hsc

পাঠ-১৫: বাংলাদেশি জনশক্তি আমদানিকারক প্রধান দেশসমূহের জনশক্তি চাহিদার বিবেচ্য বিষয়সমূহ

ভূগোল ২য় পত্র - ভূগোল - এইচএসসি | NCTB BOOK

23

(Facts Behind Importing Manpower from Bangladesh to other Foreign Countries)

বাংলাদেশের জনশক্তি আমদানিকারক দেশসমূহে বাংলাদেশী জনশক্তি চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বাধীনতার পর থেকে এ চাহিদা উত্তরোত্তর বাড়ছেই। বিশেষ করে নারী শ্রমিকের চাহিদা বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রবাসী শ্রমিক, রেমিটেন্স ও বাংলাদেশের অর্থনীতি একই যোগসূত্রে গাঁথা। কারণ বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থ বেকার সমস্যা হ্রাস, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিসহ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখছে। বাংলাদেশী শ্রমিকদের বিদেশে যে চাহিদা রয়েছে তার মধ্যে তৈরি পোশাক শিল্প, বাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ কাজে বেশি নারী শ্রমিকের চাহিদা রয়েছে। মূলত আমদানিকারক দেশসমূহের বাংলাদেশি জনশক্তি চাহিদার মূল বিবেচ্য বিষয় হচ্ছে-

ক. উভয় দেশের বাণিজ্যে সুসম্পর্ক খ. বাংলাদেশে অধিক জনশক্তির প্রাপ্যতা নিচে এই বিবেচ্য বিষয় দুটি আলোচনা করা হলো:

ক. উভয় দেশের বাণিজ্যে সুসম্পর্ক: বাংলাদেশের সাথে আমদানিকারক দেশ যেমন- মালয়েশিয়া, কুয়েত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, বাহরাইন ইত্যাদি দেশের রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সুসম্পর্ক বিদ্যমান। তাছাড়া এসব দেশের মধ্যে কিছু দেশের সাথে বাংলাদেশের পণ্যসামগ্রী আমদানি-রপ্তানি সংঘটিত হয়। আবার কয়েকটি দেশের সাথে আন্তর্জাতিক সংগঠনের সুসম্পর্ক থাকায় জনশক্তি রপ্তানিতে সুবিধা হয়েছে।

খ. বাংলাদেশে অধিক জনশক্তির প্রাপ্যতা: বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১৮ কোটি লোকের বসবাস। কিন্তু এই বিপুল জনসংখ্যার সকলেই কাজ করে দেশকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছে না। তাই সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন দেশে বিপুল জনসংখ্যার বেশ কিছু অংশকে জনশক্তিতে রূপান্তর করে বিদেশে রপ্তানি করা হয়। তবে এই জনশক্তিকে শুধু বাংলাদেশ চাপ প্রয়োগে বিদেশে প্রেরণ করছে তা নয় বরং এই সহজলভ্যতার কথা বিবেচনা করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ আমাদের জনশক্তি আমদানি করছে। বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (BMET) এর তথ্য অনুসারে, ২০১৭-২০১৮ সালে বৈধভাবে ৭,৩৪,১৮১ জন বাংলাদেশি শ্রমিক বিশ্বের বিভিন্ন দেশ আমদানি করে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাণিজ্য প্রসারের জন্য এক দেশ অন্য দেশ থেকে পণ্য আমদানি-রপ্তানি করে থাকে। একইভাবে দেশের উন্নয়নের জন্য জনশক্তিও বাণিজ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন আমদানিকারক দেশ জনশক্তি আমদানি করে থাকে। এই জনশক্তি আমদানির বিভিন্ন কারণ রয়েছে। কারণগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

১. জাতীয় আয় বৃদ্ধি: বিভিন্ন দেশ জাতীয় আয় বৃদ্ধির প্রয়োজনে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি আমদানি করে। বাংলাদেশি শ্রমিক নিষ্ঠার সাথে কাজ করে উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। অধিক উৎপাদনের ফলে আমদানিকারক দেশ অতিরিক্ত পণ্য রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে এবং তা জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

২.শিল্পোন্নয়ন: আমদানিকারক দেশগুলোর আর্থ-সামাজিক কাঠামোর উন্নয়নের জন্য শিল্পোন্নয়ন অপরিহার্য। শিল্পের উন্নতির ফলে জনগণের মাথাপিছু আয় ও ভোগের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। শিল্পোন্নয়নের জন্য অধিক শ্রমের প্রয়োজন। আমদানিকারক দেশগুলোর শিল্পোন্নয়নে যে পরিমাণ শ্রমিকের প্রয়োজন তা না থাকায় বাংল

