিঠু স্যারে লেখা বই
Read more