(Road Transport)
বাংলাদেশের মানুষের যাতায়াতের প্রধানতম অবলম্বন হচ্ছে সড়কপথ। স্বাধীনতা লাভের পূর্বে এদেশে সড়কপথের অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না। কিন্তু স্বাধীনতা লাভের পর থেকে বাংলাদেশ অনেক নতুন ও প্রশস্ত রাস্তা, ব্রীজ, কালভার্ট প্রভৃতি নির্মিত হওয়ার ফলে এবং রাস্তাঘাটে অনেক উন্নত মানের আরামদায়ক গাড়ি আসার ফলে মানুষ যেকোনো স্থানে যাতায়াতের জন্য সড়ক পথকে সর্বাগ্রে বেছে নিচ্ছে। বর্তমানে আমাদের দেশে রাজধানী ঢাকার সাথে সকল জেলা শহর তো বটেই এমনকি অধিকাংশ উপজেলা সদরও সরাসরি সড়কপথ দ্বারা সংযুক্ত। নিম্নে বাংলাদেশের কয়েকটি প্রধান সড়ক পথের বর্ণনা দেওয়া হলো-
ক. ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক: এই সড়কপথটি রাজধানী ঢাকাকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী ও দ্বিতীয় বৃহত্তম নগর চট্টগ্রামের সাথে সংযুক্ত করেছে। এটি দেশের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যস্ততম জনপথ। প্রায় ২৭৮ কি.মি দীর্ঘ এই সড়কপথটি ঢাকা হতে কুমিল্লা ও ফেনী জেলার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম পৌঁছেছে। চট্টগ্রাম হতে এই সড়কের একটি শাখা কক্সবাজার, বান্দরবান, এবং অন্য শাখাটি কাপ্তাই হয়ে রাঙ্গামাটি গিয়ে শেষ হয়েছে।
খ. ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক: রাজধানী ঢাকা থেকে এই সড়কপথটি মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট হয়ে ফরিদপুর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, যশোর জেলার উপর দিয়ে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম নগরী খুলনায় গিয়ে শেষ হয়েছে। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক পথটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৪৬ কি.মি। পথিমধ্যে এই মহাসড়কের একটি শাখা ঝিনাইদহ থেকে কুষ্টিয়ার দিকে এবং অন্য একটি শাখা যশোর থেকে সাতক্ষীরার দিকে গিয়েছে।
গ. ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক: দেশের নবীনতম এই মহাসড়কটি রাজধানী থেকে নরসিংদী, ভৈরব, আশুগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার মধ্য দিয়ে সিলেট গিয়ে শেষ হয়েছে। প্রায় ৩০০ কি.মি দীর্ঘ এই সড়কপথে ভৈরবে মেঘনা নদীর উপর একটি অত্যাধুনিক দৃষ্টিনন্দন সেতু আছে।
ঘ. ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক: বিভাগীয় শহর রাজশাহীর সাথে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগ স্থাপনকারী এই সড়ক পথের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০০ কি.মি.। রাজধানী ঢাকা থেকে নবীনগর, কালিয়াকৈর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও নাটোর জেলার মধ্য দিয়ে এই মহাসড়কটি রাজশাহী গিয়ে পৌছেছে। রাজশাহী থেকে একটি শাখা সড়ক চাঁপাইনবাবগঞ্জ গিয়েছে।
৫. ঢাকা-রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক: বাংলাদেশের এটি দীর্ঘতম মহাসড়ক। ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, রংপুর, সৈয়দপুর হয়ে দিনাজপুর পর্যন্ত বিস্তৃত এই মহাসড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০০ কি.মি.। বাংলাদেশের দীর্ঘতম সড়কসেতু "বঙ্গবন্ধু যমুনা বহুমুখী সেতু" এই মহাসড়কের টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জের মধ্যবর্তী যমুনা নদীর উপরে অবস্থিত। এই মহাসড়ক থেকে কয়েকটি শাখা সড়ক পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলা শহরে গিয়ে পৌছেছে।
চ. ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক: ঢাকা থেকে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ফেরিঘাট হয়ে ফরিদপুর ও শরীয়তপুর জেলার মধ্য দিয়ে বরিশাল পর্যন্ত দীর্ঘ এই মহাসড়ক দেশের অন্যতম আধুনিক সড়কপথ। এই সড়কপথে অবস্থিত 'মাওয়া' নামক স্থানে পদ্মা নদীর উপর বহুল আলোচিত ও প্রস্তাবিত পদ্মাসেতু বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে। এ সেতু চালু হলে বরিশালসহ দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর সাথে রাজধানী ঢাকার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা অধিক সহজ এবং দ্রুত হয়ে উঠবে।
ছ. ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক: দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই মহাসড়কটি ঢাকা থেকে উত্তরে টঙ্গী, জয়দেবপুর হয়ে ময়মনসিংহ পর্যন্ত গিয়েছে। প্রায় ১৯০ কি.মি. দীর্ঘ এই মহাসড়কের দুই পাশে অনেক কারখানা স্থাপিত হয়েছে। অত্যন্ত ব্যস্ত এই মহাসড়কের গুরুত্ব অনুধাবন করে এটিকে চার লেনে উন্নীত করা হয়েছে।

| মহাসড়ক | দৈর্ঘ্য (কি.মি.) |
| i. ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ii. ঢাকা থেকে রাজশাহী iii. ঢাকা থেকে খুলনা iv. ঢাকা থেকে রংপুর V. ঢাকা থেকে সিলেট |
পরিবহন ও যোগাযোগ-ড. হ জ ম হাসিবুশ শাহীদ-স্যারে লেখা বই
Read more