(Practical: Map Drawing of Selected Countries, Continents and Showing Administrative Regions of Bangladesh)
মানচিত্র
আয়তাকার বা বর্গাকার কাগজে অঙ্কিত পৃথিবী বা তার অংশের ছোট আকারের প্রতিরূপকে মানচিত্র বলে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আয়তাকার কাগজেই মানচিত্র আঁকা হয়ে থাকে। মানচিত্র হচ্ছে পৃথিবী বা অঞ্চলের দ্বিমাত্রিক প্রতিরূপ। উদাহরণস্বরূপ বাংলাদেশের মানচিত্র বা পৃথিবীর মানচিত্র।'
মানচিত্রের উপাদান
মানচিত্রে তথ্য উপস্থাপনে যেসব বিষয়ের সাহায্য নেওয়া হয়, সেগুলেই মানচিত্রের উপাদান। যথা-
শিরোনাম (Title/Heading): প্রত্যেক মানচিত্রেরই একটি শিরোনাম থাকে। এটি কোনো দেশের বা অঞ্চলের কীসের
মানচিত্র এতে তা উল্লেখ থাকে। যেমন- বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্র। প্রতিটি মানচিত্র তৈরির সময় এতে একটি শিরোনাম দিতে হবে।
স্কেল (Scale): কোনো অঞ্চলের মানচিত্র তৈরির সময় এর আয়তনকে কমিয়ে ক্ষুদ্র করে আঁকতে হয়। একে স্কেল
অনুসারে আঁকা বলে। স্কেল থেকে বাঝা যায় কোন আয়তনকে কতটুকু কমানো হয়েছে। স্কেল যত ক্ষুদ্র হবে মানচিত্রে তত বেশি আয়তন দেখানো যাবে। মানচিত্রে যদি ১:১০০০,০০০ লেখা থাকে তাহলে বুঝতে হবে মানচিত্রে ১ একক ভূমির ১০০,০০০ এককের সমান। আবার স্কেল এঁকে দেখানো হয়। যেমন- মানচিত্রে এক ইঞ্চি সমান ভূমিতে কত মাইল বা এক সেন্টিমিটার সমান কত কিলোমিটার।
উত্তর দিক (North Line): মানচিত্রের দিক জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি মানচিত্রের মাথায় বাম দিকের মার্জিনে
একটি তীর দেওয়া থাকে। এই তীরের মাথায় উ. লেখা থাকে। উ. দিয়ে উত্তর দিক বোঝানো হয়। একটি দিক জানা থাকলে আমরা সহজেই অন্যদিকগুলো যেমন- দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম বের করতে পারি। মানচিত্রে দিক না দেখানো থাকলে উপরের দিককে উত্তর দিক বুঝাতে হবে। মানচিত্রে অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ স্পষ্ট করে দেখানো থাকলে উত্তর দিক না থাকলেও সকল দিক বোঝা যায়। তাই অনেক সময় এক্ষেত্রে উত্তর দিক দেখানো হয় না।
সূচক (Legend): মানচিত্রে কোন প্রতীক দিয়ে কী বোঝানো হয়েছে সূচক তা নির্দেশ করে। প্রতিটি মানচিত্রে প্রতীক ও এদের সূচক উল্লেখ করতে হবে।
তথ্য উপাত্ত (Source of Data): সব মানচিত্র তথ্য বা উপাত্তের ভিত্তিতে তৈরি হয়। এজন্য তথ্যের উৎস মার্জিনে
উল্লেখ করা প্রয়োজন।






বাংলাদেশের প্রশাসনিক মানচিত্র (Administrative Map of Bangladesh)
চিত্র-১.১৬ এ বাংলাদেশের প্রশাসনিক মানচিত্র দেখানো হয়েছে। এতে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমা, বাংলাদেশের কোন দিকে কোন দেশ, কোন সাগর এঁকে দেখানো হয়েছে। এছাড়া দেখানো হয়েছে বাংলাদেশের আটটি বিভাগ, কোন বিভাগে কোন জেলা, এদের নাম ও সীমানা।

