(Air Humidity)
জলীয়বাষ্প বায়ুমণ্ডলের একটি অন্যতম উপাদান কিন্তু তা পরিবর্তনশীল। স্থান ও কালের প্রেক্ষিতে এর পরিমাণ কমবেশি হয়। বায়ুর আর্দ্রতা বলতে বায়ুতে উপস্থিত জলীয়বাষ্পকে (water vapour) বোঝায়। সূর্যের তাপে ভূপৃষ্ঠের জলভাগ থেকে এবং শীতপ্রধান এলাকায় তুষাররাশি থেকে জলীয়বাষ্প উত্থিত হয়ে বায়ুতে মিশে যাচ্ছে। পৃথিবীর যে এলাকায় জলভাগ বেশি এবং সূর্য কিরণের আধিক্য আছে সেখানে জলীয়বাষ্পের পরিমাণও বেশি। বায়ুর আর্দ্রতা পরিমাপক যন্ত্রের নাম হাইগ্রোমিটার (hygrometer) ।
আর্দ্রতার প্রকারভেদ (Classification of Humidity):
আর্দ্রতার প্রকৃতি অনুযায়ী একে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়: ১. চরম বা নিরপেক্ষ আর্দ্রতা (Absolute humidity), ২. আপেক্ষিক আর্দ্রতা (Relative humidity)।
১. চরম বা নিরপেক্ষ আর্দ্রতা: একটি নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে জলীয়বাষ্পের প্রকৃত পরিমাণকে চরম আর্দ্রতা বলে। বায়ুর প্রতি ঘনমিটার আয়তনে যে জলীয়বাষ্প থাকে তার ওজন যত গ্রাম হয় সেই গ্রাম হিসেবে এর পরিমাপ করা হয়। চরম আর্দ্রতা নিম্ন অক্ষাংশে বেশি এবং উচ্চ অক্ষাংশে কম থাকে।
২. আপেক্ষিক আর্দ্রতা: যে কোনো উষ্ণতায় নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে প্রকৃত জলীয়বাষ্পের ভরের (mass) সঙ্গে সেই উষ্ণতায় উক্ত বায়ুকে পরিপৃক্ত করতে প্রয়োজনীয় জলীয়বাষ্পের ভরের যে অনুপাত, তাকে আপেক্ষিক আর্দ্রতা বলে। এছাড়া বিশেষ আর্দ্রতার সাথে পরিপৃক্ত বিশেষ আর্দ্রতার অনুপাতকেও আপেক্ষিক আর্দ্রতা বলে। এই আর্দ্রতা সবসময়ই শতকরা (%) হিসেবে প্রকাশ করা হয়। আপেক্ষিক আর্দ্রতা বের করার নিয়ম:
আপেক্ষিক আর্দ্রতা (%) =বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ/একই উষ্ণতায় বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণ করার ক্ষমতা=× ১০০
যেমন: একটি ঘরে বায়ুতে যদি জলীয়বাষ্পের পরিমাণ ১৫ gm এবং ঘরের উষ্ণতায় বায়ুর সর্বোচ্চ জলীয়বাষ্প ধারণক্ষমতার পরিমাণ ২২.৯ gm. হয়,
তখন আপেক্ষিক আর্দ্রতা =
শিশিরাঙ্ক (Dew point): সাধারণত দেখা যায়, বায়ুতে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প থাকে, তাতে বায়ু সম্পৃক্ত হয় না।
যদি কোনো স্থানের বায়ুকে ধীরে ধীরে শীতল করা যায় তাতে উষ্ণতা একটা নির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছালে বায়ুতে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প থাকে, তাতেই ঐ স্থানের বায়ু পরিপূক্ত হয়। এতেই শিশিরের সৃষ্টি হয় এবং এ অবস্থাকে শিশিরাঙ্ক বলে। অর্থাৎ যে তাপমাত্রায় বায়ুসহ জলীয়বাষ্প শিশিরে পরিণত হয় তাকে শিশিরাঙ্ক বলে। শিশিরাঙ্কে বাষ্পের সর্বোচ্চ চাপ এবং তৎক্ষণাত বায়ুতে বিদ্যমান প্রকৃত বাষ্পের চাপ সমান হয়।
বাষ্পীভবন (Evaporation): যে প্রক্রিয়ায় তরল পদার্থ গ্যাসীয় পদার্থে বা বাষ্পে রূপান্তরিত হয় তাকে বাষ্পীভবন
বলে। জল সূর্যতাপে বাষ্পীভূত হয়ে জলীয়বাষ্পে পরিণত হয়। উন্মুক্ত জলরাশি থেকে প্রতিনিয়ত কম-বেশি বাষ্পীভবন প্রক্রিয়া চলতে থাকে। এছাড়া আর্দ্র মৃত্তিকা, উদ্ভিদ, বৃষ্টি বিন্দু থেকে বাষ্পীভবন হয়ে থাকে। জলবায়ুবিদ্যায় (Climatology) বৃষ্টিপাতের ন্যায় বাষ্পীভবনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। উদ্ভিদের প্রস্বেদন প্রক্রিয়ার (Transpiration) মাধ্যমে বাষ্পীভবন সংঘটিত হলে তাকে Evapo-transpiration বা বাষ্পীয় প্রস্বেদন বলে। এর ফলে দিনের বেলায় পাহাড়ি অঞ্চলে বা বনভূমি এলাকায় ধোঁয়ার মতো দেখায়।
জলবায়ুর উপাদান ও নিয়ামক কে. আশরাফুল আলম ও মো. শরিফুল ইসলাম স্যার এর লেখা বই
Read more