৩. বাংলাদেশের সাথে আমদানিকারক দেশের সুসম্পর্ক: অনেক দেশের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পর্ক বিদ্যমান। যে দেশগুলোর সাথে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সুসম্পর্ক রয়েছে সেসব দেশ বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি আমদানি করে। এমনকি বাণিজ্যে সুসম্পর্ক থাকায় বাংলাদেশি শ্রমিকরাও ঐসব দেশে গমনে ইচ্ছুক হয়।

৪. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন: আমদানি-রপ্তানির মাধ্যমে একটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বাংলাদেশ থেকে প্রচুর জনশক্তি আমদানি করে থাকে। এতে ঐসব দেশের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে তা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে যোগ হয়। যে দেশ ক্রমান্বয়ে প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম সে দেশ শিল্পায়ন ও জাতীয় অর্থনৈতিক দিক দিয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়।

৫. বাংলাদেশি শ্রমিকদের দক্ষতা ও নিষ্ঠা: বাংলাদেশি শ্রমিকদের আমদানিকারক দেশগুলোতে কর্মক্ষেত্রে অনেক সময় নানা ধরনের অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। উৎপাদনের হ্রাস-বৃদ্ধি, বেতন, বোনাস ইত্যাদি বিষয়ে নানা অসন্তোষের সৃষ্টি হলে শ্রমিকরা তা দক্ষতা ও নিষ্ঠার সাথে মোকাবিলা করে। ২০০৮ সালে মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশে শ্রমিক অসন্তোষের সৃষ্টি হয় কিন্তু বাংলাদেশি শ্রমিকদের দক্ষতা ও নিষ্ঠার জন্য এসব দেশে বর্তমানে জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

৬. আমদানিকারক দেশে শিল্পের প্রসার: সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, বাহরাইন, ওমান, , বাহরাইন, ওমান, জর্ডান প্রভৃতি বাংলাদেশি
জনশক্তি আমদানিকারক দেশে দিন দিন শিল্পের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটছে। শিল্পের এই প্রসারতার কারণে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এসব দেশ জনশক্তি আমদানি করে থাকে। বিশেষ করে ওমান, কাতার, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরে প্রচুর জনশক্তি রপ্তানি হয়েছে।

৭. বিদেশি পণ্যের আমদানি বন্ধ: আমদানিকারক দেশগুলো উৎপাদন বৃদ্ধি করে অধিক রপ্তানির চেষ্টা করে। সেই লক্ষ্যে বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর এসব দেশ জনশক্তি আমদানি করে উৎপাদন বৃদ্ধির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশি জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে ঐসব দেশ নিজ দেশের চাহিদা মেটাতে চেষ্টা করছে।

অবস্থানদেশজনসংখ্যা (জন)
১সৌদি আরব৫,৫১,৩০৮
২মালয়েশিয়া৯৯,৭৮৭
৩ওমান৮৯,০৭৪
৪কাতার৮২,০১২
৫কুয়েত৪৯,৬০৪
৬সিঙ্গাপুর৪০,৪০১

৮. দ্রব্যের মান উন্নয়ন: আমদানিকারক দেশগুলো বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি আমদানি করে, কারণ বাংলাদেশি শ্রমিক ঐসব দেশে গিয়ে নতুন পরিবেশে নিজেকে বাঁচিয়ে এবং টিকিয়ে রাখতে মনোযোগী হয়ে শ্রম প্রদান করে। ফলে ** উৎপাদিত উন্নতমানের পণ্য বিদেশে রপ্তানি সহজ ও সুবিধাজনক হয়।

৯. সস্তায় শ্রমিক আমদানি: বাংলাদেশ জনবহুল দেশ হওয়ায় দেশের জনসংখ্যার চাপ কমানোর জন্য স্বল্প মূল্যে বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি করে। আর আমদানিকারক দেশগুলো এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে সস্তায় বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি আমদানি করে। ২০১৭ সালে স্বল্প মূল্যে মালয়েশিয়া প্রায় ৯৯,৭৮৭ জনশক্তি আমদানি করেছে এবং প্রতিবছর এই পরিমাণ আমদানি অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে। ২০১৭ সালে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক আমদানির ক্ষেত্রে শীর্ষ দেশ হলো সৌদি আরব।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...