পাঠ-৭: সরল বা রৈখিক স্কেল অঙ্কন

ভূগোল ১ম পত্র - ভূগোল - এইচএসসি | NCTB BOOK

19

(Drawing of Simple or Linear Scale)

সরল স্কেল অঙ্কন করতে হলে একটি সরলরেখাকে সুবিধামতো কতিপয় মুখ্য (Primary) ও গৌণ (Secondary) অংশে বিভক্ত করতে হয়। এ ক্ষেত্রে স্কেলের দৈর্ঘ্য সাধারণত ৪ থেকে ৬ ইঞ্চি বা ১০ থেকে ১৫ সে.মি. এর মধ্যে হওয়া বাঞ্ছনীয়। কেননা স্কেল খুব ছোট বা বড় হলে বেশ খারাপ দেখায়। এছাড়া স্কেলের মোট দৈর্ঘ্য ভূপৃষ্ঠের যে দূরত্ব নির্দেশ করে তা যেন সবসময় জোড় সংখ্যা (Round number) হয়। যেমন- ৫,১০,২০ (ফুট) অথবা ১০০, ২০০, ৩০০ (মিটার) এ রকমভাবে দেখানো উচিত, যাতে মুখ্য ও গৌণ ভাগগুলো সহজেই পরিমাপ করা যায়। পরিমাপের সুবিধার জন্য প্রধান বা মুখ্য বিভাগগুলো শূন্য (০) দাগের ডান দিকে এবং গৌণ ভাগগুলো যা একটি প্রধান ভাগকে কতিপয় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাগে বিভক্ত করে পাওয়া যায়, সেটি সর্বদা বাম দিকে অঙ্কন করা হয়ে থাকে।

সরল স্কেলকে বিভক্ত করার পদ্ধতি

১. প্রথম পদ্ধতি: : সরল স্কেলের মোট দৈর্ঘ্য নিয়ে তাকে প্রয়োজনমতো কতিপয় প্রাথমিক ও গৌণ পর্যায়ে বিভক্ত করতে হয়। যেমন- ৮ মাইল জ্ঞাপক ৫.১ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের একটি স্কেলকে প্রথমে ৮টি প্রধান এবং পুনরায় তার একটিকে (ফার্লং দেখাতে) ৮টি গৌণ ভাগে বিভক্ত করার প্রয়োজন হয়।

সর্বপ্রথম ৫.১ ইঞ্চি দৈর্ঘ্য নিয়ে কখ সরলরেখা অঙ্কন করা হলো। ক থেকে অপর একটি রেখা কগ এমনভাবে অঙ্কন করা হলো যাতে ∠খকগ কোণটি °থেকে °-র মধ্যে হয়। এখন ডিভাইডারের সাহায্যে কগ লাইনটিকে যেকোনো দূরত্ব নিয়ে ৮টি সমান ভাগে বিভক্ত করে যথাক্রমে চ, ছ, জ, ঝ, ঞ্চ, ত, থ ও দ দ্বারা নির্দেশ করা হলো। এখন শেষ দুটি বিন্দু অর্থাৎ দখ যুক্ত করা হল। এরপর সেট স্কয়ারের (Set square) দ্বারা দখ এর সমান্তরাল করে চ, ছ ঝ, ঞ প্রভৃতি বিন্দু থেকে ৮টি রেখা অঙ্কন করা হল। এ রেখাগুলো স্কেলের দৈর্ঘ্য নির্দেশিত কখ রেখাটিকে ৮টি সমান ভাগে বিভক্ত করে। এর একটি ভাগ ১ মাইল নির্দেশ করবে।

এখন সর্বপ্রথম ভাগটিকে সমান ৮টি গৌণ ভাগে বিভক্ত করতে হবে এবং এর এক একটি ভাগ এক ফার্লং নির্দেশ করবে। প্রাথমিক ভাগটি গৌণ ভাগে বিভক্ত করার জন্য দুই প্রান্ত থেকে দুটি লম্ব; একটি উপর এবং অপরটি নিচের দিকে অঙ্কন করতে হয়। এ লম্ব দুটিকে ৮টি সমান ভাগে বিভক্ত করে বিন্দুগুলো পরস্পরের সাথে কোনাকুনি যুক্ত করলে প্রাথমিক ভাগটি ৮টি গৌণ ভাগে বিভক্ত হয়।

স্কেলের দূরত্বসূচক সংখ্যাগুলো লিখবার সময় বাম দিক থেকে দ্বিতীয় ভাগটিতে শূন্য (০) লিখতে হয়। সুতরাং, বাম পার্শ্বে সর্বশেষ ভাগটির শেষ অংশে ৮টি সংখ্যা (ফার্লং নির্দেশক) এবং শূন্য (০) চিহ্নের ডান দিকে যথাক্রমে ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭ মাইল ইত্যাদি লিখতে হয়। ফলে এ পদ্ধতিতে অঙ্কিত স্কেলে জোড় সংখ্যাগুলো (মাইল ও ফার্লং) এবং তার ভগ্নাংশ প্রত্যক্ষভাবে অতি সহজেই পরিমাপ করা যায়।

২. দ্বিতীয় পদ্ধতি: দ্বিতীয় পদ্ধতিতে ৫.১" কে ৮ দিয়ে ভাগ করলে প্রতি ভাগ ৬৪" (প্রায়) এবং বাম পার্শ্বের ভাগটিকে পুনরায় ৮ ভাগ করলে প্রতিটি ক্ষুদ্র ভাগ ০৮" নির্দেশ করবে। এরপর কর্ণ মাপনীর সাহায্য নিয়ে সরল রেখাকে সহজেই বিভক্ত করা যায়। এটাই সহজ পদ্ধতি।

ব্যবহারিক মানচিত্র ও স্কেল-কে. আশরাফুল আলম ও মো. শরিফুল ইসলাম স্যার এর লেখা বই

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...