(Scope of Physical Geography)
প্রাকৃতিক ভূগোলের ক্ষেত্র বা পরিধি সম্পর্কে সহজভাবে বলা যায়- একে ভূবিজ্ঞানের একটি শাখা হিসেবে বিবেচনা করা হয় যা, বৈশ্বিক উদ্ভিদ ও প্রাণীর প্যাটার্ন সম্পর্কে জানার জন্য জীববিজ্ঞান এবং পৃথিবীর গতি ও সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহ, উপগ্রহের সাথে সম্পর্ক জানার জন্য গণিত ও পদার্থবিদ্যা বিষয়ের জ্ঞান ব্যবহার করে থাকে। এছাড়া এটি বাস্তুবিদ্যা ও পরিবেশবিদ্যাকেও অন্তর্ভুক্ত করে থাকে। সুতরাং প্রাকৃতিক ভূগোলের সাথে সম্পর্কযুক্ত বা এর আলোচ্য বিষয়গুলোর পরিসর হলো- বায়ুমণ্ডল, মহাদেশ, মরুভূমি, দ্বীপ, ভূমিরূপ, মহাসাগর, নদী, হ্রদ, জলবায়ু, মৃত্তিকা, উদ্ভিদ ও প্রাণী, সময়ানুক্রমিক ভূগোল, প্রত্নজীবাশ্মবিদ্যা, পানিবিদ্যা ইত্যাদি।
সহজভাবে প্রাকৃতিক ভূগোলের সাধারণ ক্ষেত্র বা পরিসর নিম্নোক্তভাবে বর্ণিত হতে পারে:
ভূমিরূপবিদ্যা- যা ভূত্বকের গঠন এবং ভূমিরূপ সম্পর্কে পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করে;
মৃত্তিকাবিদ্যা- যা মৃত্তিকা অধ্যয়নের সাথে সম্পৃক্ত;
জীবভূগোল- যা উদ্ভিদ ও প্রাণীর স্থানিক বিন্যাস ও সম্পর্ক নিয়ে অনুসন্ধান ও পর্যালোচনা করে;
পানিবিদ্যা- যা পানির সার্বিক রূপ সম্পর্কে অধ্যয়ন করে;
আবহাওয়াবিদ্যা- যা বায়ুমণ্ডলের স্বল্পকালীন অবস্থা সম্পর্কে অধ্যয়ন করে;

জলবায়ুবিদ্যা- যা জীবনের ওপর আবহাওয়ার প্রভাব এবং বায়ুমণ্ডলের দীর্ঘকালীন সঞ্চালন সম্পর্কে অধ্যয়ন করে।'
উপরিউক্ত বিষয়াবলি প্রাথমিকভাবে প্রাকৃতিক প্রপঞ্চসমূহ ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ বা অধ্যয়নের সাথে সংশ্লিষ্ট। তবে সুগভীরভাবে প্রাকৃতিক প্রপঞ্চ বিশ্লেষণ ও অনুধাবনের জন্য প্রাকৃতিক ভূগোল নিম্নোক্ত বিষয়াবলি হতে তথ্য আহরণ করে থাকে।
ভূতত্ত্ব- যা থেকে ভূপৃষ্ঠ ও এর অভ্যন্তরস্থ অবস্থা ও তাদের গতিশীলতা অধ্যয়ন করা হয়;
রাস্তুবিদ্যা- যেখানে প্রাণ এবং পরিবেশের পারস্পরিক সম্পর্ক পর্যালোচিত হয়;
সমুদ্রবিজ্ঞান- যেখানে সাগর মহাসাগরের অবস্থান ও জোয়ার-ভাটা, তলদেশের ভূপ্রকৃতি, পানিতে বিভিন্ন পদার্থের পরিমাণ ও সামুদ্রিক জীব সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
মানচিত্রাঙ্কনবিদ্যা- যেখানে মানচিত্রাঙ্কনের কৌশল বিশ্লেষিত হয় এবং ভৌগোলিক বিষয়াবলির স্থানিক মানচিত্র অত্যাবশ্যক।
জ্যোতির্বিদ্যা- যেখানে মহাকাশ ও মহাজাগতিক বস্তু সম্পর্কে পর্যালোচনা করা হয়।
প্রাকৃতিক ভূগোলের - তাপস কুমার মজুমদার স্যার এর লেখা বই
Read more