(Importance of Rural Hat)
বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বগাস করে। এখানে যাতায়াত ব্যবস্থা তেমন ভালো থাকে না। গ্রামীণ সমাজে চাইলেই প্রয়োজনীয় জিনিস পাওয়া যায় না। এ প্রেক্ষিতে গ্রামীণ হাট মানুষের সব ধরনের প্রয়োজন মিটিয়ে থাকে। এমনকী সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবেও কাজ করে থাকে। গ্রামীণ পরিসরে হাটের ব্যাপক ভূমিকার কারণে এর গুরুত্ব কয়েকটি শিরোনামে আলোচনা করা যেতে পারে।
১. কেন্দ্রীয় সেবা: পণ্যদ্রব্য আনা নেওয়ার সুবিধার জন্য গ্রামের মধ্যে কোনো কেন্দ্রীয় জায়গা হাটের জন্য নির্ধারিত হয়। এর ফলে একটি হাটের সুবিধা পার্শ্ববর্তী ৪/৫ টি গ্রামের লোকজন পেয়ে থাকে।
২. নিত্য ব্যবহার্য পণ্য ক্রয়-বিক্রয়: গ্রামের যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকে না বলে নিজেদের উদ্বৃত্ত ও প্রয়োজনীয় যেকোনো পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করার জন্য হাট একমাত্র স্থান। এক হাটে প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী ক্রয়-বিক্রয় করতে না পারলে তাকে পরবর্তী হাটের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। এ কারণে গ্রামে হাট যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।
৩. পণ্যের প্রসার: গ্রামীণ হাটের মাধ্যমেই কৃষকের উৎপাদিত পণ্যদ্রব্য শহরাঞ্চলসহ সমগ্র দেশের মানুষের কাছে পৌঁছায়। কোনো অন্যলে কোনো পণ্যদ্রব্যের বা শাকসবজির ঘাটতি দেখা দিলে, তা উদ্বৃত্ত অঞ্চলের হাট থেকে নিয়ে প্রয়োজন মেটানো হয়। এভাবে কৃষি পণ্যের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে গ্রামীণ হাট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
৪. অর্থনৈতিক গুরুত্ব: গ্রামে বসবাসকারী মানুষ তাদের উদ্বৃত্ত উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী গ্রামীণ হাটের মাধ্যমে বিক্রয় করে থাকে। এভাবে অর্জিত অর্থের সাহায্যে তারা তাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রীসমূহ ক্রয় করে থাকে। অর্থাৎ গ্রামীণ অর্থনীতিতে হাটের গুরুত্ব খুব বেশি।
৫. প্রয়োজনীয় পণ্যের উৎস: এমন কিছু পণ্য-সামগ্রী আছে যেগুলো স্থানীয়ভাবে গ্রামে উৎপাদিত হয় না; যেমন-- লবণ, কাপড়, শাড়ি, ওষুধ, অ্যালুমিনিয়ামের হাড়ি-পাতিল, বাতি, দিয়াশলাই প্রভৃতি। এই সমস্ত দ্রব্য সামগ্রী পেতে গ্রামের মানুষদেরকে হাটের উপর নির্ভর করতেই হয়।
৬. নানাবিধ কর্মকান্ডের কেন্দ্র: গ্রামীণ হাটে মানুষ কেবল পণ্যদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় করতে যায় না। বিশেষ কারো সাথে দেখা বা যোগাযোগ করা, জমিজমা সংক্রান্ত কাজ অথবা রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ প্রভৃতি কারণেও তাদের কাছে হাট অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
৭. সামাজিক/সাংস্কৃতিক গুরুত্ব: গ্রামীণ হাটে অনেক লোকের সমাগম ঘটে। এতে কৃষকেরা নিজেদের মধ্যে নতুন নতুন কৌশল এবং কৃষি সংক্রান্ত সমস্যা, সমাধান ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। এতে জ্ঞানের বিনিময় ঘটে। অনেক বিবাদের মীমাংসা হাটে নিষ্পত্তি হয়ে থাকে। এখানে যে চায়ের দোকান থাকে সেখানে বন্ধু বান্ধব, সঙ্গী সাথীদের সাথে গল্পগুজব ও আড্ডা জমে ওঠে। মাঝে মধ্যে হাটে সার্কাস, ম্যাজিক শো, যাত্রাপালা প্রভৃতির আসর বসে। এগুলো গ্রামের মানুষের চিত্ত বিনোদনের মাধ্যম।
বসতি (Settlement) - মোহাম্মদ আরিফুর রহমান ও ইকবাল উদ্দিন আহমেদ মিঠু স্যারে লেখা বই
Read more