| মানব ভূগোল | মানব ভূগোল হলো মানুষ ও স্থান সম্পর্কিত জ্ঞান। এর মাধ্যমে মানুষ ও পরিবেশের সম্পর্ক, মানবগোষ্ঠীর অবস্থানিক বিন্যাস ও বণ্টন, প্রকৃতি, উৎপাদন ও উপজীবিকা এবং অর্থনৈতিক কার্যকলাপ সম্পর্কে বিস্তর ধারণা লাভ করা যায়। মানব ভূগোলে মানুষের কর্মকাণ্ডের ওপর অধিক গুরুত্ব প্রদান করা হয় এবং সেই সাথে স্থান, সময়ভেদে তার বিশ্লেষণ করা হয়। মানব ভূগোলের আলোচনায় প্রাকৃতিক ভূগোলের বিভিন্ন বিষয়ের সাথে সম্পর্ককে গুরুত্ব প্রদান করা হয়। প্রাকৃতিক ভূগোলের সাহায্য ছাড়া মানব ভূগোলকে বর্ণনা করা সম্ভব নয়। কেননা মানুষের সব ধরনের কর্মকাণ্ডের সাথে ভৌগোলিক পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মানব ভূগোলের পরিধির মধ্যে সাংস্কৃতিক ভূগোল, অর্থনৈতিক ভূগোল, চিকিৎসা ভূগোল, ঐতিহাসিক ভূগোল, রাজনৈতিক ভূগোল, নগর ভূগোল ইত্যাদি আলোচিত হয়। |
| মানব ভূগোলের বিষয়বস্তু ও শাখা | মানুষ হলো মানব ভূগোলের প্রধান উপাদান। মানুষ, মানুষের কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের স্থানিক প্রভাব নিয়ে এটি আলোচনা করে থাকে। মানব ভূগোলের প্রধান শাখাসমূহ হচ্ছে- সামাজিক ভূগোল, নগর ভূগোল, বসতি ভূগোল, জনসংখ্যা ভূগোল, পর্যটন ভূগোল, অর্থনৈতিক ভূগোল, রাজনৈতিক ভূগোল, ঐতিহাসিক ভূগোল, উন্নয়ন সম্বন্ধীয় ভূগোল ইত্যাদি। |
| রাজনৈতিক অঞ্চল | রাজনৈতিক অঞ্চলের মুখ্য উপাদান হচ্ছে রাজনৈতিক পরিচয় জ্ঞাপক কোনো ভূখণ্ড। রাজনৈতিক অঞ্চলের প্রধান পারিসরিক বৈশিষ্ট্যসমূহ হচ্ছে অবস্থান, অভিগম্যতা, আয়তন, আকৃতি, সীমানা, সার্বভৌমত্ব ও সরকার। রাষ্ট্র হচ্ছে বিশ্বের মৌল রাজনৈতিক অঞ্চল। একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী বিশেষ করে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি, পররাষ্ট্রনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের সাথে সুসম্পর্ক ইত্যাদি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। পৃথিবী রাজনৈতিক অধ্যলসমূহ প্রকৃতি অনুযায়ী নামীয় এবং রাষ্ট্রীয় অঞ্চলে বিভক্ত। প্রধান। নামীয় অঞ্চলগুলো হচ্ছে- এশিয়া, আফ্রিকা, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ও এন্টার্কটিকা মহাদেশ। আর রাষ্ট্র হচ্ছে ভূভাগের এবং মানবগোষ্ঠীর একটা অংশ, যা একটি নির্দিষ্ট ও স্বতন্ত্র আদর্শের ভিত্তিতে অখণ্ড একক বিশেষ। পৃথিবীর বিভিন্ন মহাদেশে বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক কাঠামো দেখতে পাওয়া যায়। |
| প্রশাসনিক অঞ্চল | কোনো দেশের প্রশাসনিক কাজের সুবিধার জন্য যে অঞ্চলভিত্তিক বিভাজন করা হয় সেগুলো প্রশাসনিক অঞ্চল নামে পরিচিত। বাংলাদেশ একটি একক এবং অখন্ড রাষ্ট্র। এর আনুষ্ঠানিক নাম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। প্রশাসনিক সুবিধার জন্য বাংলাদেশকে ৮টি বিভাগ ও ৬৪টি জেলায় বিভক্ত করা হয়। এর কোনো স্বায়ত্তশাসিত প্রদেশ বা রাষ্ট্র নেই। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম। |
মানব ভূগোল - মোহা: আনিছুর রহমান ও মোঃ আব্দুর রাজ্জাক-স্যারে লেখা বই
Read more