শিক্ষামূলক ভ্রমণ
শিক্ষাসফর প্রতিবেদনের নমুনা
শিক্ষাসফর প্রতিবেদন কীভাবে লিখতে হবে তার একটি নমুনা নিচে দেওয়া হলো। শিক্ষার্থীরা এখানে নিজস্ব পর্যবেক্ষণে তথ্য সংযোজন করবে।
প্রথম পৃষ্ঠা/ প্রচ্ছদ:
শিক্ষাসফর প্রতিবেদন ২০১৮
[উচ্চ মাধ্যমিক ব্যবহারিক পরীক্ষার আংশিক পরিপূরক।
স্থান:
উপস্থাপনায়:
রোল নং …………রেজিঃ নং-…………
শিক্ষাবর্ষ …………।শাখা……………
দ্বিতীয় পৃষ্ঠা:
তত্ত্বাবধানে
অধ্যাপক-----
ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ ……………কলেজ
তৃতীয় পৃষ্ঠা: বিষয় সূচি, সারণি সূচি, চিত্র মানচিত্র সূচি, আলোকচিত্র সূচি।
চতুর্থ পৃষ্ঠা: প্রসঙ্গ কথা / ভূমিকা
(শিক্ষা সফরের প্রয়োজনীয়তা)
পঞ্চম পৃষ্ঠা: সফর শুরুর তারিখ বার সময় পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলোতে
১. সফরের প্রস্তুতি: এখানে সফরে যাওয়ার সব পূর্ব প্রস্তুতির বর্ণনা থাকবে। যেমন- স্থান নির্বাচন, যাতায়াত, থাকা, খাওয়া, খরচ, নিরাপত্তা, কী কী সঙ্গে নিতে হবে, কার সাথে যোগাযোগ করতে হবে কী উদ্দেশ্যে যাব ইত্যাদি।
২. সফর পথের দৃশ্যাবলির বিবরণ:
৩.স্থানের ভৌগোলিক বিবরণ: নির্বাচিত স্থানের নাম লিখে তার আয়তন, অবস্থান, ভূ-প্রকৃতি, মৃত্তিকা, উদ্ভিদ, জলবায়ু, জনসংখ্যা, ধর্ম, পেশা, ভাষা, শিক্ষা, আচার-আচরণ, কৃষি, শিল্প, যাতায়াত ব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রসিদ্ধ স্থান, অধিবাসীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ইত্যাদি আর্থসামাজিক বিষয়ের ওপর ধারাবাহিক বিবরণ থাকবে।
৪. প্রত্যাবর্তন: ফিরে আসার তারিখ ও সময়, ফেরার অনুভূতি এবং পথের দুইপাশের বিবরণ এখানে থাকবে।
৫. উপসংহার: সবশেষে উপসংহার থাকবে। এখানে অভিজ্ঞতা, শিক্ষা, সুবিধা-অসুবিধা এবং ভবিষ্যতের পরামর্শ, ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা থাকবে।
শিক্ষাসফরের প্রতিবেদনের সাথে বাংলাদেশের মানচিত্র এঁকে নির্বাচিত স্থান, যাতায়াত ব্যবস্থা এবং গন্তব্য স্থানের আলোকচিত্র দিতে হবে।
উপরিউক্ত নমুনা প্রশ্নমালা জরিপের মাধ্যমে ভৌগোলিক প্রতিবেদনে বিভিন্ন তথ্য সন্নিবেশ করা যায়। এভাবে ভৌগোলিক স্থান পর্যবেক্ষণে জ্ঞানার্জন করা যায় এবং প্রতিবেদন প্রস্তুত করা যায়।
প্রতিবেদনের নমুনা

| মানবসৃষ্ট দূষণ | প্রাকৃতিক বিভিন্ন কারণে যেমন পরিবেশ দূষিত হয় তেমনি মনুষ্যসৃষ্ট কারণেও পরিবেশ ব্যাপকভাবে দূষিত হয়। মানুষ নানা উপায়ে প্রাকৃতিক পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান যেমন- মাটি, পানি, বায়ু ও শব্দকে দূষিত করছে। মানবসৃষ্ট এসব দূষণ জীবন ও পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। তাই এসব দূষণ প্রতিরোধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। |
| দূষণ ও দুর্যোগ | প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দূষণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বিদ্যমান। অনেক সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলে দূষণ বৃদ্ধি পেয়ে পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। দূষণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্পর্ক দুইভাগে ব্যাখ্যা করা যায়। যথা- (ক) প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে দূষণ সৃষ্টি (খ) দূষণের ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সৃষ্টি। |
| বায়ু দূষণ | বায়ুর উপাদানের গুণগত বা পরিমাণগত পরিবর্তনের ফলে মানুষ, প্রাণী ও উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও বিকাশ বিঘ্নিত হলে তাকে বায়ু দূষণ বলে। |
| মাটি দূষণ | কোনো কারণে যদি মাটির কার্যকারিতা বা উপযোগিতা হ্রাস পায় তখন তাকে মাটি দূষণ বলে। |
