hsc

প্রাকৃতিক পরিবেশ দূষণ (পাঠ-১২)

ভূগোল ১ম পত্র - ভূগোল - এইচএসসি | NCTB BOOK

1

(Natural Environment Degradation)

কোনো কারণে প্রাকৃতিক পরিবেশের উপাদানগুলোতে বিষাক্ত পদার্থের সংযোজন ঘটলে তাকে দূষণ (Pollution) বলে। আর উপাদানসমূহের স্বাভাবিক গুণাগুণ হ্রাস পেলে তাকে অবক্ষয় (degradation) বলে। তবে দূষণ ও অবক্ষয় শব্দ দুটি প্রায়ক্ষেত্রেই একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। নিচে পরিবেশের প্রধান প্রধান উপাদানের দূষণ, তার কারণ ও প্রতিরোধের উপায় আলোচনা করা হলো:

মাটি দূষণ (Soil Pollution)

মাটি বলতে আমরা বুঝি পৃথিবীর উপরিভাগের স্তর যা নরম এবং নানা ধরনের জৈব ও অজৈব পদার্থের মিশ্রণে গঠিত। মাটির উপরে আমরা বসবাস করি। মাটি থেকে আমাদের জীবন ধারণের নানারকম প্রয়োজনীয় উপাদান গ্রহণ করি। উদ্ভিদ ও প্রাণী মরে গেলে এগুলো আবার মাটিতে ফিরে (পচনের মাধ্যমে অজৈব উপাদান বিশ্লিষ্ট হয়ে) যায়। ফলে মাটির বিভিন্ন উপাদান আমরা ঘুরে ঘুরে বার বার ব্যবহার করতে পারি। তাই বলা যায়, মাটির সাথে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। মাটি দূষিত হলে আমাদের জীবনযাত্রায় মারাত্মক প্রভাব পড়ে। মাটিতে বিষাক্ত বর্জ্য, রাসায়নিক পদার্থের সংযোগ ও কীটনাশক প্রয়োগ প্রতিনিয়ত মাটি দূষণ করছে।

মাটি দূষণের কারণ (Causes of soil pollution): মাটি নানাভাবে দূষিত হয়। বন্যা, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, বৃষ্টিপাত, বায়ুপ্রবাহ ইত্যাদি প্রাকৃতিক কারণে মাটি ক্ষয় হয়। বন্যার ফলে মাটি ক্ষয়ে গিয়ে অনুর্বর হয়ে পড়ে। মাটিতে তখন গাছপালা জন্মাতে পারে না। বৃষ্টিপাত ও বায়ুপ্রবাহ একইভাবে মাটির উপরের উর্বর স্তর সরিয়ে নিয়ে মাটি অনুর্বর করে ফেলে।

মানুষের নানা কাজ মাটিকে দূষিত করে। বন ও গাছপালার ধ্বংস সাধন, অতিমাত্রায় কৃষিকাজ, রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার, অতিরিক্ত পানি সেচ ইত্যাদির কারণে মাটি দূষিত হয়। গাছপালা না থাকলে এবং অতিমাত্রায় কৃষিকাজ করলে মাটির উর্বর স্তর ক্ষয় হয়ে মাটি অনুর্বর হয়ে পড়ে। অতিরিক্ত পানি সেচের ফলে মাটিতে জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততার সৃষ্টি হয়। মাটির নিচের লবণ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে উপরে উঠে এসে মাটিকে অনুর্বর করে তোলে। এছাড়া নানা ধরনের বর্জ্য পদার্থ মাটি দূষণের অন্যতম কারণ। ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ এবং প্রকৃতিতে ধীরে ধীরে মিশে যায় না এমন পদার্থ (পলিথিন, প্লাস্টিক) মাটিকে দূষিত করে।

মাটি দূষণ প্রতিরোধে করণীয় (Measures to prevent soil pollution): মাটি দূষিত হলে তাতে গাছপালা, পোকামাকড়, অণুজীব জন্মাতে পারে না। এর ফলে মাটি অনুর্বর হয়ে ধীরে ধীরে মানুষের ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য উর্বর (উৎপাদনশীল) মাটি প্রয়োজন। এ কারণে মাটি যাতে অনুর্বর ও দূষিত না হয় আমাদের সবারই সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। বেশি করে গাছপালা লাগানো মাটি দূষণ রোধের একটি উপায়। কলকারখানাগুলো যেন শিল্প বর্জ্য যেখানে সেখানে না ফেলে সে বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।

জীবমণ্ডল - তাপস কুমার মজুমদার স্যার এর লেখা বই

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...