| পানি দূষণ | পানির সাথে অবাঞ্ছিত পদার্থ মিশ্রিত হয়ে যদি পানির ভৌত, রাসায়নিক ও জৈব বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন ঘটে তাকে পানি দূষণ বলে। |
| শব্দ দূষণ | মানুষের জীবনযাত্রায় বিঘ্ন ঘটায় এরূপ উচ্চ তীব্রতার শব্দ হলো শব্দ দূষণ। |
| পরিবেশ দূষণ | পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানের ভারসাম্যহীনতাই হলো পরিবেশ দূষণ। যেমন- বায়ু, পানি ও মৃত্তিকা দূষণ। |
| দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা | দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য তিনটি। যথা- ১. দুর্যোগের সময় জীবন, সম্পদ এবং পরিবেশের যে ক্ষতি হয়ে থাকে তা এড়ানো বা ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস করা, ২. প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মধ্যে অল্প সময়ে সকল প্রকার ত্রাণ পৌছানো ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং ৩. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার কাজ ভালোভাবে সম্পন্ন করা। |
| দূষণ প্রতিরোধ | পরিবেশ অধিদপ্তরের বর্তমান লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে দূষণমুক্ত বাসযোগ্য একটি সুস্থ, সুন্দর ও মডেল বাংলাদেশ গড়ে তোলা। পরিবেশ অধিদপ্তরের গৃহীত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে দূষণ জরিপ চালানো, শিল্পদূষণ নিয়ন্ত্রণ, যানবাহনজনিত দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বায়ু ও পানির গুণগত মান পরীক্ষা, ইট ভাটার জন্য পদক্ষেপ, পরিবেশগত সচেতনতা বৃদ্ধি ইত্যাদি। |
| প্রতিরোধ | দুর্যোগ প্রতিরোধে কাঠামোগত ও অকাঠামোগত দুই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যায়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে বেড়িবাঁধ নির্মাণ, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, বিশেষ পদ্ধতিতে ঘরবাড়ি নির্মাণ, নদী খনন, প্রশিক্ষণ প্রদান ইত্যাদি। |
| পূর্বপ্রস্তুতি | দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি বলতে দুর্যোগ পূর্ব সময়ে গৃহীত ঝুঁকি হ্রাসের ব্যবস্থাসমূহকে বোঝায়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় যেসব পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করা হয় তার মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল ও জনগোষ্ঠী চিহ্নিতকরণ, দুর্যোগ সংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন, সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ উল্লেখযোগ্য। |
| সাড়াদান | প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সাড়াদান একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম। সাড়াদানের কার্যক্রমগুলো হলো: ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর স্থানান্তর বা অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার তৎপরতা, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম। |
| পুনরুদ্ধার | প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে পুনরুদ্ধার আরম্ভ হয়। এই স্তরে দুর্যোগ প্রভাবিত এলাকাকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়। দুর্যোগে যেসব সম্পদ, মানুষ, পরিবেশ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর ক্ষতি হয়ে থাকে তা পুনঃনির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকে পুনরুদ্ধার বলে। |
| পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনা | বর্তমান সময়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। পরিবেশ ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনার ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। |
দূষণ ও দুর্যোগ- প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী- স্যারে লেখা বই
Read more